‘ওই ঘটনার পর সারারাত ঘুমতে পারিনি’ নিজের বাড়িতেই হেনস্থার শিকার করেছেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার!

বর্তমানে আরজিকর হাসপাতালের (R G Kar Hospital) নৃশংস ঘটনায় উত্তাল সারাবাংলা। প্রতিবাদের আঁচ ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে কলকাতা সহ বাংলার জেলায় জেলায়। পরিস্থিতি হয়ে উঠছে উত্তপ্ত। স্বাধীনতা দিবসের রাতে আরজিকর কান্ডের বিচার চেয়ে রাস্তায় নেমে পড়েছিলেন আপামর জনতা। প্রতিবাদে রাত দখল করেছেন বঙ্গনারী। নারীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং আরজিকরের ভয়ঙ্কর কান্ডের সুবিচার চেয়ে সুর তুলেছিলেন বাংলা সহ দেশ-বিদেশের সমগ্র মানবজাতি।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন নেট দুনিয়ার সদস্যরাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের মতামত শেয়ার করেছেন বাংলা সহ সারাদেশের ‘বুদ্ধিজীবিরা’। কলকাতার এই দুর্বিষহ ঘটনার প্রভাব পড়েছে সুদূর মুম্বাইতেও। বলিউড থেকে দক্ষিণী সেলিব্রেটি অর্থাৎ অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে পোস্ট করেছেন। সম্প্রতি আয়ুষ্মান খুরানা থেকে সোনাক্ষী সিনহা, দিশা পাটানী, সামান্থা, কিয়ারা আডভানি সহ অনেকই সোশ্যাল মিডিয়ায় আরজিকর হাসপাতালের কান্ডের সুবিচার চেয়েছেন।

তবে তারই মাঝে সামাজিক মাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে একটি ভিডিও। সেখানে ‘সদ্য বিবাহিতা’ টলি অভিনেত্রী সোহিনী সরকারকে নিজের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন সকলের সামনে। সম্প্রতি অভিনেত্রীর নিজ বাড়িতেই হেনস্থার হওয়ার ঘটনা তোলপাড় করে দিয়েছে সামাজিক মাধ্যমকে। মেয়েরা বিশ্বের কোন প্রান্তেই সুরক্ষিত নয়, এই ধারণাকেই যেন উস্কে দিয়েছে অভিনেত্রীর এই ভিডিও। কিন্তু কি ঘটেছিল অভিনেত্রীর সঙ্গে? কেনই বা এমন মন্তব্য করলেন অভিনেত্রী?

কী বলেছেন অভিনেত্রী সোহিনী সরকার?

অভিনেত্রী একটি সাক্ষাৎকারে নিজের মুখেই জানিয়েছেন তার পাশের বাড়িতে একজন তাঁর পাশের ফ্ল্যাটে এক ইলেকট্রিশিয়ান এসেছিল। তিনি ঝুঁকে দাঁড়িয়ে কিছু একটা বলছিলেন কিন্তু হঠাৎ কেউ একজন অনুভব করেন তাঁর পিছনে কেউ একজন চিমটি কেটে চলে গেছে। অভিনেত্রীর কথায়, “ভাবুন একবার, আমার বাড়িতে দাঁড়িয়ে এই ধরনের ঘটনা ঘটল আমার জীবনে! সেই ব্যক্তিকে ডেকে কষিয়ে চড় মারব, সেই অবকাশটা পর্যন্ত পাইনি। ঘটনার আকস্মিকতায় উবলব্ধি করতেই খানিকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। আর তত ক্ষণে সেই ব্যক্তি উধাও।”

আরও পড়ুন: স্বামীর চেয়ে সাত বছরের বয়সে বড়! শাশুড়ির বান্ধবী থেকে দাশগুপ্ত বাড়ির বৌমা!

এই ঘটনাটি আজও ভুলতে পারেননি সোহিনী। অভিনেত্রী বলেছেন, “স্বাভাবিকভাবেই ওই ঘটনার পর সারা রাত ঘুমোতে পারিনি।” সেই খারাপ অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে ফেলেছিলেন। বার বার মনে ঘৃণার উদ্রেগ হয়েছে। এই ঘটনাটি এতটাই ভয়ঙ্করভাবে প্রভাব ফেলেছে অভিনেত্রীর মনে। অভিনেত্রীর মতে, “এই ধরনের অভিযুক্তদের সমাজের যে কোনও স্তর থেকে বিতাড়িত করা উচিত।” যদিও প্রসঙ্গে অভিনেত্রী এও জানিয়েছেন এই প্রজন্ম সামাজিক মাধ্যমকে হাতিয়ার করে এই বিষয়ে মিটু আন্দোলন করতে পারছে অথবা নিজেদের বক্তব্য রাখতে পারছে সকলের কাছে। তবে কর্মক্ষেত্রে হোক কিংবা যে কোনও পরিসরে, এই সমস্যার সমাধান হোক দ্রুত, চাইছেন সোহিনী।

Back to top button