‘সোজাসাপ্টা কথা বলি বলেই আমি টার্গেট…’ ‘সম্মান জোটেনি, জুটেছে কেবল অপবাদ!’ ইন্ডাস্ট্রির নোংরা রাজনীতি নিয়ে মুখ খুললেন গায়িকা জোজো মুখার্জী!

৪৪ বছর পার করেও আজও তিনি একইরকম তেজোদীপ্ত। বাংলা সংগীত জগতের অন্যতম পাওয়ার-হাউজ গায়িকা জোজো মুখোপাধ্যায় সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে টলিউডের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি এবং বর্তমান প্রজন্মের পেশাদারিত্ব নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিনোদন জগতের অলিন্দে বিতর্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে। “ন্যায্য কথা বলি বলেই আমি খারাপ”। জোজোর এই কথাটি যেন প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, পর্দার পেছনের গ্ল্যামারাস জগতের গভীরে কোথাও একটা বড়সড় ফাটল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যখন অভিজ্ঞ শিল্পীরা প্রকাশ্যে তাঁদের অপ্রাপ্তি এবং ইন্ডাস্ট্রির ‘নোংরা রাজনীতি’ নিয়ে মুখ খোলেন, তখন সাধারণ মানুষের মনেও প্রশ্ন জাগে সত্যিই কি টলিউড এখন প্রতিভার চেয়ে তোষামোদকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে?

জোজোর এই বিস্ফোরণের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান সংস্কৃতি। তাঁর মতে, স্পষ্টভাবে কথা বলা বা সোজাসাপ্টা যুক্তি দেওয়াকে এখন ‘অসভ্যতা’ ব্যবহার হিসেবে তকমা দেওয়া হয়। তিনি আক্ষেপের সুরে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ ৪০ বছরের সংগীত জীবনে তিনি অনেককে ব্যক্তিগতভাবে এবং পেশাগতভাবে পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু বিনিময়ে যা পেয়েছেন তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। গায়িকার কথায়, যোগ্য সম্মান বা স্নেহ তো দূরস্ত, বরং তাঁর সেই স্পষ্টবাদিতাকেই তাঁর বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাঁর এই মন্তব্য কি সরাসরি ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান ‘পাওয়ার লবি’র দিকে আঙুল তুলছে? সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

বর্তমান প্রজন্মের ধৈর্য এবং রিলস কালচার নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন এই শিল্পী। জোজোর মতে, বর্তমান শ্রোতা এবং নতুন শিল্পীদের একাংশ এখন মাত্র ১৫ থেকে ৩০ সেকেন্ডের ‘রিলস’ ভিডিওর মোহে আচ্ছন্ন। পুরো গান শোনার বা গাওয়ার ধৈর্য মানুষ হারিয়ে ফেলছে। তিনি মনে করেন, এই সস্তার জনপ্রিয়তা বা শর্টকাট কখনোই দীর্ঘস্থায়ী সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে না। গায়িকার এই ‘রিলস-বিরোধী’ অবস্থান ইতিমধ্যেই তরুণ প্রজন্মের ইউটিউবার এবং প্রভাবশালীদের মধ্যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, জোজো আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরেই এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্য করছেন, যদিও তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা অন্য কথা বলে।

ইন্ডাস্ট্রির অস্থিরতা নিয়ে জোজোর মন্তব্যে আরও একটি বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অনেক নামী এবং পুরনো অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রাম বা অনুষ্ঠান এখন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই বক্তব্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গভীর প্রশ্ন টলিউডের সংগীত জগত কি এখন স্পন্সরশিপ বা নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীর হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে? বড় বড় অনুষ্ঠানের এই পতন কি আদতে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক অবনতিরই লক্ষণ? জোজো যেভাবে বর্তমান পরিকাঠামো নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তাতে ইন্ডাস্ট্রির বড় বড় প্রযোজক এবং আয়োজকদের মুখ পুড়বে বলেই ধারণা করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

আরও পড়ুনঃ ‘পাশের অভিনেত্রী যদি ভালো অভিনয় করে তাহলে…’ ‘আজকের তারকারা যোগ্য সম্মান দিতে জানেনা…’ নাম না করেই কাকে বিঁধলেন রত্না ঘোষাল?

সবশেষে জোজো প্রশ্ন তুলেছেন আজকের যুগের তথাকথিত সহজ সাফল্য নিয়ে। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে, এখনকার ছেলেমেয়েরা মনে করে গুগল করলেই সব জ্ঞান পাওয়া যায়, কিন্তু কঠোর পরিশ্রম এবং সাধনা ছাড়া শিল্পী হওয়া যায় না। তাঁর এই ‘ওল্ড স্কুল’ মানসিকতা বনাম আধুনিক যুগের দ্বন্দ্ব এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চার বিষয়। একদিকে যখন তিনি নিজের একাকীত্বের কথা এবং ইন্ডাস্ট্রিতে কোণঠাসা হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন, অন্যদিকে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি মাথা নত করবেন না। জোজোর এই বিস্ফোরক বয়ান কি তবে টলিউডের মিউজিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এক নতুন বিদ্রোহের সূচনা? উত্তর দেবে সময়।

Back to top button