তিমির-কুন্তল-পুলস্ত্য একজোট! গোরা ও দিতিকে তাড়াতে শয়তান তিমিরের কুৎসিত চক্রান্ত! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সাধুর নিষ্ঠুর অত্যাচারে গোরা যখন প্রায় দিশেহারা, ঠিক তখনই তার ভাই অচিন্ত্য অসীম সাহসের পরিচয় দিল। সে এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে, পরম পবিত্র ‘দারুব্রহ্ম’ কাঠটি দিয়ে সরাসরি সেই শয়তান তান্ত্রিকের ওপর জোরালো আঘাত করল। দারুব্রহ্মের ঐশ্বরিক শক্তির স্পর্শে শয়তানের কালো জাদু আর অহংকারের ভিত কেঁপে উঠল। অচিন্ত্য ওই পবিত্র কাঠ দিয়ে সাধুর ওপর একের পর এক আক্রমণ করতে লাগল। এই সুযোগে দিতিও আর পিছিয়ে থাকল না সে-ও এগিয়ে গিয়ে সাধুর বুকে সজোরে আঘাত করল। একের পর এক আঘাতে সাধু ব্যথায় ছটফট করতে করতে মাটিতে পড়ে গেল এবং একসময় অদৃশ্য হয়ে গেল। তবে যাওয়ার আগে সে হুমকি দিয়ে গেল যে, নিজের সর্বশক্তি নিয়ে সে আবারও ফিরে আসবে। এই ঘটনার পর রাতটুকুর জন্য দিতিরা সবাই মিলে ওই শ্মশানেই আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

পরদিন সকালে হঠাৎ করেই সেখানে এসে উপস্থিত হলেন গোরার দাদু আর বড় দাদা। দাদুকে দেখে দিতি ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। সব শুনে দাদু অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে জানালেন যে, সেই পুরনো শয়তান ‘তিমির’ তাহলে আবারও ফিরে এসেছে। দাদু মনে মনে বেশ ভয় পেয়ে গেলেন। তিনি সবাইকে জানালেন, কয়েক বছর আগে এই তিমির শয়তান কীভাবে গোস্বামী বাড়ির ক্ষতি করার চেষ্টা করেছিল। সে মহাপ্রভুর পরম পবিত্র সোনার পাদুকা চুরি করার এবং স্বয়ং মহাপ্রভুর জায়গা নেওয়ার অপচেষ্টা করেছিল। দাদুর মুখে এই ভয়ের কথা শুনে গোরা ও দিতি তাঁকে সান্ত্বনা দিল এবং ভরসা জুগিয়ে বলল যে, ভয়ের কোনো কারণ নেই। মহাপ্রভু নিজে তাঁদের সাথে আছেন এবং তিনিই তাঁদের সব বিপদ থেকে রক্ষা করবেন।

এরপর দিতি, গোরা এবং পরিবারের সকলে মিলে সেই পবিত্র দারুব্রহ্ম কাঠটিকে সসম্মানে গোস্বামী বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখানে কাঠটিকে আবার নতুন করে শুদ্ধ করে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। বাড়ি জুড়ে শুরু হয় নাম-সংকীর্তন। কিন্তু বিপত্তি ঘটল পুজোর ভোগ নিবেদন করার সময়ে। যখন দিতিকে ভোগ দেওয়ার কথা জানানো হলো, দিতি সাফ জানিয়ে দিল যে সে মহাপ্রভুকে ভোগ নিবেদন করবে না। আসলে দিতি মহাপ্রভুকে নিজের ভগবানের চেয়েও বেশি একজন পরম বন্ধু হিসেবে মানে। তার মনে বড় কষ্ট যে, মহাপ্রভু এত বড় বিপদের আভাস পেয়েও কেন তাঁদের আগে থেকে কোনো সংকেত দিলেন না? এই অভিমানেই দিতি মহাপ্রভুর ওপর রেগে ছিল। অগত্যা দিতিকে ছাড়াই বাড়ির বাকি সদস্যরা মিলে মহাপ্রভুকে ভোগ নিবেদন করলেন।

এদিকে অভিমানী দিতি যখন রাতে ঘুমাতে গেল, তখন মাঝরাতে এক অলৌকিক ঘটনা ঘটল। স্বয়ং মহাপ্রভু এসে দিতিকে দেখা দিলেন। তিনি দিতির সামনে এসে অত্যন্ত ব্যাকুলভাবে জানালেন যে তাঁর খুব খিদে পেয়েছে। তিনি দিতিকে প্রশ্ন করলেন, দিতি কি এখনো তাঁর ওপর রাগ করে মুখ ফিরিয়ে থাকবে? মহাপ্রভুর এই রূপ এবং তাঁর খিদের কথা শুনে দিতির মনের সমস্ত রাগ ও অভিমান গলে জল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। ভগবান এবং ভক্তের এই মধুর সম্পর্কের জল এখন কোন দিকে গড়ায়, সেটাই দেখার বিষয়।

আরও পড়ুনঃ মৃ’ত্যুর মুখোমুখি পারুল! শিরিনের বন্দুকেই কি শেষ হবে সব? নাকি জিতবে রায়ানের ভালোবাসা? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

অন্যপাশে, অশুভ শক্তি কিন্তু দমে যায়নি। শয়তান তিমির, কুন্তল এবং পুলস্ত্য—সবাই মিলে একজোট হয়ে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তারা গোরা এবং দিতিকে গোস্বামী বাড়ি থেকে চিরতরে বের করে দেওয়ার জন্য এক কুৎসিত প্ল্যান বা নীলনকশা তৈরি করতে থাকে। একদিকে শয়তানের দল তাদের সর্বশক্তি দিয়ে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে, আর অন্যদিকে রয়েছে মহাপ্রভুর ঐশ্বরিক আশীর্বাদ। শেষ পর্যন্ত শয়তানের জয় হবে, নাকি মহাপ্রভুর কৃপায় সমস্ত বাধা কেটে গিয়ে আবার সব কিছু ঠিকঠাক হয়ে যাবে, তা আগামী সময়ই বলে দেবে।

Back to top button