আবারও ফিরে এলো পুরোনো অশুভ শক্তি! মহাপ্রভুর ভরসায় বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে দিতি আর গোরা! সফল হবে তো তারা?

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, দুষ্টু ও শয়তান সাধু তার আসুরিক ক্ষমতার জোরে আগেই টের পেয়েছিল যে গোরা ও দিতি তাকে আটকাতে আসছে। তাই তারা যখন শ্মশানে পৌঁছাল, তখন সাধু নিজের মায়াবী শক্তিতে অদৃশ্য হয়ে রইল। তাকে কোথাও দেখতে না পেয়ে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে গোরা এক বুদ্ধি খাটাল। সে তার আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী মাটিতে মরা মানুষের মতো অভিনয় করে শুয়ে পড়ল। গোরার অনুমান একদম সত্যি হলো। সাধুর দুই চ্যালা তাকে আসল মৃতদেহ মনে করে তুলে নিয়ে সোজা তান্ত্রিকের সাধনার গণ্ডির ভেতর চলে গেল। চারদিকের ভয়ংকর তান্ত্রিক পরিবেশ আর মৃত্যুর হিমশীতল ছায়া মিলে পুরো শ্মশানে এক গায়ে কাঁটা দেওয়া পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো।

মরা সেজে অশুভ শক্তির সেই মরণফাঁদের ভেতর ঢুকে পড়ার পর গল্পের উত্তেজনা চরম সীমায় পৌঁছাল। বেঁচে থাকা সত্ত্বেও সেই শয়তান সাধুর সামনে চুপচাপ শুয়ে থাকা এবং তার একের পর এক নিষ্ঠুর তান্ত্রিক আঘাত সহ্য করা গোরার জন্য অত্যন্ত কঠিন ও ভয়ংকর ছিল। শুভশক্তির এই লড়াই যে কতটা যন্ত্রণাদায়ক, তা গোরার ভেতরের ছটফটানি দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল। ওদিকে গণ্ডির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অদ্বিতীয়া সব বুঝতে পারছিল, কিন্তু নিয়মের কারণে গণ্ডির ভেতর ঢুকতে পারছিল না। এই চরম বিপদের মুখে গোরা একা হাতে যেভাবে সাহসের সাথে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছিল তা ছিল প্রশংসনীয়। অন্যদিকে, প্রিয় মানুষের জন্য দিতির ভেতরের অসহায়তা ও তীব্র ভয় পরিবেশকে আরও ভারী করে তুলল।

গল্পের একদম শেষ মুহূর্তে ঘটনা এক নাটকীয় মোড় নিল। গোরা যখন সাধুর নিষ্ঠুর অত্যাচারে প্রায় দিশেহারা, ঠিক তখনই গোরার ভাই অচিন্ত্য অসীম সাহসের পরিচয় দিল। সে আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে, পরম পবিত্র ‘দারুব্রহ্ম’ কাঠটি দিয়ে সরাসরি ওই শয়তান তান্ত্রিকের ওপর জোরালো আঘাত করল। দারুব্রহ্মের ঐশ্বরিক শক্তির স্পর্শে শয়তানের কালো জাদু আর অহংকারের ভিত কেঁপে উঠল। এই আকস্মিক প্রতি-আঘাতের পর শ্মশানের সেই অশুভ পরিবেশ যেন আরও রহস্যময় ও বিপজ্জনক হয়ে উঠল।

অচিন্ত্য ওই পবিত্র কাঠ দিয়ে সাধুর ওপর একের পর এক আক্রমণ করতে লাগল। এই সুযোগে দিতিও আর পিছিয়ে থাকল না, সে-ও এগিয়ে গিয়ে সাধুর বুকের ওপর সজোরে আঘাত করল। একের পর এক আঘাতে সাধু ব্যথায় ছটফট করতে করতে মাটিতে পড়ে গেল এবং একসময় অদৃশ্য হয়ে গেল। তবে যাওয়ার আগে সে হুমকি দিয়ে গেল যে, নিজের সর্বশক্তি নিয়ে সে আবারও ফিরে আসবে। এই ঘটনার পর রাতটুকুর জন্য দিতিরা সবাই মিলে ওই শ্মশানেই আশ্রয় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল।

আরও পড়ুনঃ পরিবারই এখন পারুলের ঢাল! শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াল পারুল! এবার পাশে স্বয়ং বসু পরিবার!

পরদিন হঠাৎ করেই সেখানে এসে উপস্থিত হলেন গোরার দাদু আর বড় দাদা। দাদুকে দেখে দিতি ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনা খুলে বলল। সব শুনে দাদু চিন্তিত হয়ে জানালেন যে, সেই পুরনো শয়তান ‘তিমির’ তাহলে আবারও ফিরে এসেছে। দাদু মনে মনে বেশ ভয় পেয়ে গেলেন। কিন্তু গোরা ও দিতি দাদুকে সান্ত্বনা দিল এবং ভরসা জুগিয়ে বলল যে, ভয়ের কোনো কারণ নেই মহাপ্রভু নিজে তাদের সাথে আছেন এবং তিনিই তাদের সব বিপদ থেকে রক্ষা করবেন।

Back to top button