গোরাদের বাড়িতে ভ্যালেন্টাইন্স ডে! নিজের ইচ্ছের কথা জানাতে গিয়ে নতুন বিপদ ডেকে আনলো দিতি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

তারে ধরি ধরি মনে করি ধারাবাহিকে (Tare Dhori Dhori Mone Kori) কুন্তলীনি যখন হিংসার বশে ঘরে বিষধর গোখরো সাপ ছেড়ে দেয়, তখন সে ভাবেনি এর ফল উল্টো হবে। মেঝেতে ঘুমানো দিতিকে কামড়াতে গিয়ে সাপটি ঘরে ঢোকা গোরার পায়ে কামড় দেয়। চোখের পলকে গোরার শরীরে বিষ ছড়িয়ে পড়ে এবং তার অবস্থা খুব খারাপ হয়ে যায়। মাঝরাতে এই বিপদ দেখে বাড়ির সবাই দিশেহারা হয়ে পড়ে। এর আগে রূপের সাথে ঠিক এমন ঘটনাই ঘটেছিল, তাই সবাই খুব ভয় পেয়ে যায় যে গোরাকেও হয়তো আর বাঁচানো যাবে না।
গোরার জীবন বাঁচাতে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া দরকার ছিল। পাড়ার লোকেদের খবর দিলে জানানো হয় যে গাড়ি আসতে ২০ মিনিট সময় লাগবে। কিন্তু গোরার যে অবস্থা, তাতে এক মিনিটও অপেক্ষা করার উপায় নেই। ঠিক তখনই দিতি সবাইকে অবাক করে দিয়ে বলে যে, সে নিজেই গাড়ি চালিয়ে গোরাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবে। বাড়ির সবাই জানত গোরা ছাড়া আর কেউ গাড়ি চালাতে পারে না, তাই দিতির এই কথা শুনে সবাই চমকে যায়। কিন্তু সময়ের অভাবে কেউ আর কিছু না বলে হাসপাতালের দিকে রওনা দেয়।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় গোরার অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। দিতি তার প্রিয় মানুষের এই অবস্থা দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে। এমন সময় সেখানে হঠাৎ সেই তিন সাধু পুরুষ দেখা দেন। তাঁরা দিতিকে বলেন, এর আগে যেভাবে মহাপ্রভুর আশীর্বাদে গোরার প্রাণ বেঁচেছিল, এবারও যেন সে মন থেকে তাঁকে ডাকে। সাধুদের কথা শুনে দিতি দেরি না করে বাড়িতে মহাপ্রভুর মন্দিরে ছুটে যায় এবং প্রাণভরে প্রার্থনা শুরু করে।
মন্দিরে প্রার্থনা করার সময় এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে। দিতি দেখে তার সাথে সাথে রূপও মহাপ্রভুর আরতি করছে। দিতি তাকে ‘অদ্বিতীয়া’ মনে করে বারবার ডাকতে থাকে, সে বুঝতে পারে না ওটা তার মনের ভুল ছিল। তবে দিতির প্রার্থনায় কাজ হয়। অলৌকিকভাবে গোরা হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ওঠে। দিতি দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে গোরাকে সব কথা জানায়। গোরা বুঝতে পারে যে মহাপ্রভুর কৃপাতেই সে যমের মুখ থেকে ফিরে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ বেকায়দায় পড়ল রায়ান! বাসর রাতের আসরে নাচ-গানের মাঝেই কি ফাঁ’স হবে রায়ানের গোপন প্রেমিকার নাম? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার সময় দিতি কীভাবে গাড়ি চালাল তা নিয়ে যেন কেউ প্রশ্ন না তুলতে পারে, সেজন্য গোরা বুদ্ধি করে আগে থেকেই রূপের নামে একটা ড্রাইভিং লাইসেন্স বানিয়ে রেখেছিল। বাড়ি ফেরার পর দিতি জানায় যে সে সবাইকে নিয়ে ভালোবাসা দিবস বা ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে’ পালন করবে। গোরার মা প্রথমে খুব রেগে যান কারণ তাঁদের বাড়িতে এমন উৎসব কখনও হয়নি। কিন্তু দিতি সবাইকে বুঝিয়ে বলে যে, মহাপ্রভু নিজে জগতকে ভালোবাসার শিক্ষা দিয়েছেন, তাই এই উৎসব পালন করলে তিনি রাগ করবেন না। এবারে দেখার অপেক্ষা কি হয়।

