রক্তিমের ষড়যন্ত্র চুরমার! শয়তানকে শাস্তি দিতে এবারে চরম সিদ্ধান্ত নিল দিতি! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) তারে ধরি ধরি মনে করি (Tare Dhori Dhori Mone Kori) ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, গোস্বামী বাড়িতে মহাপ্রভুর এক বিরাট উৎসবের আয়োজন ঘিরে যখন চারদিকে আনন্দের সাজ সাজ রব, ঠিক তখনই আড়ালে ঘনিয়ে আসছিল এক চরম বিপদের ছায়া। দিতি স্থির করেছিল এই পবিত্র দিনে সে কীর্তন পরিবেশন করবে। কিন্তু রক্তিম ও তার সহযোগীরা এই দিনটিকে বেছে নেয় তাদের নৃশংস পাপ কাজ হাসিল করার জন্য। তারা জানত, গোরা পাশে থাকলে দিতির কোনো ক্ষতি করা অসম্ভব। তাই তারা পরিকল্পনা করে যে, উৎসবের দিন কোনো অছিলায় গোরাকে বাড়ি থেকে দূরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে এবং কীর্তন চলাকালীন একটি উন্মত্ত হাতির সাহায্যে দিতিকে চিরতরে শেষ করে দেওয়া হবে।
পরের দিন যথাসময়ে গোস্বামী বাড়িতে উৎসব শুরু হয়। ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা মাফিক গোরা বিশেষ প্রয়োজনে বাড়ির বাইরে নিজের গন্তব্যে বেরিয়ে যায়। এদিকে রক্তিম টাকার প্রলোভন দেখিয়ে হাতির মাহুতকে হাত করে নেয় এবং একটি ফলের মধ্যে নেশাদ্রব্য মিশিয়ে হাতিটিকে খাইয়ে দেওয়া হয়। নেশার ঘোরে হাতিটি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে চরম হিংস্র হয়ে ওঠে। উৎসবের আনন্দ আর কীর্তনের সুরের মাঝে কেউ ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি যে, এক ভয়ংকর মৃত্যু খুব কাছেই ওত পেতে আছে।
রাস্তায় যেতে যেতে গোরার সাথে পুনরায় সেই তিন রহস্যময় সাধুর দেখা হয়। তাঁরা গোরাকে সতর্ক করে জানান যে, দিতি এক ভয়াবহ বিপদের সম্মুখীন। সাধুদের কথা শুনে গোরার মনে আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হয় এবং সে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে তড়িঘড়ি বাড়ির দিকে ফিরে আসে। ওদিকে উন্মাদ হাতিটি উৎসব প্রাঙ্গণে ঢুকে পড়ে তান্ডব শুরু করে। সাধারণ মানুষ ভয়ে যে যার মতো নিরাপদ আশ্রয়ে সরে গেলেও দিতি অসহায়ভাবে হাতিটির সামনে পড়ে যায় এবং নিশ্চিত মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকে।
ঠিক সেই মুহূর্তে গোরা দেবদূতের মতো সেখানে উপস্থিত হয়। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে সে সেই বিশাল দেহের দামাল হাতিটিকে নিজের অসীম ক্ষমতায় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে এবং দিতিকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে। গোরার এই অলৌকিক বীরত্ব দেখে উপস্থিত সকলে স্তম্ভিত হয়ে যায়। নিজের পরাজয় নিশ্চিত দেখে এবং অনুশোচনায় দগ্ধ হয়ে হাতির মালিক গোরার পা জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চায়। সে সবার সামনে স্বীকার করে যে, রক্তিমের দেওয়া টাকার লোভে এবং প্ররোচনায় সে এই জঘন্য কাজ করতে বাধ্য হয়েছিল।
আরও পড়ুনঃ রুক্মিণীর সন্ধানে পারুলের দুর্ধর্ষ লড়াই! ঋত্বিক-রুকুর উদ্ধারের শেষ আশার আলো পারুলের মা!
ষড়যন্ত্রের সবটুকু জানতে পেরে গোরা ও দিতি অগ্নিশর্মা হয়ে তৎক্ষণাৎ রক্তিমের বাড়িতে হানা দেয়। সেখানে পৌঁছে দিতি রক্তিমকে সপাটে চড় মেরে তার সব দম্ভ চুরমার করে দেয়। দিতি দৃপ্ত কণ্ঠে ঘোষণা করে যে, তার রক্ষাকর্তা স্বয়ং গোরাচাঁদ গোস্বামী, যার আশীর্বাদ মাথার ওপর থাকলে কোনো অশুভ শক্তিই তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

