রুক্মিণীর সন্ধানে পারুলের দুর্ধর্ষ লড়াই! ঋত্বিক-রুকুর উদ্ধারের শেষ আশার আলো পারুলের মা!

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, চন্দ্রাবতী সান্যাল এবং ঋত্বিকের বাবা অত্যন্ত ধূর্ত ও দূরদর্শী হওয়ার কারণে আগেভাগেই থানায় রুক্মিণী ও ঋত্বিকের ছবি পাঠিয়ে রেখেছিলেন। তাঁরা পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলেন যে, এই দুজন সাহায্য চাইতে এলেই যেন সবার আগে তাঁদের খবর দেওয়া হয়। ভাগ্যের পরিহাসে, প্রশাসন যেখানে সাধারণের রক্ষক হওয়ার কথা, সেখানে তারা শত্রুপক্ষের সাথে হাত মিলিয়ে এক ভয়ঙ্কর ফাঁদ পেতে বসে ছিল।
রুক্মিণী ও ঋত্বিককে উদ্ধার করতে পারুল রাও কেরালা পৌঁছানো মাত্রই স্থানীয় থানায় সাহায্যের জন্য আবেদন জানায়। কিন্তু সে ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেনি যে পুলিশ আসলে চন্দ্রাবতী সান্যালের হাতের পুতুল। পারুলদের আগমনের সংবাদ পাওয়ামাত্রই চন্দ্রাবতী নিষ্ঠুর প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে ওঠেন। তাঁর নির্দেশে পারুলরা রাতে যেখানে আশ্রয় নিয়েছিল, সেখানে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়, যাতে তাদের চিরতরে শেষ করে দেওয়া যায়।

পরিবারের এই চরম সংকটময় মুহূর্তে পারুল নিজেকে স্থির রাখতে পারে না। তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস যে রুক্মিণীরা কেরালাতেই কোথাও বিপদে পড়ে আছে, আর তাই সে ঋত্বিকের বাবার সাহায্য নিয়েই সেখানে যাওয়ার সব প্রস্তুতি শুরু করে। অন্যদিকে, প্রিয় দিদির নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে রায়ান মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে পারুলের ওপর ক্ষোভ উগরে দেয়। যেহেতু এই বিয়ের নেপথ্যে পারুলের বড় ভূমিকা ছিল, তাই রাগের মাথায় সে পারুলকে দায়ী করলেও পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত মনে ক্ষমা চেয়ে নেয়।
শত্রুপক্ষকে ধোঁকা দিতে এবং বিপদের হাত থেকে বাঁচতে পারুলরা শেষ পর্যন্ত ছদ্মবেশ ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে তারা অরণ্য সংকুল এলাকায় রুক্মিণী ও ঋত্বিকের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে। প্রতিটি পদক্ষেপে ছিল প্রাণের ঝুঁকি, তবুও ভালোবাসার মানুষকে ফিরিয়ে আনার তাগিদে তারা অদম্য সাহসের সাথে এগিয়ে যেতে থাকে।
আরও পড়ুনঃ নির্বাচনে হার! রাজনীতি থেকে পদত্যাগ! এসবের মাঝেই এবার স্ত্রীকে নিয়ে দেশ ছাড়লেন পরিচালক রাজ? শুভশ্রীকে সঙ্গে নিয়ে কোথায় গেলেন অভিনেতা?
এই দুর্গম জঙ্গল যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য গোলকধাঁধার মতো, সেখানে পারুল এক নতুন আশার আলো খুঁজে পায়। সে উপলব্ধি করে যে এই রহস্যময় জঙ্গলকে হাতের তালুর মতো যদি কেউ চিনে থাকেন, তবে তিনি হলেন পারুলের মা। মায়ের অরণ্য-জ্ঞানকে পাথেয় করেই তারা রুক্মিণীদের খুঁজে বের করার চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামে, যা এই রহস্যময় যাত্রায় এক নতুন মোড় নিয়ে আসে।

