অসাধ্য সাধন! মাথায় আঘাত নিয়েও খালি হাতে গাড়ি থামাল গোরা, ওদিকে দিতির চণ্ডী রূপ!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় প্রতি বছরই নিত্যনতুন গল্পের আনাগোনা থাকে, তবে সব ধারাবাহিক প্রথম থেকেই দর্শকদের মনে দাগ কাটতে পারে না। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ব্যতিক্রমী হয়ে উঠেছে ‘তারে ধরি মনে করি’ (Tare Dhori Dhori Mone kori)। মাত্র কয়েক সপ্তাহ হলো এই পথচলা শুরু হয়েছে, কিন্তু এর মধ্যেই ধারাবাহিকটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। টিআরপি বা দর্শকপ্রিয়তার মাপকাঠিতে কোনো নতুন ধারাবাহিকের জায়গা করে নেওয়া বেশ কঠিন কাজ। তবে ‘তারে ধরি মনে করি’ সেই কঠিন কাজটাই অনায়াসে করে দেখাচ্ছে। প্রতি সপ্তাহেই এর রেটিং গ্রাফ একটু একটু করে উপরের দিকে উঠছে। জি বাংলার অন্যান্য জনপ্রিয় ধারাবাহিকের পাশাপাশি এটিও এখন টপার হওয়ার দৌড়ে সামিল।
গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পুলস্ত্যর লোকজন ভয় দেখিয়ে গোরার ডাক্তার বন্ধুকে দিয়ে মিথ্যে কথা বলায়। কোন হাসপাতালে কোন বেডে তাকে ভর্তি করতে হবে। আর কুন্তলা মনে মনে ভাবতে থাকে আর ফিরবে না দিতি। বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে গোরা ভগবানকে বারবার ডাকতে থাকে। দিতির যেন কোনো বিপদ না হয় তারজন্য প্রার্থনা করতে থাকে। গল্পের মোড় আজ এক নাটকীয় মোড় নিয়েছে। দিতির শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি করে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই কঠিন সময়ে গোরার পাশে দাঁড়িয়েছে তার দুই ভাই এবং দাদা।
দিতিকে যে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, সেখানে আগে থেকেই পুলস্ত্য একটি সূক্ষ্ম জাল বিছানো ছিল। পুলস্ত্যর পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট ঘরে এবং নির্দিষ্ট বেডে দিতিকে ভর্তি করানো হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ার আড়ালে কী রহস্য লুকিয়ে আছে, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘক্ষণ হাসপাতালে থাকার পর একটু স্বস্তির খোঁজে গোরা যখন কেবিন থেকে বেরিয়ে বাইরে চা-বিস্কুট খেতে যায়, ঠিক তখনই পুলস্ত্য এটাকে সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগায়। গোরার অনুপস্থিতিতে সে তার সাঙ্গোপাঙ্গদের খবর দেয়। তার আসল লক্ষ্য ছিল পেছনের দরজা দিয়ে চুপিচুপি দিতিকে হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া।
পুলস্ত্য যখন প্রায় সফল হওয়ার পথে, তখনই পাশা উল্টে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে গোরার ভাই পকেট থেকে একটি ঠাকুরের ফুল বের করে। সে জানায় যে, মা দিতির আরোগ্যের কামনায় এই ফুলটি পাঠিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন দিতির মাথায় ছুঁইয়ে দিতে। চা খাওয়া ফেলে রেখে সে পুনরায় দিতির কেবিনের দিকে ছুটতে থাকে।
ইতোমধ্যেই পুলস্ত্য নিজের কাজ শুরু করে দিয়েছিল। দিতিকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি প্রায় শেষ, ঠিক তখনই গোরার পায়ের শব্দ তাকে সতর্ক করে দেয়। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে পুলস্ত্য তড়িঘড়ি করে পরিকল্পনা থামিয়ে দিয়ে আবারো নিজের আস্তানায় অর্থাৎ পাশের বেডে গা ঢাকা দেয়। গোরার ভাই ঠাকুরের ফুল দিতির মাথায় ছুঁইয়ে দিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া মাত্রই পুলস্ত্য ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। সে বিন্দুমাত্র সময় নষ্ট না করে সুযোগ বুঝে দিতিকে হাসপাতাল থেকে বের করে নিয়ে যায়। ভাগ্যের পরিহাস এমনই যে, যখন তারা দিতিকে গাড়িতে তুলছে, তখনই গোরা তাদের পাশ দিয়ে হাসপাতালে ঢোকে। কিন্তু চরম দুশ্চিন্তার কারণে সে একবারের জন্যও পাশে রাখা গাড়িটির দিকে নজর দেয়নি।
আরও পড়ুনঃ প’রকীয়া থেকে প্র’তারণা সবই আছে লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের গল্পে! কোথায় হারিয়ে গেছে নির্মাতাদের মানবিক বোধ?
গোরা বারবার তার ডাক্তার বন্ধুকে ফোন করছিল সাহায্যের জন্য, কিন্তু কোনো উত্তর মিলছিল না। কারণ ডাক্তার তখন পুলস্ত্যের লোকজনের হাতে বন্দি ছিল। অপহরণ সফল হওয়ার পর অপহরণকারীরা ডাক্তারকে ছেড়ে দিলে, সে তৎক্ষণাৎ গোরাকে ফোন করে সবটা জানিয়ে দেয়। গোরা তড়িঘড়ি করে কেবিনে ফিরে যা দেখে, তাতে তার পায়ের তলার মাটি সরে যায়। সে দেখে, দিতির বদলে বেডে শুয়ে আছে একটি নকল পুতুল। বিপদের গুরুত্ব বুঝতে গোরার এক মুহূর্তও দেরি হয়নি। হাসপাতালের বাইরে রাখা একটি বাইক নিয়ে অপহরণকারীদের গাড়ির পিছু ধাওয়া করে। দীর্ঘ পথ এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলার পর, অবশেষে গোরা গাড়িটিকে রাস্তার মাঝখানে আটকে দেয়। গাড়ি থামিয়েই গোরা গুন্ডাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। দিতিকে উদ্ধারের নেশায় সে তখন মরণপণ লড়ছে। একাই কয়েকজনকে কুপোকাত করে দিতির কাছাকাছি যখন সে প্রায় পৌঁছে গেছে, ঠিক তখনই ঘটে সেই অঘটন। গোরার নজর যখন সামনে, তখন পেছন থেকে কেউ একজন তার মাথায় ভারী কিছু দিয়ে সজোরে আঘাত করে। সবাই ভাবে গোরা অজ্ঞান হয়ে গেছে কিন্তু তারা যখনই পালাতে যাবে ঠিক সেই মুহূর্তেই গাড়ি এগোয় না। গোরা নিজের সর্বশক্তি দিয়ে গাড়ি আটকে রাখে। ওদিকে সেই একই সময়ে দিতির জ্ঞান ফিরে আসে। দিতিও গুন্ডাদের মেরে কুপোকাত করে দেয়। এবারে দেখার অপেক্ষা কি হয় আগামী পর্বে।

