আবারও নাটক করে বসু বাড়িতে প্রবেশ করলো টগর! পারুলের ওপর পড়লো শকুনের নজর! শিরিনের নতুন ঘুঁটি হয়ে কি চাল চালল টগর?

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুল ও রায়ানের জীবনে এক নতুন খুশির হাওয়া বয়ে এনেছে তাদের অনাগত সন্তান। বাবা-মা হতে চলার এই খবরে স্বাভাবিকভাবেই বাড়ির সবাই ভীষণ আনন্দিত। চারিদিকে যেন উৎসবের আমেজ। কিন্তু এই খুশির মাঝেই লুকিয়ে আছে এক বিশাল ঝড়। বাচ্চার দায়িত্ব কে নেবে, তা নিয়ে দুজনের মধ্যে চলছে আইনি লড়াই। রায়ানের করা মামলার জেরে তাদের মধ্যে নতুন করে ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব তৈরি হয়েছে। অথচ এই উৎসবের আবহে আবার তারা দুজন দুজনের কাছাকাছি চলে আসছে, যা এক অদ্ভুত টানাপোড়েনের সৃষ্টি করেছে।
রায়ানের এই বদলে যাওয়া আচরণ পারুলের মনে নতুন করে এক সুখের স্বপ্ন বুনে দিচ্ছে। কিন্তু এই স্বপ্ন যদি আবার ভেঙে যায়, তবে পারুল কতটা আঘাত পাবে, রায়ান কি সেটা একবারও ভাবল না? আগের রায়ান অন্তত পরিষ্কার বলে দিত যে তার থেকে যেন কোনো প্রত্যাশা না রাখা হয়, যাতে পারুল পরে কষ্ট না পায়। কিন্তু এখন রায়ান নিজেই এমনভাবে মিশছে, যা পারুলের মনে মিথ্যে আশার আলো জাগাচ্ছে। রাগ বা অভিমান থাকতেই পারে, কিন্তু ভালোবাসার মানুষের কষ্টের কথা অবচেতন মনেও কি রায়ানের একবার ভাবা উচিত ছিল না?
এরই মধ্যে গল্পের আগামী পর্বে এক নতুন মোড় আসতে চলেছে। হঠাৎ করেই টগর এসে পারুল ও দাদুর কাছে হাতজোড় করে এই বাড়িতে থাকার অনুমতি চাইবে। নিজের অসহায় অবস্থার কথা বলে সে আশ্রয়ের অনুরোধ জানাবে। বাড়ির সবাই হয়তো টগরের এই রূপ দেখে কিছুটা নরম হতে পারে, কিন্তু পারুলের মন থেকে সন্দেহ দূর হয় না। সে টগরের এই হঠাৎ বদলে যাওয়া এবং বাড়িতে থাকার আকুতিকে সহজে মেনে নিতে পারছে না।
পারুল টগরের মুখের ওপর স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, তাকে নিশ্চয়ই শিরিন কোনো মতলব নিয়ে এই বাড়িতে পাঠিয়েছে। টগর অবশ্য হাতজোড় করে পারুলের এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করে। তবে পরিস্থিতি এত সহজে স্বাভাবিক হওয়ার নয়। অন্যদিকে রায়ানও টগরকে ডেকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেয়। সে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, পারুলের যদি কোনো ক্ষতি হয় বা তার কোনো অসুবিধা হয়, তবে রায়ান কিন্তু বিষয়টি মোটেও হালকাভাবে নেবে না।
আরও পড়ুনঃ বহুদিন পর নতুন চরিত্রে ফিরছে অর্পণ ঘোষাল ওরফে “ডোডো”! কোথায় দেখা যাবে অভিনেতাকে? দর্শকদের জন্য নতুন চমক!
কিন্তু গল্পের আসল চমক লুকিয়ে আছে একদম শেষে। আড়ালে গিয়ে দেখা যায়, পারুলের সন্দেহই সত্যি! গোপনে শিরিনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে টগর। ফোনে শিরিন তাকে নির্দেশ দেয়, পারুল কখন কোথায় যাচ্ছে, কী করছে আর কার সাথে দেখা করছে সব খবর যেন অক্ষরে অক্ষরে শিরিনকে জানানো হয়। অর্থাৎ, পারুল ও রায়ানের জীবনে নতুন ঝড় তুলতে টগরকে ঘুঁটি হিসেবে পাঠিয়েছে শিরিন। এখন দেখার, পারুল কি পারবে শিরিনের এই নতুন চালের মুখোমুখি হতে?

