নদীর ধারে র’ক্তাক্ত অবস্থায় কেয়ারটেকার! মৃ’ত্যুর মুখ থেকে তাকে উদ্ধার করল পারুল-মল্লার! শিরিনের ষড়যন্ত্র থেকে কি মুক্তি পাবে রায়ান?

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, আদালতে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর বিচারক পুলিশকে তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য মাত্র তিন দিনের সময় সীমা বেঁধে দেন। অর্থাৎ, স্বামীর ওপর ওঠা মিথ্যা কলঙ্ক মুছে রায়ানের নির্দোষিতা প্রমাণ করতে পারুলের হাতে সময় অবশিষ্ট মাত্র ৭২ ঘণ্টা। এই চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে পারুল পিছু না হটে আদালতে সবার সামনে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয় যে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সে রায়ানকে নির্দোষ প্রমাণ করবে। এমনকি অতীতে সংযুক্তা ও তুর্যের মতো অপরাধীদের শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সে অদ্রিজাকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দেয়।

ঘটনার আসল সত্য লুকিয়ে আছে অডিটোরিয়ামের কেয়ারটেকার সুবলের লুকানো ক্যামেরায় রেকর্ড করা একটি বেআইনি ফুটেজে, যেখানে স্পষ্ট দেখা গেছে যে অদ্রিজাই চক্রান্ত করে রায়ানকে ফাঁসিয়েছে। কিন্তু পারুল এখনও জানে না যে এই পুরো নাটকের আসল মাস্টারমাইন্ড তার নিজের বোন শিরিন। পারুলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করার পরও অদ্রিজার মুখে কোনো ভীতি না দেখে পারুলের মনে সন্দেহ জাগে যে এই খেলায় অদ্রিজা একা নেই। মূল অপরাধী ও চক্রান্তের সূত্র খুঁজে বের করতে পারুল তাই ভিখারি বুড়ির ছদ্মবেশে অদ্রিজার বাড়ির আশেপাশে নজরদারি শুরু করে।

এদিকে কেয়ারটেকার সুবল অদ্রিজাকে ফোন করে গোপন ভিডিওটির বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে, অন্যথায় সব সত্যি ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেয়। হঠাৎ এই ব্ল্যাকমেইলের খবরে অদ্রিজা দিশেহারা হয়ে পড়লে সেখানে হাজির হয় শিরিন এবং দু’জনে মিলে কেয়ারটেকারের সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে, পারুল লকআপে গিয়ে রায়ানকে এই সব আপডেট জানায়। পারুলের মুখে কেয়ারটেকার ও গোপন ভিডিওর কথা শুনে রায়ানও অনুধাবন করতে পারে যে অবশেষে তার ওপর লাগা মিথ্যা অপবাদ ঘুচিয়ে সত্যিটা সামনে আসার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে।

পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, কেয়ারটেকার অদ্রিজার কাছে টাকার বিনিময়ে ভিডিও দেখানোর শর্ত রাখে। কিন্তু পরিস্থিতি সেখানে শান্ত থাকে না শিরিন মারাত্মক রেগে গিয়ে কেয়ারটেকারকে হুমকি দেয় এবং নিজের গুন্ডাবাহিনী দিয়ে তাকে অমানুষিক মারধর করায়। কেয়ারটেকার এমন কিছু গোপন তথ্য জানেন যা প্রকাশ পেলে শিরিনের বড় বিপদ হতে পারে তাই নিজেদের বাঁচাতে রক্তাক্ত কেয়ারটেকারকে তারা নদীর ধারে ফেলে রেখে চম্পট দেয়।

আরও পড়ুনঃ ভুল বোঝাবুঝি নাকি নতুন ঝড়? ঝিনুকের ক্লাসে গিয়ে রাগে জ্ব’লে উঠল সম্রাটের! চরম রাগে কী সিদ্ধান্ত নিল সে?

কাকতালীয়ভাবে সেই পথ দিয়েই যাওয়ার সময় মল্লারের নজর পড়ে নদীর ধারে পড়ে থাকা কেয়ারটেকারের ওপর। পারুল বিন্দুমাত্র দেরি না করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, কারণ তার অন্তরাত্মা বলছিল—এই লোকটির কাছেই লুকিয়ে আছে রায়ানকে নির্দোষ প্রমাণ করার আসল চাবিকাঠি। এখন বড় প্রশ্ন হলো, কেয়ারটেকার হাসপাতালে সুস্থ হয়ে উঠে কি সব সত্যি পারুলের সামনে উঘাটিত করতে পারবেন, নাকি সত্য প্রকাশের আগেই শিরিন-অদ্রিজা নতুন কোনো বিপদের ছক কষবে?

Back to top button