হাতছানি দিচ্ছে পারুলের জীবনের ধ্রুব সত্যি! রহস্য উদঘাটনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালো শিরিন! ম’রণ ফাঁদে পা দিলো পারুল!

রাত আটটা বাজলেই দর্শকেরা টিভির সামনে বসে পড়েন তাদের অন্যতম পছন্দের ধারাবাহিক পরিণীতা (Parineeta) দেখার জন্য। জি বাংলায় (Zee Bangla) সম্প্রচারিত হওয়া এই ধারাবাহিক প্রথম দিন থেকে দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে। প্রোমো ভিডিও দেখে ধারাবাহিকটিকে নিয়ে দর্শকের মনে সন্দেহ তৈরি হলেও ধারাবাহিকের পর্বগুলি যত সামনের দিকে এগিয়েছে তত দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছে পরিণীতা। টিআরপি তালিকাতে (TRP List) প্রতি সপ্তাহেই দুর্দান্ত ফলাফল করে বিপরীত পক্ষের প্রতিযোগিকে একেবারে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেয় না।
ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সবাই তো পারুলকে নিয়ে সেলিব্রেশনে মেতে ওঠে। হই হুল্লোড় করতে থাকে। রায়ান দূরে দাঁড়িয়ে শুধু দেখতে থাকে আর নিজের কথা মনে করতে থাকে। বাড়িতেও সবাই পারুলকে নিয়ে মেতে ওঠে। কিন্তু পারুলের মন মেজাজ কিছুই ভালো নেই। কারণ রায়ান আবার তাকে ভুল বুঝছে, ইউনিভার্সিটিতে সবকিছুতে এগিয়ে থাকে রায়ান কিন্তু পারুল এই পুরস্কারটা ডিজার্ভ করে তাই তাকে দেওয়া হয়েছে।

পারুলের মনের কথা বুঝতে পেরে পিসিমণি তার কাছে জানতে চায় সবটা। পারুল সবটা পিসিমণির সাথে ভাগ করে নেয়। পিসিমণি জানায় রায়ানের ইগোতে লেগেছে, তাই রায়ান এবারে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে আঁচড়ে পড়বে পারুলের উপরে। পারুল যেন সেই ঝড় সামলানোর জন্য তৈরি থাকে। তবে এটা একদিক থেকে রায়ানের জন্য ভালো হবে, কারণ এতদিন পর্যন্ত রায়ান ইউনিভার্সিটিতে সবকিছু হালকাভাবে নিয়েছে। তাই তার জীবন এলোমেলো হয়ে গেছে। এখন পারুল এসেছে যার প্রতিযোগী হয়ে তাই পারুলকে প্রতিযোগিতায় হারানোর জন্য রায়ান নিজেকে গড়ে তুলবে সবদিক থেকে সেরা হওয়ার চেষ্টা করবে। এতে করে রায়ানের জীবনটাও শুধরে যাবে। তাই একদিক থেকে এটা ভালোই হয়েছে। কিন্তু পারুল যেন রায়ানকে জেতানোর জন্য নিজে পিছিয়ে না পড়ে। পারুল সমান সমান প্রতিযোগিতা করলে রায়ান ভালো পথে ফিরবে।
ওদিকে শিরিনের বাবা শিরিনের এই কাণ্ডকারখানার জন্য তাকে বকাঝকা করে। শিরিনের জন্য আজকে অপমানিত হতে হয়েছে তাকে সকলের সামনে। শিরিনকে তার বাবা বলে পারুলকে প্রতিযোগী না ভেবে পারুলের মত হওয়ার চেষ্টা করতে। ইউনিভার্সিটি গিয়ে সে এভাবে ক্রাইমের সাথে যুক্ত হয়ে পড়ছে সেটা তিনি একেবারেই আশা করেন না। এদিকে নিজের বাবার মুখে পারলে প্রশংসা শুনে, শিরিন আর সেটা মেনে নিতে পারে না। সব জায়গায় পারুল তার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে। রায়ানকে কেড়ে নিয়েছে, তার বাবাও ভুল বুঝছে তাকে। কিন্তু শিরিনের মা বলে রায়ান তার বাবার মতই ভালো মানুষ তাই রায়ানকে যে করেই হোক শিরিনকে আদায় করতেই হবে। তাতে যদি পারুলকে রাস্তা থেকে সরিয়ে ফেলতে হয় তাহলে সেটাই করতে হবে। শিরিনের মাও একবার এরকমই এক গর্ভবতী মহিলাকে তার বাবার জীবন থেকে সরিয়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছিল। শিরিনকেও সেই পথ অবলম্বন করতে হবে।
মায়ের কথা শুনে শিরিন রায়ানের সাথে দেখা করতে যায়। কিন্তু রায়ান শিরিনকে দেখে ভীষণ রেগে যায়। শিরিনের মুখ পর্যন্ত দেখতে চায় না। শিরিনের জন্য রায়ানের যে অপমান হয়েছে এর আগে তা কখনো হয়নি। তাই রায়ান শিরিনকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যেতে বলে। কিন্তু তখনই রায়ানের মা এসে রায়ানকে জানায় শিরিনের কোনো দোষ নেই। এই সমস্ত কাজ তিনি শিরিনকে করতে বলেছেন। মায়ের মুখে এমন কথা শুনে অবাক হয়ে যায় সে। তার মা কিভাবে এটা তার সাথে করতে পারল। রায়ানের মা ভালো করতে গিয়ে খারাপ করে দিয়েছে, পারুলের চোখে ছোট করে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ফেরার ফুলকি রোহিত! ছলচাতুরী করে ফাজিমপুরা পৌঁছে গেল রুদ্র! আসল অপরাধীকে খুঁজতে গিয়ে মৃ’ত্যু ফাঁদে ফুলকি!
তখনই পারুল ঘরে আসে এবং রায়ানের মাকে সরাসরি জানায় পারুলের পেছনে লেগে তার কোন লাভ নেই। যদি দাদুর উপরে তার রাগ থাকে কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে সেটা দাদুকে সরাসরি বলুক। কারণ এই বাড়িতে একমাত্র পারুলেরই দাদুর সাথে চোখে চোখ রেখে লড়াই করার ক্ষমতা আছে। ওদিকে রায়ান পারুল তো আবার একে অপরের থেকে দূরে চলে গেছে সেটা বুঝতে পারে দাদু। কিন্তু কিভাবে আবার তাদেরকে এক করবে সেটাই বুঝতে পারে না। ওদিকে পরের দিন ঠাকুমা পারুলকে নিয়ে গুরুদেবের আশ্রমে যায়। সেখানে গুরুদেব পারুলের হাত দেখে বলে পারুলের জীবনের এক কঠিন সত্যি তার সামনে আসতে চলেছে। আর অন্যদিকে শিরিনও একই সময় যায়। আর শিরিনকে গুরুদেব পরামর্শ দেয় নিয়তির সাথে না খেলার জন্য। এবারে দেখার অপেক্ষা আগামী পর্বে কি হতে চলেছে।

