বড় পরীক্ষার মুখে রায়ান! স্বামীর আত্মসম্মানের জন্য নিমেষে সিইও পদ ত্যাগ! রায়ানের পাশে দাঁড়াতে বড় সিদ্ধান্ত পারুলের? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, দীর্ঘদিনের লড়াই, প্রতীক্ষা আর সমস্ত প্রতিকূলতাকে জয় করে অবশেষে নিজের দেওয়া কথা রাখল পারুল। যে স্বপ্নের জন্য সে এতদিন ধরে অদম্য লড়াই চালিয়ে গেছে, আজ সমস্ত বাধা পেরিয়ে সে সেই কোম্পানিরই সর্বোচ্চ পদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে শুধু পেশাদার জীবনেই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও পারুল তার মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছে। শিরিন অত বড় ভুল এবং একের পর এক অন্যায় করার পরও পারুল তাকে চিরদিনের মতো দূরে ঠেলে দেয়নি। সমস্ত তিক্ততা ভুলে তাকে আবার নতুন করে জীবন শুরু করার একটা বড় সুযোগ করে দিয়েছে সে। প্রতিশোধ না নিয়ে পারুলের এই ক্ষমার সিদ্ধান্ত এবং ঔদার্য দর্শকদের আলাদা করে নজর কেড়েছে, যা গল্পে এক অনন্য আবেগঘন মুহূর্তের সৃষ্টি করেছে।
তবে শিরিনের এই ভালো সিদ্ধান্তকে তার মা মোটেও ভালোভাবে মেনে নিতে পারেনি। সে শিরিনকে নানান ভাবে অপমান করে এবং ছোট করে কথা বলতে শুরু করে। মায়ের মুখে এই ধরণের কটু কথা শুনতে না পেরে শিরিন চরম ক্ষোভে ও রাগে পারুলের ক্ষতি করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে বসে। সে পরিষ্কার জানিয়ে দেয় যে, সে বেঁচে থাকতে পারুলকে কিছুতেই শান্তিতে থাকতে দেবে না এবং তার জীবনকে একেবারে অসহ্য করে তুলবে। অন্যদিকে, সংযুক্তা আর শিঞ্জিনী নতুন হোটেলের পরিকল্পনা নিয়ে সাউথ ইন্ডিয়ার দিকে এগোচ্ছে। পাশাপাশি, টগর আর মল্লারের গল্পও ধীরে ধীরে একটি আলাদা রূপ নিচ্ছে, যা দেখে মনে হচ্ছে খুব তাড়াতাড়িই ওদের জীবনেও বড় কোনো ঘটনা ঘটতে চলেছে।
এরই মধ্যে গল্পে তৈরি হয়েছে এক নতুন মোড়। একদিকে পারুল এখন ‘পিওর লাইফ’ কোম্পানির সিইও, আর অন্যদিকে রায়ানের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে বসু থিয়েটারের সেই বড় কম্পিটিশন। পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে অংশ নিতে না চাইলেও রায়ানকে এই প্রতিযোগিতায় নামতেই হচ্ছে। আগামী পর্বে দেখা যাবে, এই ড্রামা কম্পিটিশনের মূল স্পন্সর হয়েছে পারুলের কোম্পানি ‘পিওর লাইফ’। আর সেই প্রতিযোগিতায় রায়ানের নাম এন্ট্রি করিয়ে দিয়েছে তার বাবা পরিতোষ বসু।
প্রতিযোগিতায় নিজের নাম দেখে প্রথমে রায়ানের মনে হয়, হয়তো পারুলই তার নাম সেখানে দিয়েছে। কিন্তু পারুল তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, সে এমন কিছুই করেনি। ঠিক তখনই পরিতোষ বসু সেখানে এসে আসল সত্যটা প্রকাশ করেন এবং বলেন যে, রায়ানের নাম তিনিই প্রতিযোগিতার জন্য জমা দিয়েছেন। বাবার মুখে এই কথা শোনার পর রায়ানের মনের আসল দ্বিধা ও লড়াইটা সামনে চলে আসে।
আরও পড়ুনঃ উজির জালে বন্দি দুর্জয়-সায়ন্তন! আড়ালে থেকে চাল চালছে উজি! অজান্তেই তার হাতে নিজেদের ম’রণবান তুলে দিল দুর্জয়-সায়ন্তন! দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
রায়ান জানায়, যেখানে পারুল নিজে ‘পিওর লাইফ’-এর সিইও এবং সেই কোম্পানিই এই প্রতিযোগিতার স্পন্সর, সেখানে সে অংশ নিলে সবাই ভাববে সে নিজের যোগ্যতায় নয়, বরং স্ত্রীর পরিচয়ের জোরে সুযোগ পেয়েছে। তার নিজের প্রতিভা ও যোগ্যতা নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুলবে। রায়ানের এই আত্মসম্মানের লড়াই ও যুক্তিটা শুনে পারুল এক মুহূর্তও দেরি না করে এক বড় সিদ্ধান্ত নেয়। সে সরাসরি জানিয়ে দেয় যে, রায়ানের সম্মানের খাতিরে সে আজই সিইও পদ থেকে পদত্যাগ করবে। পারুল শুধু রায়ানকে ভালোবেসে সমর্থনই করছে না, বরং সে মন থেকে চাইছে রায়ানের সাফল্য নিয়ে ভবিষ্যতে যেন কেউ কোনোদিন কোনো প্রশ্ন তুলতে না পারে।

