ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে আশ্রয়! পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে এবার নতুন মিশনে রায়ান-পারুল! পালিয়ে যাওয়ার পথে কিসের সন্ধান পেল তারা? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব!

জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা ধারাবাহিকে (Parineeta) গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পারুলদের বহু প্রতীক্ষিত ও আশায় বুক বাঁধা সেই মুহূর্তটি এক লহমায় যেন বিরাট ঝড়ে রূপ নিল। দীর্ঘ অপেক্ষার পর যখন তারা শেষমেশ সেই গুপ্তধনের বাক্সের মুখোমুখি হলো, ঠিক তখনই যেন তাদের পায়ের তলার মাটি সরে গেল। বুকভরা আশা নিয়ে বাক্সটি খুলতেই দেখা গেল, ভেতরের পুরো হীরার ভাণ্ডার একদম ফাঁকা! ঠিক সেই চরম হতাশা, শূন্যতা আর হতবাক করা মুহূর্তের মাঝেই পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিল, যখন কেউ একজন গোপনে পুলিশের টিমকে সেই গোপন আস্তানায় ডেকে পাঠাল।

সাইরেনের আওয়াজ আর পুলিশের আসার খবর পেতেই আতঙ্কে শিউরে উঠলেন সৌমিত্র কাকু। তাঁর চোখে-মুখে ফুটে উঠল চরম এক অজানা আতঙ্ক। তিনি চিৎকার করে সবাইকে সতর্ক করে বলে উঠলেন যে, এই মুহূর্তে পুলিশে ফোন দেওয়া মানে তাদের সবার জন্যই এক বিরাট এবং অনিবার্য বিপদ ঘনিয়ে আসা। সৌমিত্র কাকুর এই আকস্মিক ও রহস্যময় আতঙ্ক উপস্থিত সবার মনেই ভয়ের এক নতুন সঞ্চার করল, যা পরিস্থিতিকে মুহূর্তের মধ্যে আরও অনেক বেশি গম্ভীর ও রহস্যে ঘেরা করে তুলল।

এদিকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে এবং নিজের সন্তানদের জীবন বাঁচাতে ব্যাকুল হয়ে উঠলেন মা গায়ত্রী। তিনি অত্যন্ত অসহায় ও আকুল কণ্ঠে পারুলকে অনুরোধ করলেন, “পারুল মা, তুই সবাইকে নিয়ে এখান থেকে চলে যা!” কিন্তু পারুল তো আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতো নয়। নিজের মাকে এমন ঘোর বিপদের মুখে একা ফেলে রেখে পালিয়ে যেতে তার বিবেক ও ভালোবাসা কোনোভাবেই সায় দিল না। সে স্পষ্ট ও দৃঢ় গলায় জানিয়ে দিল, যা হওয়ার তা-ই হবে, কিন্তু মাকে ছেড়ে সে কোনো অবস্থাতেই কোথাও যাবে না। ঠিক এই আবেগঘন, টানটান ও রুদ্ধশ্বাস মুহূর্তেই সেখানে পুলিশের প্রবেশ ঘটতে চলেছে, যার হাত ধরে শুরু হবে ভাগ্যের এক নতুন ও জটিল খেলা।

তবে বিপদের মেঘ এখানেই কেটে যায়নি। আগামী পর্বের ঝলকে দেখা যাবে, প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে কোনোমতে পালিয়ে যাওয়ার সময় রায়ান আর পারুল রাস্তার পাশে একটি ট্রাক দেখতে পায়, যা কলকাতার অভিমুখে রওনা দিচ্ছিল। সময় ও পরিস্থিতি অত্যন্ত বেগতিক এবং হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে বুঝে রায়ান একটুও সময় নষ্ট না করে পারুলকে চুপচাপ আর সাবধানে সেই ট্রাকে উঠে পড়ার নির্দেশ দেয়। রায়ানের এই তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তই তাদের পরবর্তী যাত্রার পথ তৈরি করে দেয়।

আরও পড়ুনঃ ‘স্বামীর কাছে স্যানিটারি ন্যা’পকিন, অ’ন্তর্বাসের টাকা চাইব? লজ্জা লাগে…’ ‘বিয়ের পর জীবনটা মোটেই সুখের ছিল না!’ জীবন থেকে জীবনাদর্শ! অকপটে গাইনোকোলজিস্ট তথা অভিনেত্রী দীপান্নিতা হাজারী!

কিন্তু চলন্ত বা তাড়াহুড়োর মধ্যে ট্রাকে ওঠা মোটেই কোনো সহজ কাজ ছিল না। সেই কঠিন মুহূর্তে রায়ানের ওপর ভরসা রেখে, তার পিঠে ভর দিয়েই কোনোমতে ট্রাকে উঠে পড়ে পারুল; এরপর দ্রুততার সাথে রায়ান নিজেও সেই ট্রাকে চড়ে বসে। তবে পুরো ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর ও হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তটি তৈরি হয় ঠিক এরপরেই। ট্রাকে উঠে যাওয়ার পরেও রায়ান পুরোটা সময় পারুলকে পরম যত্নে ও ভালোবাসায় আগলে রাখে, যাতে চলন্ত ট্রাকে কোনোভাবেই তার বিন্দুমাত্র ক্ষতি না হয়। এই ছোট্ট কিন্তু গভীর দৃশ্যটিই দর্শক ও পাঠকদের মনে আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে, রায়ান আর পারুলের মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সম্পর্কের গভীরতা কতটা মজবুত ও খাঁটি।

Back to top button