ছেলেকে আঁচলে বাঁধতে পারুলের দিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল রায়ানের মা! শুরু হলো শাশুড়ি বনাম বউমা!

বাংলা টেলিভিশন জগতের (Bengali Television) জনপ্রিয় মেগা ধারাবাহিকগুলির মধ্যে অন্যতম একটি হলো জি বাংলার (Zee Bangla) পরিণীতা (Parineeta)। টিআরপি তালিকায় যারা সবসময় নিজেদের জায়গা বজায় রেখেছে পরিণীতা তাদের মধ্যে অন্যতম। ধারাবাহিকটি তাদের নানান রকম টুইস্ট এবং টানটান উত্তেজনা পর্বের মাধ্যমে দর্শকদের আকর্ষণ বজায় রাখে। বিশেষ করে পারুল যেভাবে প্রতিবার শিরিনের মুখোশ খুলে দেয় সেই দৃশ্য দেখতে তো দর্শণ ভীষণই পছন্দ করে।
ধারাবাহিকের গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, পরের দিন শিরিনকে কিডন্যাপ করার অভিযোগ নিয়ে শিরিনের মা-বাবা এবং তার কয়েকজন বন্ধু ইউনিভার্সিটিতে প্রিন্সিপালের কাছে হাজির হয়। তাকে গিয়ে সমস্তটা জানায় পারুল কিভাবে শিরিনকে কিডন্যাপ করে তাকে বলি দেওয়ার চেষ্টা করেছে কিভাবে তাকে মেন্টাল টর্চার করেছে সমস্ত ঘটনা খুলে বলে। প্রিন্সিপাল তো শিরিনের মায়ের মুখের কথা শুনে কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছে না যে পারুল এই ধরনের কাজ করতে পারে। কিন্তু শিরিনের মা জানিয়ে দেয় যদি পারুলের বিরুদ্ধে কোন স্টেপ না নেওয়া হয় তাহলে ব্যাপারটা তারা থানা পুলিশ পর্যন্ত নিয়ে যাবে এবং পারুলকে পুলিশের হাতে তুলে দেবে।

তারপরই প্রিন্সিপাল পারুলকে ডেকে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। পারুল এলে প্রিন্সিপাল তার কাছে সরাসরি জানতে চায় পারুল এই কাজ করেছে কিনা, শিরিন যা অভিযোগ আনছে তা সত্যি কিনা। পারুল অকপটে সকলের সামনে স্বীকার করে, তাদের সকল অভিযোগ সত্যি। কিন্তু আসল সত্যিটা প্রমাণ করার জন্যই পারুল এ সমস্ত কাজ করেছে। শিরিন তো বলতে থাকে পারুল ইচ্ছা করে বানিয়ে বানিয়ে মিথ্যা কথা বলছে। পারুলকে শাস্তি দিতে হবে পারুলের কাছে কোন প্রমাণ নেই। এদিকে পারুলের কাছে যে মোক্ষম প্রমাণ আছে শিরিন তা জানেই না। তারপরে প্রিন্সিপালের রুমে প্রজেক্টর এর মাধ্যমে একটি ভিডিও চালায় পারুল সেখানে শিরিনের সমস্ত কুকীর্তি রয়েছে। শিরিন তো মনে মনে ভাবছে পারুলের কাছে কোন প্রমাণ নেই, পারুল এমনি ফাঁকা আওয়াজ দিচ্ছে।
পারুল তো প্রমাণ ছাড়া কথা বলে না। সমস্ত প্রমাণ সমেত ইউনিভার্সিটিতে যায়। সেইসময় রায়ানও সেখানে উপস্থিত হয়। তারপর পারুল শিরিনের সমস্ত কুকীর্তির ভিডিও সকলের সামনে নিয়ে আসে। সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকে সেই ভিডিওতে শিরিন নিজের মুখে স্বীকার করছে সে পারুলের সাথে কম্পিটিশনে কি কি করেছে। সবাই শুনে অবাক হয়ে যায়। শিরিন ভাবতে পারেনি পারুল তার স্বীকারোক্তির ভিডিও করেছে। প্রিন্সিপাল এবং ইউনিভার্সিটি বাকি টিচাররা তো শিরিনের উপরে বেজায় খেপে যায়। তাকে যা নয় তাই বলে অপমান করে হয়। শিরিন ইউনিভার্সিটিতে পড়ার যোগ্য না। রায়ানও মনে মনে ভাবতে থাকে সেদিনের জন্য তাকে এত অপমানিত হতে হল। পারুলকে সে এত খারাপ খারাপ কথা বলল। এরপর প্রিন্সিপাল শিরিনকে এই অপরাধ করার জন্য ৭ দিনের জন্য ইউনিভার্সিটি থেকে সাসপেন্ড করে দেয়।
আরও পড়ুনঃ কাঁচা কাজ করে ফেলল রুদ্ররূপ! ফুলকিকে খু’নের দায়ে ফাঁসাতে গিয়ে রোহিতের হাতে ধরা পড়ে গেল রুদ্র!
পুরো ঘটনা জানার পরে ইউনিভার্সিটির টিচাররা মিলে সিদ্ধান্ত নেয় পারুল এবং রায়ানের মধ্য যে কম্পিটিশন হয়েছিল সেটা আবার হবে। কারণ পারুল কে তো খেলতেই দেওয়া হয়নি ইচ্ছে করে। যেখানে পারুল খেলার সুযোগ পায়নি তাই সঠিক বিচার সেখানে হয়নি। কিন্তু পারুলকে প্রতিযোগিতায় খেলতে গেলে আবার তার লেখা কাগজটা দিতে হবে। আর শিরিন যেটা কোথায় ফেলেছে কেউ জানে না। তারপর প্রিন্সিপাল শিরিনের থেকে জানতে চায় সে কাগজটা কোথায় ফেলেছে। শিরিন সত্যি কথা না বললে তাকে সারা জীবনের মতো সাসপেন্ড করে দেওয়া হবে। শিরিন ভয়ে সত্যি কথা বলে দেয়। ইউনিভার্সিটির এক ডাস্টবিনে শিরিন সেটা ফেলেছিল। তারপর সেই ডাস্টবিন নিয়ে এসে পারুলের লেখা খুঁজে বার করা হয়। পারুলের লেখা পড়ে কলেজের প্রিন্সিপাল এবং বাকি শিক্ষকরা তো বুঝতেই পারে এই লেখার সাথে রায়ানের লেখার কম্পিটিশন হওয়াটা দরকার। ওদিকে রায়ান শিরিনকে যা নয় তাই বলে। শিরিনের জন্য তাকে ছোট হতে হলো পারুলকে অপমান করলো রায়ান। সবকিছু হলো শিরিনের জন্য। এবারে দেখার অপেক্ষা প্রতিযোগিতা হলে আগামী পর্বে কি হয়।

