চাকরি হারিয়েও শ্রীনিবাসের নিখুঁত অভিনয়! স্ত্রীর কাছে লুকিয়ে রাখতে পারল না মিথ্যে! হাতেনাতে ধরা পড়ল কমলার কাছে!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় শুরু হয়েছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas)। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সম্রাটের মানসিক নির্যাতন ও দ্বিমুখী আচরণ ঝিনুককে ভেতর থেকে ভেঙে চুরমার করে দেয়। একদিকে পুলিশের সামনে অনুশোচনার নাটক, অন্যদিকে বাড়িতে সামান্য খাবারের ছুতোয় স্ত্রীকে তীব্র বকাঝকা সম্রাটের এই নিষ্ঠুর রূপ ঝিনুক মেনে নিতে পারছিল না। স্বামীকে খুশি করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়লে সম্রাট হঠাৎ ভোল বদলে তাকে সান্ত্বনা দেয় এবং ‘স্মার্ট’ বলে অভিহিত করে। তবে সম্রাটের এই বৈপরীত্য ঝিনুকের মনে এক গভীর ও স্থায়ী ক্ষতের সৃষ্টি করে।
অন্যদিতে, সম্রাটের আতঙ্কে তটস্থ অঞ্জনা নিজের প্রাণ বাঁচাতে মায়ের বাড়িতে পালিয়ে আসে। তবে তার ওপর এতটাই ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছিল যে, সত্য প্রকাশ করার সাহস তার ছিল না। সম্রাটের আসল রূপ গোপন রাখতে সে বানিয়ে বলে যে পথে কতগুলো কুকুর তাকে তাড়া করেছিল। অঞ্জনার এই নীরবতার কারণে সম্রাটের অন্ধকার অপরাধগুলো সাময়িকভাবে আড়ালেই রয়ে গেল।
ঘটনার জটিলতা আরও বাড়ে যখন ঝিনুক জানতে পারে তার বন্ধু বিনোদ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। সম্রাট নিশ্চিত ছিল যে তার হামলায় বিনোদ প্রাণ হারিয়েছে, কিন্তু বিনোদের বেঁচে থাকার খবর সম্রাটের চিন্তার পারদ বাড়িয়ে দেয়। ঠিক একই সময়ে আাদির জীবনও ভুল বোঝাবুঝিতে আটকে পড়ে। পল্লবীর জন্মদিনে বেনামে উপহার পাঠানো থেকে শুরু করে অফিসের সামনে মারামারির দৃশ্য সব মিলিয়ে পল্লবীর চোখে আদি এক ‘গুন্ডা’ হিসেবে চিহ্নিত হয়। তার ওপর রোহিণী সুযোগ নিয়ে বাইকের ফুলগুলো নিজের বলে দাবি করায় পল্লবীর কাছে মনের কথা বলার সুযোগটি আদি পুরোপুরি হারিয়ে ফেলে।
পারিবারিক ও অর্থনৈতিক সংকটের আরেক চিত্র ফুটে ওঠে শ্রীনিবাসের চরিত্রে। চাকরি হারানোর কঠিন সত্যটি তিনি নিজের স্ত্রী ও পরিবারের কাছে সযত্নে লুকিয়ে রেখেছেন। সবাই যখন সকালে নিজ নিজ কাজে বেরিয়ে যায়, তিনিও নিখুঁত অভিনয়ে অফিসে যাওয়ার ভান করে বাড়ি ছাড়েন। মাস শেষে সংসারের খরচ কীভাবে মেটাবেন তা অজানাই রয়ে যায়, তবুও সত্য আড়াল করে রেখে সারাদিন উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়ানোর এক অদ্ভুত আত্মবিশ্বাস তিনি বজায় রাখেন।
আরও পড়ুনঃ সকালে শুটিং-এ বেরিয়ে নিখোঁজ হন নায়িকা! তারপরই ঘটলো হাড়হিম ঘটনা! বস্তার ভিতর থেকে উদ্ধার অভিনেত্রীর দু’টুকরো দেহ!
গল্পের চূড়ান্ত নাটকীয়তা মোড় নেয় হাসপাতালে, যখন পুলিশ সজ্ঞান বিনোদের বয়ান নিতে আসে। সম্রাট ও ঝিনুকের উপস্থিতিতেই বিনোদ সরাসরি আঙুল তুলে সম্রাটকে তার ওপর হামলার জন্য অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে। স্বামীর এই ভয়ংকর ও খুনে রূপ সামনে আসতেই ঝিনুক নিজের মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং চরম ক্ষোভে সবার সামনে সম্রাটকে সজোরে থাপ্পড় মারে। সম্রাট নিজেকে নির্দোষ দাবি করে অনুনয়-বিনয় করতে থাকলেও ঝিনুকের বিশ্বাস ততক্ষণে চিরতরে ভেঙে গেছে।

