সকালে শুটিং-এ বেরিয়ে নিখোঁজ হন নায়িকা! তারপরই ঘটলো হাড়হিম ঘটনা! বস্তার ভিতর থেকে উদ্ধার অভিনেত্রীর দু’টুকরো দেহ!

প্রতিদিনের মতোই শুটিংয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন এক অভিনেত্রী। ২০২২ সালের ১৬ জানুয়ারি সকাল ৭টার দিকে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু এরপর আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। স্বামী, বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা নিজেদের মতো করে খোঁজ শুরু করেন। পরে বিষয়টি পুলিশের কাছে পৌঁছায়। প্রথমে পুলিশ এটিকে নিখোঁজের ঘটনা হিসেবেই দেখছিল। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ঝোপের আড়ালে একটি বস্তার ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ওই অভিনেত্রীর দেহ। পশুর আক্রমণে দেহটি দু’ভাগ হয়ে গিয়েছিল।
তদন্ত শুরু করে পুলিশ প্রথমে অভিনেত্রীর বাড়ির লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তাঁর স্বামী, বোন এবং গৃহকর্মী সকলেই প্রায় একই কথা জানান। তাঁদের দাবি ছিল, অভিনেত্রী সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুটিংয়ে বেরিয়েছিলেন, তারপর আর বাড়ি ফেরেননি। তদন্তের সময় পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে অভিনেতা জায়েদ খানের দিকেও। কয়েক বছর আগে ফিল্ম আর্টিস্টস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ নিয়ে দু’জনের মধ্যে মনোমালিন্য হয়েছিল বলে জানা যায়। সেই পুরনো বিরোধের বিষয়টি খতিয়ে দেখে পুলিশ। তবে তদন্তে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে তাঁদের মধ্যে কোনও যোগাযোগই ছিল না। ফলে সেই সূত্রও শেষ পর্যন্ত কাজে আসেনি।
এরপর ফের বাড়ির দিকেই নজর দেয় পুলিশ। তদন্তকারীদের চোখে পড়ে পরিবারের ব্যবহৃত গাড়িটি। বাড়িতে একটি মাত্র গাড়ি ছিল, সেটি স্বামী এবং অভিনেত্রী দু’জনেই ব্যবহার করতেন। গাড়িটি পরীক্ষা করতেই পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে। ভিতর থেকে পাওয়া যায় ব্লিচিং পাউডারের তীব্র গন্ধ। তল্লাশি চালিয়ে একটি আঁটি দড়িও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের অনুমান, দেহটি একটি বস্তায় ভরে ওই গাড়িতেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রমাণ মুছে ফেলতে গাড়ির ভিতরে ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে আসে। দড়িটি বস্তা বাঁধার কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে পুলিশের দাবি।
এরপর অভিনেত্রীর স্বামীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। প্রথমে তিনি তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। কিন্তু দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি অপরাধের কথা স্বীকার করেন। পুলিশের দাবি, আর্থিক সমস্যা থেকেই দাম্পত্য জীবনে অশান্তি তৈরি হয়েছিল। কোভিডের সময় তাঁদের ব্যবসায় লোকসান হচ্ছিল এবং সংসারের বেশিরভাগ দায়িত্ব অভিনেত্রীই সামলাতেন। ঘটনার দিন সকালে দু’জনের মধ্যে ঝগড়া হয়। রাগের মাথায় স্বামী প্রথমে তাঁকে মারধর করেন এবং পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। এরপর দেহ সরিয়ে ফেলতে এক পরিচিতের সাহায্য নেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যায়।

আরও পড়ুনঃ হীরে চুরির চক্রান্তে ফাঁসলো বসু পরিবার! চুরির মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার দাদু! পারুলের অজান্তেই প্রথম চাল চেলে দিল সংযুক্তা!
সিনেমার পাশাপাশি নাটকেও পরিচিত মুখ ছিলেন এই অভিনেত্রী। তাঁর সৌন্দর্য এবং অভিনয় দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকদের নজরে আসেন তিনি। প্রায় ২৫টি সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি ৫০টিরও বেশি নাটকে কাজ করেছিলেন। কাজের সূত্রেই ঢাকার ব্যবসায়ী শাখাওয়াত আলী নোবেলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরে তাঁদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর ধীরে ধীরে সিনেমা থেকে দূরে সরে গেলেও পরবর্তী সময়ে শো প্রযোজনার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। এতক্ষণ যে অভিনেত্রীর কথা বলা হল, তিনি বাংলাদেশের অভিনেত্রী রাইমা ইসলাম শিমু। তাঁর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়।