নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে কেবল মিঠির জন্যই বেঁচে থাকার অঙ্গীকার পল্লবীর, সাগরের চলে যাওয়ার রহস্য উন্মোচনের প্রতিজ্ঞা নিল পল্লবী!

জি বাংলার (Zee Bangla) পর্দায় পথচলা শুরু করেছে নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’ (Kamala Nibas )। গতকালের পর্বে দেখানো হয়েছে, সুপর্ণা ও তার স্বামী যখন মিঠিকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে, তখন দীর্ঘদিনের শান্ত পল্লবী প্রথমবারের মতো রুখে দাঁড়ায়। এতদিন মুখ বুজে সব সহ্য করলেও, সন্তানের অধিকারের প্রশ্নে সে আজ অগ্নিকন্যা। পল্লবী স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কোনো প্রলোভন বা চাপের মুখে সে মিঠিকে ত্যাগ করবে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তার এই তীব্র প্রতিবাদ সুপর্ণাদের স্তম্ভিত করে দেয় এবং পল্লবী প্রমাণ করে দেয় যে, একজন মা তার সন্তানের জন্য পৃথিবীর যেকোনো শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে প্রস্তুত।
দুর্ঘটনার ভয়ংকর স্মৃতি মিঠিকে শারীরিকভাবে পঙ্গু করে দিয়েছে। তার দুই পায়ে গুরুতর চোট থাকায় সে এখন চলৎশক্তিহীন। চিকিৎসকদের মতে, একমাত্র দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল ফিজিওথেরাপিই তাকে সুস্থতার পথে ফেরাতে পারে, যদিও তার ফলাফল নিয়ে কোনো নিশ্চিত আশ্বাস মেলেনি। জীবনের এই কঠিন সত্যকে মেনে নিয়ে পল্লবী মিঠিকে নিজের আশ্রয়ে নিয়ে আসে। প্রতিকূলতা যেখানে পাহাড়প্রমাণ, সেখানে পল্লবীর অদম্য জেদই হয়ে ওঠে মিঠির বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
নিজের বাড়িতে ফেরার পর পল্লবীকে আবারও পারিবারিক বাধার সম্মুখীন হতে হয়। আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের বাঁকা কথা তার চলার পথকে কন্টকাকীর্ণ করে তোলে। পঙ্গু মিঠিকে নিয়ে পল্লবীর একাকী পথচলা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেন। তবে পল্লবীর বাবা-মা মেয়ের এই লড়াই দেখে ভেতরে ভেতরে দগ্ধ হলেও শেষ পর্যন্ত তার পাশেই দাঁড়ান। বিশেষ করে পল্লবীর মা বিশ্বাস করেন যে, বিধাতা হয়তো বড় কোনো মঙ্গলের উদ্দেশ্যেই পল্লবীর জীবনে এই কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছেন। এই আধ্যাত্মিক বিশ্বাস ও মায়ের আশীর্বাদকে পাথেয় করেই শুরু হয় তাদের এক নতুন সংগ্রাম।
আরও পড়ুন: সব পেয়েও নিঃস্ব পারুল! ভালোবাসার পরীক্ষায় পাশ করেও বিশ্বাস হারাল পারুল, রায়ানের অভিমানে ঘনিয়ে এল কালো মেঘ!
সাগরের হঠাৎ চলে যাওয়া পল্লবীর হৃদয়ে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে। প্রিয় মানুষকে হারানোর যন্ত্রণা তাকে ভেতর থেকে কুরে কুরে খাচ্ছে, কিন্তু মিঠির মুখের দিকে তাকিয়ে সে ভেঙে পড়ার বিলাসিতা করতে পারছে না। তবে পল্লবী স্থির বসে থাকার পাত্রী নয় সে মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছে যে সাগরের সাথে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার পেছনের প্রকৃত সত্য সে উন্মোচন করবেই। এই রহস্যভেদের নেশা এবং মিঠির দায়িত্ব এই দুই সম্বল করেই সে তার শোককে শক্তিতে রূপান্তরিত করে।
বর্তমানে মিঠির জগত জুড়ে শুধুই পল্লবী। সে অবুঝ মনে বারবার তার বাবা ও ঠাকুরমার কথা জিজ্ঞাসা করে, যা পল্লবীর বুককে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়। পল্লবী অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে মিঠিকে বুঝিয়ে বলে যে, ভগবান তাদের অনেক দূরে নিয়ে গেছেন। নিজের ব্যক্তিগত সুখ বা পুনরায় বিয়ের চিন্তাকে চিরতরে বিসর্জন দিয়ে পল্লবী এখন শুধুমাত্র মিঠির মা হয়েই বেঁচে থাকতে চায়। মা ও মেয়ের এই নিঃশব্দ কান্না আর একে অপরকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার লড়াই এক মর্মস্পর্শী আবহের সৃষ্টি করেছে।

