‘টাকা রোজগারের জন্য আমাকে ব্যবহার করেছে ও…’ পার্কস্ট্রিট কাণ্ডে এবার মুখ খুললেন মিঠাই! কেন সায়কের সঙ্গে বন্ধুত্ব ভেঙেছিলেন তিনি? বি’স্ফোরক অভিনেত্রী সৌমিতৃষা কুণ্ডু!

টলিউডের (Tollywood) মিষ্টি নায়িকা সৌমিতৃষা কুণ্ডু (Soumitrisha Kundu) এবং টেলিভিশনের পরিচিত মুখ ও জনপ্রিয় ইউটিউব ইনফ্লুয়েন্সার সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty)। এক সময় এই দুই তারকার বন্ধুত্ব ছিল স্টুডিও পাড়ার অন্যতম চর্চিত বিষয়। তাদের বন্ধুত্বের রসায়ন এতটাই গভীর ছিল যে, সায়কের ইউটিউব চ্যানেলের প্রতিটি ভিডিওতে সৌমিতৃষার উপস্থিতি দর্শকদের কাছে ছিল বাড়তি পাওনা। পর্দার বাইরেও তাদের একসঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, মজার খুনসুটি আর একে অপরের বিপদে-আপদে পাশে থাকা দেখে অনুগামীরা তাদের ‘বেস্ট ফ্রেন্ড গোলস’ হিসেবে মানতেন।
তবে সময়ের সাথে সাথে টলিউডের এই প্রিয় জুটির সমীকরণ বদলে যায়। একসময়ের ছায়াসঙ্গী এই দুই বন্ধুর দূরত্ব যখন প্রকাশ্যে আসে, তখন ভক্তদের কাছে তা ছিল রীতিমতো অবিশ্বাস্য। যে বন্ধুত্ব ছিল স্বচ্ছ এবং প্রাণবন্ত, তাতে হঠাৎ কেন চির ধরল সেই রহস্য আজও অনেক অনুরাগীর মনে প্রশ্ন জাগায়। পার্কস্ট্রিটের একটি নামী রেস্তোরাঁয় খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে অভিনেতা ও ইউটিউবার সায়ক চক্রবর্তী বর্তমানে এক বিশাল বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন। ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন সায়ক অভিযোগ করেন যে, ওই রেস্তোরাঁয় তিনি ‘মাটন স্টেক’ অর্ডার করলেও তাকে মাটনের পরিবর্তে গোমাংস পরিবেশন করা হয়েছে। সায়ক কেবল অভিযোগেই ক্ষান্ত হননি, বরং একটি ফেসবুক লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন এবং এর সাথে ধর্মীয় ভাবাবেগকে জড়িয়ে ফেলেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রেস্তোরাঁর একজন মুসলিম কর্মীকে গ্রেফতারও করে।
এই ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই টলিপাড়ার ভেতরে ও বাইরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। নেটিজেনদের বড় একটি অংশ সায়কের এই আচরণকে ‘পাবলিসিটি স্টান্ট’ বা সস্তায় প্রচার পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। এই বিতর্কের মাঝে সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ঘনিষ্ঠ বন্ধু সৌমিতৃষা কুণ্ডুর বিস্ফোরক বয়ান। যদিও সৌমিতৃষা সরাসরি ওই রেস্তোরাঁর ঘটনা নিয়ে কোনো রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করেননি, তবে তিনি সায়কের চারিত্রিক সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ‘কালরাত্রি’ সিরিজের পরিচালক অয়ন চক্রবর্তী সোশ্যাল মিডিয়ায় সায়কের এই সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক আচরণের তীব্র সমালোচনা করেন। পরিচালক সরাসরি সায়কের নাম না নিলেও, তার করা পোস্টটিতে সায়কের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন টলিপাড়ার অনেক ব্যক্তিত্বই। সেখানেই অভিনেত্রী লেখেন, ‘টাকা রোজগারের জন্য আমাকে ব্যবহার করেছে। যখন কনটেন্টের রিচ এবং এনগেজমেন্ট বেড়ে যায়, তখন টাকাও আসে। আগে ওরা আমার মতো বা যাঁদের ভিডিও ভাইরাল হয় তাঁদের ব্যবহার করে অনেক টাকা কামিয়েছে। এখন রিচ পড়ে যাচ্ছে দেখে এইসব করতে শুরু করেছে।’
আরও পড়ুনঃ ‘আমার বাবা তো ছে’লেধরা, যেখান থেকে পারতেন ছেলে তুলে…’ ক্যামেরার সামনেই বাবাকে নিয়ে বি’স্ফোরক সোহিনী সেনগুপ্ত! কেন এমন বললেন অভিনেত্রী?
পরিচালক অয়ন চক্রবর্তীর একটি ফেসবুক পোস্টে মন্তব্য করতে গিয়ে সৌমিতৃষা সরাসরি সায়কের নাম না নিলেও তাঁর বিরক্তি গোপন করেননি। তিনি সায়কের এই আচরণকে অমানবিকতার পরিচয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। সৌমিতৃষা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রচারের আলোয় থাকার জন্য একজন সাধারণ কর্মীকে এভাবে জনসমক্ষে অপদস্থ করা এবং তাঁর জীবিকাকে সংকটে ফেলা খুবই নিচু মানসিকতা।

