অভিনয় নাকি আত্মসম্মান? জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থেকেও কেন অভিনয় জগতকে বিদায় জানালেন বৈশাখী মার্জিত?

বাংলা নাট্যজগত ও চলচ্চিত্রের (Tollywood) অত্যন্ত পরিচিত মুখ এবং দক্ষ অভিনেত্রী বৈশাখী মার্জিত (Baishakhi Marjit)। মূলত শাস্ত্রীয় সংগীতের পটভূমি থেকে এলেও নাট্যব্যক্তিত্ব রমাপ্রসাদ বণিকের হাত ধরে তাঁর অভিনয় জীবনে পদার্পণ ঘটে। ‘সাখারাম বাইন্ডার’ নাটকে অভিনয় করে তিনি সর্বভারতীয় স্তরে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তিনি বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত ও রবি ওঝার মতো প্রথিতযশা পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন। এছাড়া ‘একদিন প্রতিদিন’, ‘সাত পাকে বাঁধা’, এবং ‘অগ্নিপরীক্ষা’র মতো জনপ্রিয় মেগা সিরিয়ালে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। বড় পর্দায় তাঁকে ব্যোমকেশ গোত্র, ম্যাডলি বাঙালি এবং গুপ্তধনের সন্ধানে এর মতো উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা গেছে। বর্তমানে পছন্দমতো চরিত্রের অভাবে অভিনয় থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও নিজের সৃজনশীল জগত নিয়ে তিনি বেশ ব্যস্ত রয়েছেন।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জীবনের নানা অজানা কথা ভাগ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উঠে আসে ২০০৯-২০১১ সালের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘অগ্নিপরীক্ষা’-র স্মৃতি। সেই ধারাবাহিকে বৈশাখী দেবী মীরামা চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। আড্ডার এক পর্যায়ে বৈশাখী মার্জিত তাঁর অভিনয় জীবনের শুরুর রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার কথা বলেন।
তিনি জানান, আদতে তিনি কখনোই অভিনেত্রী হতে চাননি। একটি নাটকে নির্দেশনা দেওয়ার সময় পরিস্থিতির চাপে পড়ে তাঁকে মঞ্চে নামতে হয়েছিল। অথচ সেই শুরুটাই তাঁকে পরবর্তীতে কিংবদন্তি অভিনেতা ইরফান খানের বিপরীতে ‘সাখারাম বাইন্ডার’ নাটকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেয়। ইরফানের সঙ্গে কাজ করার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি তাঁর অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ও অভিনয়ের প্রতি নিষ্ঠার কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। পাশাপাশি বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের মতো কঠোর ঘরানার পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তিনি শেয়ার করেন।
পেশাগত জীবনের বাইরে বৈশাখী দেবীর ব্যক্তিগত জীবনের গল্পগুলো ছিল বেশ চমকপ্রদ। তিনি জানান, তাঁর বড় হয়ে ওঠা ছিল পিসিদের আদরে। নিজের মায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল বন্ধুর মতো, এমনকি তিনি তাঁর মাকে ‘বৌমা’ বলে ডাকতেন। এই ঘরোয়া আড্ডায় তিনি তাঁর জেদ, রাগ এবং ভালোবাসার নানা ছোট ছোট ঘটনা হাসিমুখে বর্ণনা করেন। এছাড়া তিনি কেন বর্তমানে পর্দার আড়ালে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন, সেই বিষয়েও খোলামেলা কথা বলেন। তাঁর মতে, অভিনয়ের মান এবং চরিত্রের গভীরতা কমে যাওয়ায় তিনি নিজেকে কিছুটা সরিয়ে নিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ শুটিংয়ে চ’ড়ের দৃশ্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক! নাটক করতে গিয়ে বাস্তবে লেগে গেল হাতাহাতি! সহ অভিনেত্রীর মুখ খিমচে মে’রে ফুলিয়ে দিলেন নায়িকা! কেঁদে ফেললেন অভিনেত্রী!
সঞ্চালকের অনুরোধে বৈশাখী মার্জিত একটি হিন্দি নাটকের গান খালি গলায় গেয়ে শোনান, যা তাঁর সংগীত প্রতিভা আবারও প্রমাণ করে। একইসঙ্গে দর্শকদের জন্য একটি বুদ্ধিবৃত্তিক কুইজ রাখা হয়। তিনি জানান, তাঁর কেরিয়ারের শুরুর দিকে একটি হিন্দি নাটকের পুরো টিমকে এক বিখ্যাত পরিচালক নিজের বাড়িতে ডেকে রান্না করে খাইয়েছিলেন। সেই মহান পরিচালকের নাম কী তা দর্শকদের খুঁজে বের করতে বলা হয়। সব মিলিয়ে সাক্ষাৎকারটি ছিল স্মৃতিচারণ, হাসি-ঠাট্টা এবং এক গুণী শিল্পীর জীবন দর্শনের এক অনবদ্য দলিল।

