‘বাঙালি হওয়া একটা আশীর্বাদ…’ ‘আগে বায়না ছিল না, এখন…’ খাসির মাংস থেকে শাশুড়ির হাতের ঝিঙের ঝোল! ১৯ বছরেও কমেনি জামাই বিশ্বনাথের আদর আপ্যায়ন!

জামাইষষ্ঠী মানেই বাঙালি পরিবারে উৎসবের আমেজ, আর সেই আমেজ যদি হয় টলিউডের (Tollywood) জনপ্রিয় অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুর (Biswanath Basu) বাড়িতে, তবে তো কথাই নেই! সম্প্রতি এক ঘরোয়া সাক্ষাৎকারে স্ত্রী দেবিকা এবং শাশুড়ি মাকে পাশে নিয়ে জামাইষষ্টির একাল-সেকাল ও নিজেদের পারিবারিক জীবনের নানা মজার গল্প শোনালেন অভিনেতা। বিয়ের পর আইনি ও সামাজিক নিয়ম মিলিয়ে এটি তাঁদের ১৯তম জামাইষষ্ঠী। দীর্ঘ উনিশ বছর ধরে শাশুড়ি মায়ের আদরে জামাইয়ের আপ্যায়নে যে বিন্দুমাত্র খামতি হয়নি, তা অভিনেতার হাসিমুখ দেখেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল।
কথায় বলে বাঙালি জামাই মানেই ভোজনরসিক, আর বিশ্বনাথবাবুও তার ব্যতিক্রম নন। তবে তাঁর খাবারের তালিকায় যেমন একগুচ্ছ পছন্দের পদ রয়েছে, তেমনই রয়েছে তীব্র অপছন্দও। অভিনেতা নিজেই হাসতে হাসতে ফাঁস করলেন যে তিনি পাকা কাঁঠাল এবং কাঁচকলা বা ডয়রা কলা খেতে একদমই পছন্দ করেন না। তবে পাতে যদি পড়ে শাশুড়ি মায়ের হাতের চিংড়ি মাছ দিয়ে পটলের দোলমা কিংবা সিম্পল ঝিঙের ঝোল, তবে আর কোনো কথাই চলে না! এছাড়া চিতল মাছ, বোয়াল মাছ এবং খাসির মাংসের প্রতি তাঁর দুর্বলতা চিরকালের। এমনকি বাসন্তী পুজোর পর পান্তা ভাত দিয়ে বোয়াল মাছ খাওয়ার জন্য তিনি সারা বছর মুখিয়ে থাকেন।
জামাইয়ের প্রশংসা যেমন চলল, তেমনই স্ত্রী দেবিকা কিন্তু অভিনেতার বেশ কিছু মজাদার গোপন স্বভাবও ফাঁস করে দিলেন। দেবিকা জানান, বিয়ের প্রথম দিকে খাওয়া নিয়ে কোনো বায়না না থাকলেও, ইদানীং নাকি বিশ্বনাথবাবু বেশ বায়না করা শুরু করেছেন। শুধু তাই নয়, রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে তিনি নাকি অত্যন্ত চালাকি করেন! নিজে সামান্য একটুখানি অর্ডার দিয়ে বাকিদের বলেন নিজেদের মতো খেয়ে নিতে, কিন্তু খাবার টেবিলে এলে গল্প করতে করতে স্ত্রী ও ছেলেদের প্লেট থেকেই বেশিরভাগ খাবার সাবাড় করে দেন। অভিনেতার এই মিষ্টি অবাধ্যতার গল্প শুনে হেসে ফেলেন উপস্থিত সকলেই।
পারিবারিক এই আড্ডায় উঠে এল তাঁদের বিদেশ ভ্রমণের এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা। বিশ্বনাথবাবু জানান, তাঁদের ছোট ছেলে আবার বাবার মতোই পুরোদস্তুর ভাত-প্রেমী, ভাত ছাড়া সে কিচ্ছু বোঝে না। আর সেই কারণেই প্যারিস, ইংল্যান্ড কিংবা ইতালির মতো দেশে ঘুরতে গেলেও তাঁদের এমন অ্যাপার্টমেন্ট খুঁজতে হতো যেখানে রান্নার হাতা-খুন্তি আর গ্যাসের ব্যবস্থা থাকে। যাতে বিদেশে গিয়েও ছেলের জন্য ভাতের ব্যবস্থা করা যায়! এই ভাতের খোঁজ করতে গিয়ে যে তাঁদের বেশ বেগ পেতে হয়েছিল, সে কথা বেশ রসিয়ে রসিয়ে শোনালেন তারকা দম্পতি।
আরও পড়ুনঃ জৈন পরিবারে বিয়ে! তবুও জমজমাট জামাইষষ্ঠী! প্রথম জামাই ষষ্ঠীর স্মৃতিতে আবেগে ভাসলেন অর্জুন চক্রবর্তী!
এবারের জামাইষষ্ঠী অবশ্য শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে আগের দিন রাতেই সেরে ফেলেছেন বিশ্বনাথবাবু। খাসির মাংস আর চিতল মাছ দিয়ে কবজি ডুবিয়ে খেয়ে পরদিন দুপুরেই তিনি রওনা দিয়েছেন শুটিং সেটের উদ্দেশ্যে। সবশেষে দর্শকদের উদ্দেশ্যে এক আবেগময় বার্তা দিয়ে অভিনেতা বলেন, বাঙালি হয়ে জন্মানো আর আমাদের এই বারো মাসে তেরো পার্বণের রিচুয়ালসগুলো আসলে নিজেদের নতুন করে রিবুট করার একটা বড় সুযোগ। সমস্ত ঝরঝাপটা এড়িয়ে এই উৎসবগুলোর বাহানায় পরিবারকে সময় দেওয়া এবং মন খুলে কথা বলাটাই জীবনের আসল আনন্দ।

