বিরক্তির চরম সীমায় দর্শক মহল! ‘চিরসখা’ ধারাবাহিকে বারবার আ’ত্মহত্যার দৃশ্য! ‘অপসংস্কৃতি ছড়াচ্ছে ধারাবাহিকটি…’ দাবি দর্শকদের, উঠছে প্রতিবাদের ঝড়!

ধারাবাহিক (Bengali Serial) হলো বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় একটি বিনোদন মাধ্যম। ধারাবাহিকের বিষয়বস্তু সাধারণত পারিবারিক ড্রামা, গোয়েন্দা কাহিনী বা সামাজিক সমস্যার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। আর বর্তমানে একাধিক চ্যানেলে নানান ধরনের ধারাবাহিক দেখানো হয়ে থাকে। তার মধ্যে অন্যতম একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিক হলো স্টার জলসার (Star Jalsha) চিরসখা (Chirosokha)।

দীর্ঘদিন ধরেই এই ধারাবাহিক টেলিভিশনে পর্দায় চলছে। আর টানটান এপিসোডের মাধ্যমে দর্শকের মনে জায়গা তৈরি করে নিয়েছে খুব সহজে। তবে বর্তমানে ধারাবাহিকে যা হচ্ছে তা নিয়ে দর্শক বেশ বিরক্ত। ধারাবাহিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে দর্শকমহলে। যারা এই ধারাবাহিকের নিত্য দর্শক তারা সকলেই জানেন বর্তমানে ধারাবাহিকে দেখানো হচ্ছে বাবিল তার প্রেমিকাকে অন্য একজন মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে ঠকিয়েছে। যা নিয়ে বর্তমানে পরিবারে অশান্তি ঝামেলা চলছে। আর যার কারণে এখন মিটিল বাবিলকে আর মেনে নিতে পারছে না নিজের জীবনে। আর সেই কারণে বাবিল আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর এই ঘটনাটি নিয়ে বেশ বিরক্ত হয়েছে দর্শকদের একাংশ।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন জনপ্রিয় ধারাবাহিকে গল্পের মোড় ঘোরাতে বারবার আ’ত্মহত্যার প্রচেষ্টাকে একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দর্শকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। দর্শকদের মতে, বিনোদনের নামে পর্দায় এই ধরনের নেতিবাচক ঘটনা ঘনঘন দেখানো হলে সমাজের ওপর, বিশেষ করে অল্প বয়সী ছেলে মেয়ে এবং বাচ্চাদের মনে অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। জীবনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার পরিবর্তে মৃত্যুকে সমাধান হিসেবে দেখানোটা ভুল বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। যেহেতু ধারাবাহিক একটি পারিবারিক শো তাই সেটা সব বয়সী মানুষরাই দেখে থাকে।

এর আগেও এই ধারাবাহিকে কমলিনীর বড় ছেলের আত্মহত্যার ঘটনা দেখানো হয়েছে। তার কয়েক মাস পরেই আবারো বাবিলের আত্মহত্যার ঘটনা তুলে ধরা হলো। বারংবার একই ধারাবাহিকে এই ধরনের ঘটনা দেখানো হচ্ছে বলে ধারাবাহিকের দর্শকেরাও বেশ অসন্তুষ্ট এবং বিরক্ত হচ্ছে ধারাবাহিকটির উপর। কারণ ধারাবাহিকে বাস্তব জীবনের কিছু ঘটনা তুলে ধরা হয় আবার অনেকেই এই ধারাবাহিক দেখেই ইনফ্লুয়েন্স হয়ে থাকে। তাই ধারাবাহিকে এমন কোন ঘটনা দেখানো উচিত না যা সমাজকে খারাপ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।

দর্শকদের মতে, একটি পারিবারিক ধারাবাহিকে যেখানে সব বয়সের মানুষ একসাথে বসে টিভি দেখেন, সেখানে বারবার মৃ’ত্যুকে জীবনের সমাধান হিসেবে তুলে ধরা সমাজে অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। অনেক অনুরাগী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব হয়ে জানিয়েছেন যে, এই ধরনের দৃশ্য মানসিকভাবে দুর্বল ব্যক্তিদের ওপর কুপ্রভাব ফেলতে পারে এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে খারাপ উদাহরণ তৈরি করতে পারে। দর্শকদের দাবি, নির্মাতাদের উচিত এইসব চিন্তার বদলে চরিত্রদের লড়াই এবং ইতিবাচক মানসিকতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা দেখানো, যা সমাজকে সঠিক পথ দেখাবে।

আরও পড়ুনঃ ‘সবটা অন্ধকার হয়ে গেল, আর আমি সেই…’ মৃ’ত্যুর হাতছানি! সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা নিজেই বললেন দেবলীনা নন্দী!

Disclaimer: এই সংবাদ প্রতিবেদনে প্রকাশিত সংবাদটি তৃতীয় ব্যাক্তি বা নির্দিষ্ট কোন‌ও পক্ষের মন্তব্যের ওপর ভিত্তি করে লেখা হয়েছে। BinodonXP.com এই মন্তব্যগুলি সঠিক কিনা তা যাচাই করেনি। এই প্রতিবেদনে যে বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে তার দায়ভার সম্পূর্ণভাবে সেই ব্যাক্তি বা পক্ষের। আমরা কোন‌ও বক্তব্যের জন্য দায়ী নই, কাউকে আঘাত করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়।

Back to top button