‘সবটা অন্ধকার হয়ে গেল, আর আমি সেই…’ মৃ’ত্যুর হাতছানি! সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা নিজেই বললেন দেবলীনা নন্দী!

গত কয়েক ঘণ্টায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জনপ্রিয় গায়িকা দেবলীনা নন্দী। লাইভ ভিডিওতে নিজের ব্যক্তিগত যন্ত্রণা প্রকাশ করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তে সকলকে স্তব্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় এবং অনুরাগীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে গভীর উদ্বেগ। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই দেবলীনাকে নিয়ে আশার খবর দেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু সায়ক। তিনি জানান, সঠিক সময়েই দেবলীনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই স্থিতিশীল।
এরপর সায়কের দ্বিতীয় ব্লগে দেবলীনা নিজেই মুখ খুললেন গত রাতে ঘটে যাওয়া সমস্ত ঘটনার বিষয়ে। ভিডিও শুরু হতেই দেবলীনার কণ্ঠে শোনা যায় অসীম হতাশা ও ক্ষোভ। তিনি বলেন, তিনি অর্ধেক কোনও কাজ করতে চাননি বরং সবকিছু শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই কথা শুনে সায়ক তাঁকে কঠোর স্বরে বোঝান যে ভগবান তাঁকে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছেন এবং সেই সুযোগকে সম্মান করতেই হবে। এই কথোপকথন শুনে স্পষ্ট বোঝা যায়, কতটা মানসিক ভাঙনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন দেবলীনা।
গত রাতের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে দেবলীনা জানান, ঘুমের ওষুধ খাওয়ার পরেই তাঁর চোখের সামনে অন্ধকার নেমে আসে। ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন যে আর কিছুই দেখতে পাচ্ছেন না। এক মুহূর্তে তাঁর মনে হয়েছিল স্বামী প্রবাহকে মেসেজ করবেন কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই মনে হয় সেই মেসেজের কোনও উত্তর তিনি পাবেন না। তখনই তিনি সায়ককে মেসেজ করে লেখেন যে তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়েছেন এবং আদৌ বাঁচবেন কি না। সেই মেসেজ দেখেই সায়ক আর এক মুহূর্ত দেরি না করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন।
সায়কের ব্লগে দেবলীনা আরও জানান, গত দেড় বছরে তিনি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। মা সংসার এবং কাজ এই তিনের চাপ সামলাতে সামলাতে তিনি নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছেন বলে জানান গায়িকা। একসময় তিনি নিজেকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন তারপর গান আর তারপর মাকে। কিন্তু বিয়ের পর সেই তালিকায় পরিবর্তন এসেছে। এখন তাঁর জীবনে সবার আগে স্বামী তারপর মা তারপর গান আর সবশেষে তিনি নিজে। এই উপলব্ধি তাঁকে আরও বেশি কষ্ট দিয়েছে বলে জানান দেবলীনা।
আরও পড়ুনঃ প্রচণ্ড শীতে পথপ্রাণীদের নীরব লড়াই! নিরীহ অবলা প্রাণীদের জন্য শ্রীলেখা-তথাগতর মিলিত উদ্যোগ! কি করলেন তারা?
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে সাত পাকে বাঁধা পড়েন দেবলীনা ও প্রবাহ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের বিভিন্ন ভিডিও থেকেই বোঝা যায় শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে মানিয়ে চলার চেষ্টা করতেন দেবলীনা। তবে মায়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শ্বশুরবাড়ির অনেকেরই পছন্দ ছিল না বিশেষ করে স্বামীর। এই টানাপোড়েন এবং মানসিক চাপই শেষ পর্যন্ত দেবলীনাকে চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয় বলে মনে করছেন অনেকে। এখন সকলের একটাই প্রার্থনা গায়িকা যেন দ্রুত মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।

