‘একদম মিথ্যে বলবেন না…’ কার উদ্দেশ্যে এমন বললেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়? ‘ওটাই ছিল আমার জীবনের সোনালী সময়!’- কোন সময়ের কথা বলেছেন অভিনেতা?

টলিউডের (Tollywood) পরিচিত মুখ এবং বর্তমান সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় (Bhaswar Chatterjee) তাঁর দীর্ঘ অভিনয় জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও দর্শনের মাধ্যমেও দর্শকদের অনুপ্রাণিত করে চলেছেন। সম্প্রতি তাঁর ইউটিউব চ্যানেল ‘Bhaswar Devdeep’s Soul talk’-এ এক বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে তিনি জীবনের জটিল সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার পথ দেখিয়েছেন। শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, একজন ইতিবাচক চিন্তার মানুষ হিসেবে তিনি সাধারণ মানুষের মনে জমে থাকা ভয় দূর করতে নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। তাঁর এই নতুন উদ্যোগ মূলত জ্যোতিষশাস্ত্র এবং আধ্যাত্মিকতার মেলবন্ধনে মানুষের জীবনকে সহজ করে তোলার এক অভিনব প্রচেষ্টা।
সাধারণত সাধারণ মানুষের মধ্যে শনিদেবকে নিয়ে এক ধরণের প্রবল ভীতি কাজ করে। শনির সাড়ে সাতি বা দৃষ্টি পড়লে জীবনের সব ভালো কাজ থমকে যাবে—এমন ধারণা আমাদের সমাজে বদ্ধমূল। তবে ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের এই ভিডিওতে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, শনিদেব মোটেও ভীতিকর কোনো চরিত্র নন, বরং তিনি হলেন ‘কর্মের দেবতা’। অর্থাৎ, মানুষের কর্মফল অনুযায়ী তিনি বিচার করেন। আপনি যদি নিজের কর্মের প্রতি সৎ থাকেন এবং নীতি মেনে চলেন, তবে শনিদেব আপনার জন্য শাস্তির বদলে সাফল্যের দরজা খুলে দেবেন। এই মানসিক পরিবর্তনই জীবনের উন্নতির প্রথম ধাপ।
শনিদেবের আশীর্বাদ পাওয়ার জন্য খুব কঠিন কোনো সাধনার প্রয়োজন নেই, বরং দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য পরিবর্তনই যথেষ্ট। ভিডিওতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শৃঙ্খলার ওপর। প্রতিদিন সকালে তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠা এবং সারাদিনের কাজের একটি নির্দিষ্ট তালিকা মেনে চলা শনিদেবকে তুষ্ট করার অন্যতম সহজ উপায়। এছাড়াও বলা হয়েছে যে, অকারণে মিথ্যা কথা বলার অভ্যাস ত্যাগ করা অত্যন্ত জরুরি। যখন কোনো মানুষ নিয়মমাফিক এবং সত্যের পথে চলেন, তখন শনিদেবের কুপ্রভাব তাঁর ওপর পড়ার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যায়।
মানবিকতা এবং পরোপকার শনিদেবের কৃপা পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করে। ভাস্বর এবং তাঁর সহ-বক্তা দেবদ্বীপ ভিডিওতে জানিয়েছেন যে, আর্তমানবতার সেবা বা অভাবী মানুষদের সাহায্য করলে শনিদেব অত্যন্ত প্রসন্ন হন। রাস্তাঘাটে থাকা অসহায় মানুষদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো এবং তাঁদের সামর্থ্য অনুযায়ী খাদ্য বা বস্ত্র দান করা একটি শক্তিশালী প্রতিকার হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে যাদের শনির দশা বা সাড়ে সাতি চলছে, তাদের জন্য প্রতি শনিবার শনি মন্দিরে গিয়ে ভক্তিভরে পুজো দেওয়া এবং সরষের তেল নিবেদন করা অত্যন্ত শুভ। নীল রঙের পোশাক বা সামগ্রী দান করাকেও এখানে বিশেষ ফলদায়ক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ওর কাছে গিয়ে বলার মতো কিছুই অবশিষ্ট ছিল না!’ রাহুলের ‘সহজ কথা’য় কেন কখনও যাননি প্রিয়াঙ্কা? দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে আসল কারণ জানালেন অভিনেত্রী!
পরিশেষে, এই ভিডিওটির মূল বার্তা হলো ভয়ের বদলে ভক্তি এবং কুসংস্কারের বদলে কর্মে বিশ্বাস রাখা। সাড়ে সাতির মতো কঠিন সময়কে ভয় না পেয়ে বরং সেই সময়টিকে নিজের ভুল সংশোধন এবং আত্মোন্নতির সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। বক্তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, আমরা যদি আমাদের চিন্তাধারা পজিটিভ রাখি এবং আধ্যাত্মিক পথে নিজেকে চালিত করি, তবে গ্রহ-নক্ষত্রের বিরূপ প্রভাব কাটিয়ে ওঠা অসম্ভব নয়। শনিদেবকে একজন কঠোর শিক্ষক হিসেবে কল্পনা করে তাঁর নির্দেশিত পথে চললে যে কোনো মানুষই মানসিক শান্তি ও বৈষয়িক উন্নতি লাভ করতে সক্ষম হবেন।

