একদিকে দুশ্চরিত্র, পরনারী আসক্ত অনির্বাণ! অন্যদিকে সৎ, স্ত্রীর প্রতি কর্তব্যপরায়ণ একলব্য! দুই নায়কের বিপরীত চরিত্র কি আসলেই পুরুষ জাতির দুই সংজ্ঞা?

ধারাবাহিক (Television Serial) হলো বর্তমান সময়ে আমাদের প্রতিদিনের জীবনের একটা অংশ। ধারাবাহিকগুলি রয়েছে বলেই প্রতিদিনের একেঘেয়ে জীবন থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। বিনোদন জগতের (Entertainment world) অনেকটা জুড়েই রয়েছে এই ধারাবাহিকগুলি। প্রতিদিনের বিনোদন বলতে তো আমরা এই ধারাবাহিক গুলি বুঝি। কয়েক দশক ধরে ধারাবাহিকগুলি দর্শকদের মন জয় করে আসছে। বর্তমানে তো বিভিন্ন ধরনের ধারাবাহিক দেখানো হয় একাধিক চ্যানেলের মাধ্যমে।
আমাদের বাস্তব জীবনে চারিপাশে যে ধরনের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনা গুলোই নাটকীয় ভঙ্গিতে ফুটিয়ে তোলা হয় ধারাবাহিকের মাধ্যমে। ধারাবাহিকে আমরা যে সমস্ত চরিত্র দেখতে পাই সে সমস্ত চরিত্রের মানুষ আমাদের আশেপাশেই ঘোরাফেরা করে প্রতিনিয়ত। আর তাদেরই ধারাবাহিকের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়। সেরকমই প্রতিটি ধারাবাহিকের নায়কের চরিত্রের মধ্যে কিছু বিশেষত্ব রয়েছে। যেগুলো একে অপরের থেকে তাদেরকে আলাদা করে দর্শকের সামনে তুলে ধরে।
যেমন কোন ধারাবাহিক আমরা নায়ক চরিত্রকে ভীষণই সৎ সাপোর্টিভ হিসেবে দেখি। আবার এমনও অনেক ধারাবাহিক রয়েছে যেখানে নায়ক চরিত্রটি ভীষণ সন্দেহবাতিক, অত্যাচারী। সেরকমই বাংলা ধারাবাহিক জগতে দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিকের নায়ক চরিত্র একেবারেই বিপরীত। একজন স্ত্রীর প্রতি দায়িত্বশীল, সৎ তো আরেকজনের মনে সন্দেহের পাহাড়।
এখানে কথা বলা হচ্ছে, স্টার জলসার রাঙামতি ধারাবাহিকের একলব্য এবং অন্যদিকে জি বাংলার মিঠিঝোড়ো ধারাবাহিকের অনির্বাণ চরিত্র নিয়ে। রাঙামতি ধারাবাহিকে একলব্যর সাথে রাঙার বিয়ে হওয়ার পর থেকে রাঙার প্রতি সমস্ত রকম দায়িত্ব পালন করেছে একলব্য। আহেরির সাথে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল একলব্যর। আহেরিকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসতো সে। কিন্তু ভালবাসার মানুষকে পায়নি একলব্য। নিয়তির খেলায় রাঙার সাথে বিয়ে হয়েছে তার। কিন্তু বিয়ের পর আহেরি একলব্যকে নিজের করে পাওয়ার চেষ্টা করলেও সে নিজের স্ত্রীর প্রতি সবসময় সৎ থেকেছে। এমনকি আহেরির সঙ্গে নিজের এনগেজমেন্ট ভেঙে দিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গান গাইতে গাইতেই মৃ’ত্যু! স্তম্ভিত দর্শক মহল! কি ছিল আশা ভোঁসলের শেষ হচ্ছে!
আর অন্যদিকে আরেক জনপ্রিয় ধারাবাহিক মিঠিঝোরার অনির্বাণ চরিত্রটি প্রথম থেকে দর্শকের কাছে এতটাই বিরক্তিকর সেটা আর বলে প্রকাশ করার মতো নয়। কারণ অনির্বাণের চরিত্রটি সন্দেহবাতিক। স্ত্রীকে ভুল বোঝা, তাকে সন্দেহ করা, তার কথা বিশ্বাস না করা, তার প্রতি আস্থা না রাখা সমস্ত নেগেটিভিটি ভরপুর এই চরিত্রে। রাইকে যে কতবার অপমান করে সন্দেহ করে তাড়িয়ে দিয়েছে বাড়ি থেকে তার ঠিক নেই। এমনকি নিজের স্ত্রীর উপর অবিশ্বাস করে তাকে ডিভোর্স দিয়ে নিজের প্রাক্তন স্ত্রীকে বিয়ের পর্যন্ত করতে গিয়েছিল অনির্বাণ। তাই এই চরিত্রটি দর্শকের কাছে একেবারেই অসহ্য। এই দুটি চরিত্র আমাদের সমাজের দুই ধরনের পুরুষের মানসিকতা মনোভাব ফুটিয়ে তুলছে। আমাদের আশেপাশে এমন চরিত্রের মানুষ আমরা সবাই দেখেছি।

