‘আমি যদি অভিনয়টা না পারতাম, তাহলে কি পেতাম চরিত্রগুলো?’- রাজনীতির মাঝেই তুলিকার লড়াই! অভিনয় জগতের ভবিষ্যৎ নিয়ে কি বললেন অভিনেত্রী?

তুলিকা বসুর মুখে সেই চেনা মিষ্টি হাসি আজও আছে। হাসলে গালে টোল পড়ে, চোখে ঝিলিক খেলে যায়। কিন্তু কাছ থেকে দেখলে বোঝা যায়, সেই চোখের তারায় জমে আছে দীর্ঘ অপেক্ষার ক্লান্তি আর অনিশ্চয়তার ছায়া। প্রায় আট নয় মাস তাঁর হাতে কোনও কাজ ছিল না। আগাম প্রতিশ্রুতির কথাও ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছিল। সেই সময়েই নিজের অহংকার সরিয়ে রেখে ফোন করতে শুরু করেন তিনি। প্রোডাকশন হাউস থেকে শুরু করে পরিচালক আর বন্ধুদের কাছে নিজেই খোঁজ নিতে থাকেন কাজের।

তুলিকার জীবনের গল্প সহজ নয়। এক সময় যাঁর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল, তিনি ছিলেন নেতাজির পরিবারের সদস্য। কিন্তু সেই সংসার টেকেনি। ছেলেকে নিয়ে আলাদা হয়ে যেতে হয় তাঁকে। তখন নিজের উপার্জন না থাকায় ছোট্ট ছেলেকে কার্শিয়ংয়ের হোস্টেল স্কুলে পাঠানো হয়। কাজের মধ্যে ডুবে গেলেও মনের ভিতরে মায়ের টান বারবার কাঁদিয়ে তুলত তাঁকে। সেই সময়ই উপলব্ধি করেন, নিজের রোজগার শুধু স্বাধীনতার জন্য নয়, সন্তানের কাছে রাখার জন্যও কতটা জরুরি।

অভিনয়ে আসা, তারপর বিরতি, বিয়ে আর মাতৃত্বের পর ফের কাজে ফেরার পথটা সহজ ছিল না। নাটকের দলে যুক্ত হয়ে নিয়তিম নাটকে নিয়মিত অভিনয় করতেন তুলিকা। চন্দন সেনের দলে কাজ করার সময় নানা কানাঘুষোও শোনা গিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তাঁর সোজাসাপ্টা উত্তর, অভিনয়টা না জানলে কি এত চরিত্র পেতেন। একবার সুযোগ মিলতে পারে, কিন্তু কাজ না পারলে তো বাদ পড়তেই হয়। আত্মবিশ্বাসী এই উত্তরেই ধরা পড়ে তাঁর শিল্পীসত্তার দৃঢ়তা।

দীর্ঘ সময় সিনেমা আর টেলিভিশনে কাজ না থাকায় যাত্রার প্রস্তাবকে আপন করে নেন তুলিকা। কাঠের মঞ্চ, সামনে সরাসরি দর্শক, এই পরিবেশ তাঁর চেনা। দেবলোক অপেরার হাত ধরে আমার মা আমার নয় যাত্রাপালায় এখন নিয়মিত অভিনয় করছেন তিনি। প্রথম দিকে দূরে দূরে যাওয়ার ভয় থাকলেও এখন পুরো অভিজ্ঞতাটাই উপভোগ করছেন। অভিনয়ের আনন্দটাই যেন আবার নতুন করে ফিরে পেয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ টলিউডে কাজের পাওয়ার জন্যই কি তৃণমূলে পার্নো মিত্র? অভিনেত্রীর হঠাৎ দল পরিবর্তন নিয়ে বিতর্ক! প্রশ্নের মুখে পর্নো!

এর মাঝেই বৃন্দাবন বিলাসিনী ধারাবাহিকে বিশেষ চরিত্রে কাজ শুরু করেছেন তুলিকা। যাত্রা আর ধারাবাহিক দুটোর মধ্যেই এখন তাঁর দিন কাটছে। একক নাটকের প্রস্তাব পেলেও তিনি বাস্তববাদী। নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নিয়ে বলেন, দলের সঙ্গেই তিনি স্বচ্ছন্দ। জীবনের উত্থান পতনের ভেতর দিয়েই আজকের তুলিকা বসু। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর পরিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও জীবনের এক অধ্যায় মাত্র। অভিনয়টাই তাঁর আসল পরিচয়, লড়াইটাই তাঁর শক্তি।

Back to top button