মৃ’ত্যুর আগে পর্যন্ত উত্তম কুমারের হাত ছাড়েননি সুপ্রিয়া দেবী! তবু মেলেনি স্বীকৃতি! কেমন ছিল সুপ্রিয়া দেবীর জীবন সংগ্রাম!

বাংলা চলচ্চিত্র (Film Industry) জগতে সুপ্রিয়া দেবী (Supriya Devi) ছিলেন সেই সময় বহুল চর্চিত একটি নাম। কৃষ্ণা বন্দ্যোপাধ্যায় বেনু ছিল অভিনেত্রীর আসল নাম। মায়ানমারের জন্মগ্রহণ করেন বেনু। তার বাবা বিখ্যাত আইনজীবী গোপাল চন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, বার্মায় বসবাসরত অনেক ভারতীয় ভারতে চলে আসেন। সুপ্রিয়া দেবীর পরিবার সেই সময় দক্ষিণ কলকাতায় বসবাস শুরু করেন।
খুব অল্প বয়সে অভিনয় জগতে হাতেখড়ি হয়েছিল সুপ্রিয়া দেবীর। তবে অভিনেত্রীর অভিনয় করা তার বাবা মোটেই পছন্দ করতেন না। সেজন্য খুব অল্প বয়সেই ১৯৫৪ সালে, সুপ্রিয়া দেবীর বিয়ে দেন বিশ্বনাথ চৌধুরীর সাথে। আর কয়েক বছর পর তাদের একমাত্র কন্যা সোমা জন্মগ্রহণ করে। বিয়ের পরে চুটিয়ে অভিনয় শুরু করেন অভিনেত্রী। তার অভিনয়তে স্বামীর পূর্ণ সমর্থন ছিল। জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের মধ্যে অন্যতম হলো কলঙ্কিনী কঙ্কাবতী, দেবদাস, বাঘ বন্দী খেলা, সন্ন্যাসী রাজা, চৌরঙ্গী, তিন অধ্যায়, মেঘে ঢাকা তারা ইত্যাদি।

সুপ্রিয়া দেবীর ব্যক্তিগত জীবন
তবে অভিনেত্রীর কর্মজীবন নিয়ে যতটা চর্চা সোশ্যাল মিডিয়াতে হয়েছে, তার থেকেও বেশি অভিনেত্রীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা হয়েছে। একসময় উত্তম কুমারের সঙ্গে একাধিক ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী। উত্তম কুমারের সাথে কিছু হিট সিনেমায় কাজ করার পর, তাদের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক তৈরি হয়। এরপর থেকে তারা অনেক বছর একসাথে বসবাস করেন। উত্তম কুমার সুপ্রিয়া দেবীর বাড়িতে আশ্রয়ের জন্য এসেছিলেন। সমাজ, পরিবার পরিজন কাউকে ভয় না পেয়ে উত্তম কুমারের সঙ্গে শুরু করেছিলেন নতুন জীবন।
উত্তমের নায়িকা হিসেবে ‘উত্তর মেঘ’, ‘সোনার হরিণ’, ‘শুন বরনারী’ ছবিগুলোয় কাজ করেছে সুপ্রিয়া। সুপ্রিয়া দেবী তাঁর স্মৃতিকথা ‘আমার জীবন আমার উত্তম’-এ বলেছেন ১৯৬২ সালের ২রা ডিসেম্বর ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি মেনে বিয়ের বাঁধনে বাঁধা পড়েছিলেন তাঁরা। যদিও গৌরী দেবীর সঙ্গে আইনত বিবাহবিচ্ছেদ না হওয়ায় সেই বিয়ের মান্যতা ছিল না। সুপ্রিয়ার সঙ্গে প্রেম ও সংসার করা নিয়ে প্রিয়জনদের প্রশ্নের মুখেও পড়তে হয়েছিল উত্তম কুমারকে কিন্তু তিনি পিছিয়ে পড়েননি।
আরও পড়ুনঃ দর্শকদের জন্য সুখবর! দীর্ঘ সময় পর ফের ছোটপর্দায় অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেন!
মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মহানায়ক দীর্ঘ ১৭ বছর সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে বসবাস করেন। উত্তম কুমার মারা যান ১৯৮০ সালের ২৪ জুলাই। তারপরে একেবারে একা হয়ে গিয়েছিলেন সুপ্রিয়া দেবী। পরিবারের কেউ তার কোনদিনও খোঁজ নেয়নি সেভাবে। শেষ বয়সটা কেটেছিল ভীষণ কষ্টে এবং একাকিত্বে। এরপর ২০১৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি না ফেরার দেশে চলে যান সকলের প্রিয় সুপ্রিয়া দেবী।

