মোটা টাকার স্যালারির চাকরি ফেলে অভিনয় করতে আসেন! কিন্তু শুনতে হয় ওজন কমালেই অভিনয় করতে পারবেন! তৃণার জীবনের গল্প হার মানাবে সিনেমাকে

বর্তমানে বলিউড ইন্ডাস্ট্রির একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন তৃণা সাহা (Trina Saha)। ছোট পর্দা থেকে কাজ শুরু করলেও এখন তিনি চুটিয়ে কাজ করছেন ছোট পর্দার পাশাপাশি ওয়েব সিরিজে। পর্দার পাশাপাশি তিনি সোশ্যাল মিডিয়াতেও দারুন ভাবে জনপ্রিয়। তার ছবি এবং ভিডিও সেখানে ভক্তদের দ্বারা অত্যন্ত প্রশংসিত হয়। তবে তিনি বর্তমানে একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেও এই যাত্রাটা কিন্তু সোজা ছিল না। নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ছেড়ে শুধুমাত্র নিজের প্যাশনকে নিয়ে এগিয়ে এসেছিলেন তিনি। নিজের উপর অনেক কাজ করেছিলেন তারপরেই এখন তিনি সকলের প্রিয় “গুনগুন”। ছোট পর্দার দর্শকরা তাকে এই নামেই চেনে।

১৯৯৩ সালের ২৭ শে জুন কলকাতায় জন্ম হয় তৃণার। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা নিয়ে তিনি এগিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি এমবিএ সিএ ডিগ্রী পেয়েছেন। টলিউডের আসার আগে তিনি দিল্লিতে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে ভালো মাইনের চাকরি করতেন। কিন্তু সেই কাজে তিনি কখনোই মানসিক শান্তি পাননি। ছোট থেকেই তৃণার ইচ্ছা ছিল কোরিওগ্রাফার অথবা ডিরেক্টর হবেন, নিজের হাতে ছবি তৈরি করবেন। আর নিজের সেই লক্ষ্যর তাগিদেই দিল্লির চাকরি ছেড়ে চলে আসেন কলকাতায়। এবং প্রথম কাজ করতে শুরু করেন অপর্ণা সেনের সঙ্গে। পরিচালকের অবজার্ভার হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন তিনি। তার প্রথম কাজ ছিল ‘আরশিনগর’-এ অবজার্ভার হিসেবে। রুপালি পর্দায় শুরুর প্রথম দিনগুলোতে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে।

দিল্লি থেকে কাজ ছেড়ে চলে আসায় একেবারেই মত ছিল না তার বাবা-মায়ের। কিন্তু আস্তে আস্তে মেয়ের লক্ষ্যকেই মেনে নিতে শুরু করেন তারা। প্রথম কাজ অবজার্ভার হিসেবে হলেও তৃণা চেয়েছিলেন নিজেকে অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে। যার জন্য নিজেকে সেই ভাবে তৈরি করতে শুরু করেন। কিন্তু তার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় তার অতিরিক্ত ওজন। তাকে প্রযোজকরা বলেছিলেন আগে তিনি তার অতিরিক্ত ওজন কমাবেন তারপরেই অভিনয় করতে পারবেন। এরপর সেটাকেই লক্ষ্য করে এগিয়ে গেলেন তৃণা নিজেকে সেই ভাবেই গড়ে তুললেন। তবে তা ছাড়াও তার আরো একটি দুর্বলতা ছিল তিনি হিন্দি মিডিয়ামের স্টুডেন্ট ছিলেন। যার জন্য তাকে বাংলা ভালো করে শিখতে হয়েছিল। সে সময় তাকে একজন বর্ণপরিচয় উপহার দিয়েছিল।

এরপরেই তার প্রথম কাজ করার সুযোগ আসে তার কাছে। স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘খোকাবাবু’তে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করার ডাক পান তিনি। অভিনেতা প্রতীক সেনের বিপরীতে “তরী”র ভূমিকায় অভিনয় করে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তৃনা। কিন্তু শুরুর প্রথমে অনেকেই বলেছিল খুব জোর ৬ মাস চলবে তারপরেই বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু সেই ৬ মাস পরেই রাস্তা দিয়ে তিনি যখন তার মায়ের সঙ্গে হেঁটে যেতেন তাকে লোকে খোকার বউ বলেই চিনতো। আর এটাই ছিল তার সবচেয়ে বড় সাফল্য যে তিনি আস্তে আস্তে বাংলার দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে পেরেছিলেন।

তারপর থেকেই একের পর এক জনপ্রিয় ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেছে তৃনাকে। খোকাবাবুর পরে তিনি অভিনয় করেন ‘কলের বউ’ সেখানে তার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন অভিনেতা রোহান ভট্টাচার্য। এরপর তিনি আবার ফিরে আসেন লিনা গাঙ্গুলির জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘খরকুটো’তে সেখানে তার চরিত্র “গুনগুন” অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে দর্শক মহলে। এই ধারাবাহিকে তার বিপরীতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল অভিনেতা কৌশিক রায়কে। সম্প্রতি তাকে আরও একটি নতুন ধারাবাহিকে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যার নাম ‘বালিঝড়’। কিছুদিন আগেই ওয়েভ সিরিজে কাজ করেছেন তিনি। হৈচৈ- এ সেই ওয়েব সিরিজের নাম ‘গভীর জলের মাছ’।

Bengali industry

দু বছর আগে অভিনেতা নীল ভট্টাচার্যকে বিয়ে করেন তিনি। এই মুহূর্তে টলিউডের অত্যন্ত জনপ্রিয় জুটি হল নীল তৃণা। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাদেরকে বহুবার একসঙ্গে দেখা যায় আর ভক্তরা তাদেরকে সুন্দর সুন্দর মন্তব্যে ভরিয়ে দেয়। অবশ্য কিছুদিন আগে জল্পনা উঠেছিল যে তাদের দুজনের সম্পর্কে নাকি ভাঙ্গন ধরেছে কিন্তু সেই জল্পনাকে নিজেদের দ্বিতীয় বিবাহ বার্ষিকীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় একে অপরের পোষ্ট দিয়ে শুভেচ্ছা বার্তা জানিয়ে উড়িয়ে দেন তারা। তৃণাকে দেখলেই বোঝা যায় নিজের ভালোবাসা এবং ইচ্ছাকে দমিয়ে না রেখে সেটার পিছনে কষ্ট করলেই তবে জীবনে সাফল্য আসে তা তিনি প্রতিটা পদে পদে প্রমাণ করেছেন।

Back to top button