শারীরিক যন্ত্রণা থেকে মানসিক লড়াই! অবসাদ পেরিয়ে নতুন আলোয় সৌমিতৃষা! হঠাৎ কি হয়েছিল অভিনেত্রীর?

টেলিভিশনের জনপ্রিয় ধারাবাহিক মিঠাই এর মাধ্যমে ঘরে ঘরে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন সৌমিতৃষা কুন্ডু। সেই সাফল্যের রেশ ধরে বড় পর্দায় দেবের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ এবং পরে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কালরাত্রি সিরিজে প্রশংসিত অভিনয় তাঁকে পৌঁছে দেয় কেরিয়ারের নতুন উচ্চতায়। আপাতদৃষ্টিতে সব কিছু নিখুঁত মনে হলেও, এই উজ্জ্বলতার আড়ালেই জমে উঠছিল এক গভীর অন্ধকার। শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে করতে ধীরে ধীরে মানসিক অবসাদ গ্রাস করেছিল নায়িকাকে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময়ের কথা খোলাখুলি ভাগ করে নিলেন তিনি।

সৌমিতৃষার কথায়, তিনি কখনও মনবিদের শরণাপন্ন হননি, তবে শারীরিক সমস্যাই তাঁর মানসিক অবস্থাকে ভেঙে দিয়েছিল। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে না পারা, বিছানা থেকে উঠলেই তীব্র কোমর ব্যথা, কিডনি স্টোনের মতো একাধিক জটিলতা তাঁকে কার্যত গৃহবন্দি করে রেখেছিল। বাইরে বেরোনো, সাজগোজ করা বা স্বাভাবিক সামাজিক জীবনযাপন সব কিছুই থমকে গিয়েছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল কাজের চাপ এবং সুযোগ হারানোর যন্ত্রণা। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট শারীরিক সমস্যার কারণে ছাড়তে হয়েছিল তাঁকে।

একটি ছবির প্রস্তাব ছিল যেখানে হারনেস ব্যবহার করে অভিনয় করতে হত, কিন্তু সেই সময় শরীর সায় দেয়নি। সেই সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার কষ্ট আজও মনে দাগ কেটে আছে তাঁর। এই সব মিলিয়ে সৌমিতৃষার মনে বারবার প্রশ্ন জাগত, কেন বারবার তাঁর সঙ্গেই এমন হচ্ছে। কেন ঠিক হয়ে উঠছে না পরিস্থিতি। এই ভাবনাগুলিই ধীরে ধীরে তাঁর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল এবং অবসাদের জন্ম দিয়েছিল। তবে সেই অন্ধকারেই নিজেকে হারিয়ে ফেলেননি তিনি।

নিজের স্বভাবসিদ্ধ ইতিবাচক মানসিকতার জোরেই সৌমিতৃষা ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে নেন। তিনি জানান, নেতিবাচকতা তাঁকে বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারে না। সেই সময় নিজেকে ব্যস্ত রাখতে এবং মন ভালো রাখার জন্য নতুন কিছু শেখার কথা ভাবেন তিনি। সেখান থেকেই আসে বেকিং শেখার সিদ্ধান্ত। খেতে ভালোবাসেন এবং রান্না করতে আগ্রহী সৌমিতৃষা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ধীরে ধীরে এই শখকে বাস্তবে রূপ দেন।

আরও পড়ুনঃ দেবলীনাকে দেখতে হাসপাতালে হাজির মদন মিত্র! ‘এখন সবচেয়ে জরুরি হলো…’ গায়িকার অবস্থা দেখে কি বললেন তিনি?

বাড়ির গৃহসহায়িকার সাহায্য, একজনের ক্যামেরা ধরা আর নিজের ইচ্ছাশক্তি মিলিয়েই বেকিং হয়ে ওঠে তাঁর মানসিক থেরাপি। নতুন কিছু তৈরি করার আনন্দ, নিজের কাজকে ক্যামেরাবন্দি করার উত্তেজনা এবং সৃজনশীলতার মধ্যে ডুবে থেকেই তিনি জয় করেন অবসাদকে। আজ সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়ে সৌমিতৃষা প্রমাণ করলেন, কঠিন সময় এলেও নিজের ভিতরের শক্তিকেই ভরসা করে আবার আলোয় ফেরা সম্ভব।

Back to top button