নিঃশ্বাস নিতে পারতেন না মা, ছিলনা কথা বলার ক্ষমতা! প্রতি মাসে মায়ের ওষুধেই লেগে যেত এক লক্ষ টাকা! তবুও ছাড়েননি হাল! মাকে হারিয়ে কেমন আছেন অভিনেত্রী সোহিনী সান্যাল?

ধারাবাহিক জগতে (Bengali Serial) এমন অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী রয়েছেন যারা সবসময় আমাদের কাছে প্রিয়। তাদের অভিনয় আমাদের বরাবরই পছন্দের। সে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করলেও অভিনেতা অভিনেত্রীদের আমরা কখনোই ভুলতে পারি না। সেরকমই একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হলেন সোহিনী সান্যাল (Sohini Sanyal)।
বাংলা টেলিভিশনের পর্দায় একাধিক জনপ্রিয় ধারাবাহিকের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহিনী। কখনো ননদ, শাশুড়ি, মা, কাকিমা, জেঠিমা নানান চরিত্র দেখা গিয়েছে তাকে। এই ধরনের সব চরিত্রেই সাবলীলভাবে অভিনয় করেছেন সোহিনী। আর বরাবরই তাকে পজিটিভ চরিত্রে দেখে এসেছেন দর্শক।
অভিনেত্রীর অভিনয় বরাবরই দর্শকদের ভীষণই পছন্দের। কিন্তু জানেন কতটা স্ট্রাগল করে অভিনেত্রীকে টিকে থাকতে হয়েছে অভিনয় জগতে, কত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে কত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে তাকে। অভিনেত্রী জানিয়েছেন একটা সময় তার অসুস্থ মায়ের পেছনে প্রায় প্রতিদিন ৯৬ হাজার টাকা খরচা করতে হতো। জানিয়েছেন নিজের জীবনের সেই সমস্ত চড়াই উৎরাইয়ের গল্প।
আরও পড়ুনঃ ৭৭ বছর বয়সে থমকালো জীবন! শেষ জীবনের পথচলা! পৃথিবীকে চির বিদায় জানিয়ে হারিয়ে গেলেন জনপ্রিয় অভিনেতা!
অভিনেত্রী জানিয়েছেন ১৫ বছর ধরে তিনি অভিনয় জগতে রয়েছেন। কিন্তু এই ১৫ বছরে তিনি নিজের জন্য একটা দিনও ছুটি নেননি। শুধুমাত্র নিজের মাকে সুস্থ করে তুলবেন বলে। মায়ের পেছনে প্রতিদিন ৯৬ হাজার টাকা খরচা করতে হতো তাকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা করা যায়নি মাকে হারান সোহিনী। অভিনেত্রী বলেন ‘মা বেঁচে থাকতে যতটা কষ্ট পাচ্ছিলেন হয়তো মৃত্যুর পরে সেই সব কষ্ট কেটে গেছে’, এমনটাই ধারণা অভিনেত্রী।
অভিনেত্রী বলেন ‘মা বেঁচে থেকে যতটা শারীরিক এবং মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিল। শরীর থেকে আত্মা বেরিয়ে যাবার পর হয়তো সে শারীরিক যন্ত্রণার মধ্যে আর নেই তাই তিনি এখন ভালো আছেন।’ বর্তমানে অভিনয় জগতে টিকে থাকা মুখের কথা নয়। প্রতিদিন নিত্য নতুন মুখ আসছে অভিনয়ের জন্য। তাই টিকে থাকার লড়াইটা খুব একটা সহজ নয়। কিন্তু এই লড়াইয়ের মাঝেও অভিনেত্রী নিজের দক্ষ অভিনয়ের সাহায্যে টিকে দেখেছেন লড়াইয়ের ময়দানে। দিদি নাম্বার ওয়ানের মঞ্চে এসে অভিনেত্রী নিজের এই স্ট্রাগলের গল্প সকলের সাথে ভাগ করে নিয়েছিলেন।

