‘মা হাসপাতালে ভর্তি, আর আমি ক্যামেরার সামনে…’ ‘দুবছর বসেই ছিলাম…’ হাসির আড়ালে লুকিয়ে নিদারুণ য’ন্ত্রণা! জীবনের কঠিন সময়ে পাশে ছিল না কেউ! ফেলে আসা কষ্টের মুহুর্তগুলো ভাগ করে নিলেন শ্রীপর্ণা রায়!

ছোটপর্দার দর্শকদের কাছে অত্যন্ত পরিচিত মুখ শ্রীপর্ণা রায় (Shriparna Roy)। ‘আঁচল’-এর টুসু হোক কিংবা ‘কড়ি খেলা’-র পারমিতা, প্রতিটি চরিত্রেই তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন সহজ অভিনয়ে। মাঝেমধ্যে পর্দা থেকে দূরে থাকলেও বর্তমানে আবার নতুনভাবে ফিরে এসেছেন তিনি। স্টার জলসার জনপ্রিয় ধারাবাহিক লক্ষ্মী ঝাঁপি (Lokkhi Jhapi)-তে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করলেও তাঁর উপস্থিতি নজর কাড়ছে দর্শকদের।
তবে পর্দায় যাঁকে সবসময় হাসিখুশি দেখা যায়, তাঁর জীবনের বাস্তব গল্প কিন্তু অনেকটাই আলাদা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের কঠিন সময়ের কথা শেয়ার করেছেন শ্রীপর্ণা। তিনি জানান, এমন এক সময় এসেছে যখন তাঁর মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরিবারে একমাত্র সন্তান হওয়ায় সেই কঠিন পরিস্থিতিতে সব দায়িত্ব নিজের কাঁধেই নিতে হয়েছিল তাঁকে।
অভিনেত্রীর কথায়, সেই সময়টা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। হাসপাতালে বসেই স্ক্রিপ্ট মুখস্থ করা, আবার সেখান থেকেই শুটিংয়ে যাওয়া—সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাকে আর বাঁচানো যায়নি। এই শোক তাঁকে ভেঙে দিলেও বাইরে থেকে নিজেকে শক্ত রেখেই কাজ করে যেতে হয়েছে। কারণ, তাঁর কথায়, অভিনয় জগতে নিজের আবেগ লুকিয়ে রেখে হাসিমুখে দাঁড়ানোই পেশার অংশ।
শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, পেশাগত জীবনেও কম লড়াই করতে হয়নি তাঁকে। একটি ধারাবাহিক থেকে মাঝপথেই তাঁকে বাদ দেওয়া হয় এই যুক্তিতে যে তাঁর জন্য নাকি টিআরপি বাড়ছে না। এমন অভিজ্ঞতা যে কতটা কষ্টের, তা অকপটে স্বীকার করেছেন অভিনেত্রী। পরে অন্য একটি প্রযোজনা সংস্থা থেকে কাজের সুযোগ পেলেও, ব্যক্তিগত কারণে সেই কাজ তিনি নিজেই ফিরিয়ে দেন, যা পরে আর বাস্তবায়িত হয়নি।
সব প্রতিকূলতার মাঝেও শ্রীপর্ণার বিশ্বাস অটুট রয়েছে ভাগ্যের ওপর। তাঁর মতে, জীবনে যা পাওয়ার, তা কোনও না কোনওভাবে ঠিকই ফিরে আসে। তাই তিনি সব কষ্ট পেছনে ফেলে নতুনভাবে এগিয়ে চলেছেন। পর্দার সামনে তাঁর হাসি যতটা সহজ, তার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অদম্য লড়াই আর দৃঢ় মানসিকতার এক অনন্য গল্প, যা অনুপ্রেরণা জোগায় অনেককেই।

