স্মৃতিরা বেঁচে থাকে ভালোবাসায়! বন্ধু পল্লবীর শূন্যতা ঢাকতে তাঁর মা-বাবার পাশে সায়ক! প্রয়াত অভিনেত্রী পল্লবীর বাড়িতে উপহার নিয়ে হাজির প্রিয় বন্ধু সায়ক!

টলিউড (Tollywood) তথা বাংলা টেলিভিশন জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন অভিনেত্রী পল্লবী দে (Pallavi Dey)। বিশেষ করে ‘আমি সিরাজের বেগম’ ধারাবাহিকে লুৎফুন্নিসা বেগমের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি আপামর বাঙালির ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। হাওড়ার মেয়ে পল্লবী ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তাঁর ক্যারিয়ারের গ্রাফ ছিল উর্ধ্বমুখী। ‘রেশম ঝাঁপ’, ‘কুঞ্জছায়া’, ‘সরস্বতীর প্রেম’ এবং সবশেষে ‘মন মানে না’-র মতো একাধিক জনপ্রিয় মেগা সিরিয়ালে তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছিল। কিন্তু ২০২২ সালের এক অভিশপ্ত রবিবার সকালে গড়ফার ফ্ল্যাট থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়, যা স্তব্ধ করে দিয়েছিল বিনোদন জগতকে।

পল্লবীর এই আকস্মিক প্রয়াণে যে ক’জন মানুষ সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী। ‘আমি সিরাজের বেগম’ ধারাবাহিকের সেট থেকেই তাঁদের বন্ধুত্বের শুরু। অনস্ক্রিন সহকর্মী থেকে তাঁরা হয়ে উঠেছিলেন অফস্ক্রিন প্রিয় বন্ধু। সায়কের ইউটিউব ভ্লগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আড্ডায় পল্লবীর উপস্থিতি ছিল নিয়মিত। সায়ক বরাবরই বলে এসেছেন, পল্লবী ছিলেন চনমনে প্রাণের এক মানুষ। তাঁদের এই নিটোল বন্ধুত্ব ইন্ডাস্ট্রি ও সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকের কাছেই ছিল অনুপ্রেরণা।

পল্লবী আজ শারীরিকভাবে নেই, কিন্তু তাঁদের সেই অটুট বন্ধুত্বকে আজও বয়ে নিয়ে চলেছেন সায়ক। সাধারণত দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের বন্ধুত্বের স্মৃতি ফিকে হয়ে যায়, কিন্তু সায়কের ক্ষেত্রে তা হয়নি। পল্লবীর মৃত্যুর পর থেকে তাঁর পরিবারের পাশে ছায়ার মতো থেকেছেন তিনি। বিশেষ করে অভিনেত্রীর বাবা-মায়ের সঙ্গে সায়কের যোগাযোগ আজও অত্যন্ত গভীর। বন্ধু নেই তো কী হয়েছে, বন্ধুর মা-বাবাকে নিজের পরিবারের মতোই আগলে রেখেছেন এই তরুণ অভিনেতা।

সম্প্রতি সায়ক পৌঁছে গিয়েছিলেন পল্লবীর রামরাজাতলার বাড়িতে। সেখানে অনেকটা সময় কাটান পল্লবীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। শুধু দেখা করাই নয়, পরিবারের সকলের জন্য ছোট ছোট উপহারও নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সেই উপহারের চেয়েও বড় ছিল তাঁর দেওয়া সময় এবং আন্তরিকতা। পল্লবীর মা-বাবার সঙ্গে বসে অনেক পুরনো কথা বলেন, ভাগ করে নেন নিজেদের স্মৃতিচারণ। সায়কের এই উদ্যোগ আবারও প্রমাণ করে দিল যে, মৃত্যু কেবল শরীরকে কেড়ে নিতে পারে, আত্মিক টানকে নয়।

আরও পড়ুনঃ ‘সারেগামাপা আমাকে নাম দিয়েছে, কিন্তু…’ ‘ওনার কথা বলতে গেলেই চোখে জল চলে আসে…’ ‘৯ ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েছি, এই রিয়ালিটি শো আমাকে গান শেখায়নি বরং…!’ সারেগামাপা এর মঞ্চ থেকে জীবনের লড়াই! অকপটে পৌষালী ব্যানার্জি!

ইন্ডাস্ট্রির ব্যস্ততার মাঝেও পুরনো বন্ধুর পরিবারের প্রতি এই টান দেখে আপ্লুত অনুরাগীরাও। সায়ক চক্রবর্তী বুঝিয়ে দিলেন, অভিনয় জগতের কৃত্রিমতার বাইরেও কিছু সম্পর্ক থাকে যা অত্যন্ত খাঁটি। পল্লবীর স্মৃতি আজও তাঁর কথায় ও কাজে জীবন্ত। সায়কের কথায়, ‘পল্লবী আমার বন্ধুর থেকেও বেশি কিছু ছিল, ও আমার পরিবারের অংশ।’ বন্ধুর বাড়ির জানলায় দাঁড়িয়ে বা তাঁর প্রিয় কোনো কোণে বসে আজও সায়ক খুঁজে ফেরেন সেই হারানো হাসিটা।

Back to top button