সংসার টানতে মায়ের হাড়ভাঙা খাটুনি! নিজে না খেয়ে ছেলের মুখে খাবার তুলে দিয়েছেন মা! আজ সেই মায়ের মুখের হাসিতেই সার্থক সায়ক চক্রবর্তীর জীবন!

টলিউডের (Tollywood) পরিচিত মুখ এবং জনপ্রিয় অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তী (Sayak Chakraborty) শুধু তার অভিনয়ের জন্যই নয়, বরং তার ব্যক্তিজীবনের মূল্যবোধ এবং মায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসার জন্যও দর্শকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। সায়কের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল অনেক ছোটবেলা থেকে। ‘সাধক বামাক্ষ্যাপা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে শিশুশিল্পী হিসেবে তার যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীকালে ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’, ‘মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য’ এবং ‘মহাপীঠ তারাপীঠ’-এর মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তার অভিনয় দক্ষতা তাকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি ইউটিউব ভ্লগার হিসেবেও তিনি এখন সমান জনপ্রিয়।

সায়কের সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প, যার মূলে রয়েছেন তার মা রেখা চক্রবর্তী। সায়কের শৈশব খুব একটা মসৃণ ছিল না মধ্যবিত্ত পরিবারে আর্থিক অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। অভিনেতা নিজেই বিভিন্ন সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে, একসময় তাদের দুই ভাইকে বড় করতে তার মাকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। এমনকি সংসারের অভাব মেটাতে মা তার শেষ সম্বলটুকু, এমনকি গায়ের শেষ রূপোর আংটি পর্যন্ত বিক্রি করে দিয়েছিলেন। মায়ের সেই আত্মত্যাগ সায়কের মনে গভীর রেখাপাত করেছে, যা তাকে আজ একজন দায়িত্বশীল সন্তান হিসেবে গড়ে তুলেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘সোনা দিয়ে মুড়িয়ে দেবো…’ ‘টালিগঞ্জকে শুধু ট্রেড নয়, পূর্ণাঙ্গ ইন্ডাস্ট্রি বানিয়ে ছাড়ব!’ সিনেমার পাশাপাশি যাত্রা-থিয়েটারেও সুদিন ফিরবে? সোনার টালিগঞ্জ গড়ার লক্ষ্য পাপিয়া অধিকারীর!

মায়ের প্রতি সায়কের নির্ভরশীলতা এবং তাকে আগলে রাখার প্রচেষ্টা সত্যিই অনুপ্রেরণামূলক। সায়ক সবসময় মনে করেন, তিনি আজ যা কিছু অর্জন করেছেন তার সবটাই মায়ের আশীর্বাদ। বর্তমানে সায়ক টলিউডের ব্যস্ত অভিনেতা এবং ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে সফল, আর এই সফলতার প্রতিটি ধাপ তিনি মায়ের সাথে উদযাপন করেন। একবার জমি কেনার সময় মায়ের চোখের আনন্দ দেখে সায়ক আবেগপ্রবণ হয়ে লিখেছিলেন যে, নেশা বা বাজে কাজে টাকা নষ্ট না করে বাবা-মায়ের জন্য কিছু করার আনন্দই আলাদা। মাকে সবসময় খুশিতে রাখা এবং তার হারানো দিনগুলো ফিরিয়ে দেওয়াই এখন সায়কের প্রধান লক্ষ্য।

Sayak Chakraborty, Tollywood, Actor, Bengali Television, Bengali Serial, সায়ক চক্রবর্তী, অভিনেতা, বাংলা টেলিভিশন, বাংলা সিরিয়াল

উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে সায়ক কোনো কার্পণ্য করেন না। ছোটবেলায় যখন অভাব ছিল, তখন দুই ভাই মিলে টাকা জমিয়ে মায়ের জন্য কেক কিনতেন। আর আজ যখন সায়ক স্বাবলম্বী, তিনি মায়ের হারানো সব গয়না ফিরিয়ে দিয়েছেন। এমনকি মায়ের জন্মদিনে শুধু তাকেই নয়, বরং বৃদ্ধাশ্রমের মায়েদের সঙ্গেও সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেন তিনি। সায়কের মতে, তার মা যখন তার গয়না বিক্রি করেছিলেন, তখন তিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন যে একদিন সব ফিরিয়ে দেবেন। আজ মায়ের আলমারি শাড়িতে পূর্ণ এবং গয়নায় উজ্জ্বল, যা সায়কের কাছে সবচেয়ে বড় জয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় মা-বাবাকে নিয়ে কোনো কটাক্ষ সায়ক একদমই সহ্য করেন না। একবার তার বাবা-মায়ের পোশাক নিয়ে এক নেটিজেন কুরুচিকর মন্তব্য করলে সায়ক কড়া ভাষায় তার জবাব দিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, যারা অনেক কষ্ট করে সন্তানদের মানুষ করেছেন, তাদের অপমান করার অধিকার কারো নেই। নিজের ক্যারিয়ার এবং ব্যক্তিজীবন সব ক্ষেত্রেই মা-ই সায়কের পৃথিবী। মায়ের ওপর এই অসীম নির্ভরশীলতা এবং তাকে রাজকীয়ভাবে আগলে রাখা সায়ক চক্রবর্তীকে আজকের প্রজন্মের কাছে এক আদর্শ সন্তানের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে।

Back to top button