‘বাইরে এসো ক্যা’লাবো…’- অডিশন দিতে গিয়ে সরাসরি হুমকি শঙ্কর চক্রবর্তীর! কার উদ্দেশ্যে এমন কথা বলেছিলেন অভিনেতা?

টলিউডের (Tollywood) অন্যতম দাপুটে এবং জনপ্রিয় বর্ষীয়ান অভিনেতা হলেন শঙ্কর চক্রবর্তী (Sankar Chakraborty)। ছোট পর্দা তো বটেই বড় পর্দাতেও জমিয়ে কাজ করেছেন তিনি। বর্তমানে আমরা অভিনেতাকে দেখতে পাচ্ছি জি বাংলার মিত্তির বাড়ি ধারাবাহিকে অভিনয় করতে। মাঝে ধারাবাহিক জগৎ থেকে বেশ কিছুদিন বিরতি নিয়েছিলেন অভিনেতা। ২০২২ সালে অভিনেতার স্ত্রী মারা যান তারপরই অভিনেতার জীবন যেন একেবারে থমকে গিয়েছিল। তারপর অভিনেতাকে দেখা গিয়েছিল জি বাংলার মিত্তির বাড়ি ধারাবাহিকে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ধরা দিয়েছেন অভিনেতা। এখানে নিজের জীবনের এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতার কথা সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন। অভিনেতাকে এমনিতেই অভিনয় জীবনের শুরু থেকেই অনেক স্ট্রাগল করতে হয়েছে। শংকর চক্রবর্তীকে জীবনের শুরুতে অনেক বাধা পেরোতে হয়েছে। আজকে এত মানুষ তাকে ভালোবাসেন, সম্মান করছেন তার জন্য একটা সময় দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করতে হয়েছে। অনেক অপমান, লাঞ্ছনা, অবহেলা সহ্য করতে হয়েছে।

তবে একটা সময় মানুষের সমস্ত সহ্যের সীমা ভেঙ্গে যায়। অপমানিত হতে হতে একবার শঙ্কর চক্রবর্তী সরাসরি একজনকে মারার হুমকি দিয়েছিলেন। যা আজও তার স্মৃতির পাতায় লেগে রয়েছে। তবে শঙ্কর চক্রবর্তীকে কখনোই কোন ঝামেলা ঝঞ্ঝাট, তর্ক বিতর্কে জড়াতে দেখেনি কেউ। তাই অভিনেতা যে ধরনের কোন কাজ করতে পারে সে কথা বিশ্বাসই করতে পারেনি। সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেন আমার পেছনে লোকজন ধাওয়া করেছিল, মারার হুমকি দিয়েছিল। একজনকে একবার বলেছিলাম বাইরে বেরিয়ে এসো ক্যালাবো। কিন্তু কাকে কোন প্রসঙ্গে হঠাৎ এমন কথা বললেন বলেছিলেন অভিনেতা? সাক্ষাৎকারে সেই নিয়েই আলোচনা করেছেন তিনি।

এমনিতেই আমরা পর্দায় অভিনেতা অভিনেত্রীদের যেমন ভাবে দেখি অনেকেই ভাবি বাস্তবে হয়তো তারা ঠিক তেমনি, কিন্তু বাস্তব যে বড়ই কঠিন। আমাদের কল্পনার বাইরেও অভিনেতা অভিনেত্রীদের ব্যক্তিগত জীবন রয়েছে। সেই জীবনে তারা কে কেমন আমরা কেউই বলতে পারি না। শঙ্কর চক্রবর্তী সেরকমই নিজের জীবনের সেই বিশেষ দিনের কথা উল্লেখ করেছেন।

আরও পড়ুনঃ প্লুটোর স্মরণসভায় মিঠিকে আক্রমণ! সকলের সামনেই কমলিনীকে খু’নি বলে দাগিয়ে দিল অনন্যা!

অভিনেতা জানান, ‘আমি বিবাহ অভিযান তোতলা গণেশ চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পাই। তার আগে আমাকে দেব কুমার বাবু কথা বলতে নিজের স্টুডিওতে দেখেছিলেন। সেখানেই আমি তাকে একটি ছোট গল্প শুনিয়েছিলাম। তখন আমি ক্লাস ইলেভেনে পড়ি রেল কনসেশনের জন্য আমি গিয়েছিলাম। এবার সেই কাউন্টারে যে ভদ্রলোক বসেছিলেন তিনি ছিলেন তোতলা। আমি আই কার্ডটা দেবার সাথে সাথে আমাকে জানান, ‘এখন হবে না বন্ধ হয়ে গেছে।’ আমি উনাকে নকল করেই তোতলা ভাবে বলি ‘বাইরে এসো ক্যালাবো।’ আর সেই কথা শুনে উনি একদম ছুটতে ছুটতে বাইরে বেরিয়ে আসেন এবং আমাকে ধাওয়া করতে থাকেন। ততক্ষণে আমি উনার হাত থেকে আইডি কার্ডটা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়েছি। এই ঘটনা শোনার পরেই আমাকে তোতলা গণেশ চরিত্রের জন্য বেছে নিয়েছিল দেব কুমার বাবু।’ অভিনেতা জানান দেবকুমার বাবুর এই তোতলা ভাবে কথা বলার ধরনটা এতটাই পছন্দ হয়েছিল যে তিনি নিজের স্ত্রীকে ডেকেও এই গল্পটা শোনান এবং পরে শঙ্কর চক্রবর্তী সেই তোতলা গণেশ নামে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

Back to top button