‘ব্যাংকে যা টাকা ছিল সব শেষ, প্রথম কেনা ফ্ল্যাট গাড়ি সব বিক্রি করতে হয়েছে’- রাজনীতিতে যুক্ত, তাই পরিচালকরা কাজ দিতে নারাজ! সাক্ষাৎকারে মুখ খুললেন রুদ্রনীল ঘোষ!

বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির (Tollywood) জনপ্রিয় ট্যালেন্টেড অভিনেতাদের মধ্যে অন্যতম একজন হলেন রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিনেতা। কমেডি চরিত্র হোক, নেগেটিভ চরিত্র হোক বা পজেটিভ চরিত্র সব রকম চরিত্রে সাবলীলভাবে অভিনয় করে দর্শকদের বারবার মুগ্ধ করেছেন তিনি। তিনি একজন তুখোড় অভিনেতা। শুধুমাত্র অভিনয় জগতেই নয় রাজনীতির ময়দানেও বেশ সক্রিয় তিনি।

বিবাহ অভিযান, ধূমকেতু, ভিঞ্চি দা, হাওয়াবদল, হইচই, কেলোর কীর্তির মতো একাধিক ছবিতে একেক রকম চরিত্রে ধরা দিয়েছেন অভিনেতা বারবার। মাঝেমধ্যেই খবরের শিরোনামে উঠে আসে অভিনেতার নাম। নানান বিতর্কমূলক মন্তব্যের জন্য সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরে শিরোনামে থাকেন তিনি। তবে আগে অভিনেতাকে যেভাবে অভিনয় জগতে দেখা যেত একের পর এক ছবিতে অভিনয় করতে বর্তমানে অভিনেতার ছবির সংখ্যা অনেকটাই কমেছে।

এখন আর হাতে সেভাবে কাজ থাকে না। দেখা যায় না একের পরের ছবিতে। কিন্তু কি কারণে অভিনয় জগত থেকে এতটা দূরত্ব তৈরি হল রুদ্রনীলের? সম্প্রতি এক জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে সেই কথাই তুলে ধরেছেন রুদ্রনীল। জানিয়েছেন কেন অভিনয় জগতের সাথে তারা এত দূরত্ব, কেন আগের মত আর রুদ্রনীলকে দেখা যায় না বড় পর্দায়।

অভিনেতার কাছে সরাসরি জানতে চাওয়া হয় কেন আগের মত আর পরপর ছবিতে দেখা মেলে না তার? অভিনেতা বলেন, ‘এই প্রশ্নটা আমাকে করার কোন মানেই হয় না। পরিচালক প্রযোজকদের করা উচিত এই প্রশ্ন। তারা ভালো বলতে পারবেন। আমি তো একজন অভিনেতা। আমি কাজ করার জন্য সবসময় তৈরি। আমাকে কতটা কাজে লাগাতে পারবেন পরিচালক প্রযোজকেরা সেটা তাদের দেখার বিষয়।’ এছাড়া অভিনেতার কাছে জানতে চাওয়া হয় রাজনীতিতে যোগ দিয়েছেন বলেই কি কাজের সংখ্যা অনেকটা কমেছে? অভিনেতা জানান, ‘হতে পারে তাতে কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু এটা হওয়া উচিত নয়। এরকম আমি নই, আমার মত এরকম আরো অনেকে আছে সবার তো লড়াই করার ক্ষমতা থাকে না। সবার প্রতিবাদ করার ধরন এক রকম হয় না।’

আরও পড়ুনঃ বৃদ্ধ মায়ের কাছে দেব নয়, দীপক হয়ে ধরা দিলে অভিনেতা! প্রকাশ্যে মায়ের স্নেহে দেবকে জড়িয়ে ধরলেন এক বৃদ্ধা ভক্ত!

অভিনেতা আরো জানান, ‘এরকম বহু পরিচালক প্রযোজক আছে যারা আমার খুব ভালো বন্ধু। যাদের সাথে আমার নিয়মিত আড্ডা হয়, যারা আমার বাড়িতে আসেন আমি তাদের বাড়িতে যাই। কিন্তু যখন কাস্ট করার সময় আসে তখন তারাও কোথাও একটা দ্বিধায় ভোগেন। আমি তার জন্য কখনো কাউকে দোষ দিনা। সবার সমান সাহস হয় না। সিনেমা করতে গেলে আমাদের ইন্ডাস্ট্রির কিছু জটিল নিয়ম মেনে চলতে হয়। সেজন্য হয়তো অনেকে নিতে চেয়েও নিতে পারেননি। বিগত পাঁচ বছরে আমি কাজ করেছি মাত্র চারটে সিনেমায়। মানে সারা বছরে একটা কাজ ছিল আমার হাতে। ওই একটা কাজের টাকা দিয়ে আমাকে বাকি এগারোটা মাস চালাতে হয়েছে। হাতে টাকা ছিল না। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যা টাকা ছিল সেগুলো খরচ হতে হতে আজ প্রায় শেষের পথে। আমার কষ্ট করে কেনার ফ্ল্যাট গাড়ি সব বিক্রি করতে হয়েছে।’ নিজের কঠিন সময়ের কথা বলতে বলতে আবেগপ্রবণ হয় পড়েছিলেন অভিনেতা।

Back to top button