‘মেয়ে হাতের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে’, ‘মা আর বোনকে নিয়ে একপ্রকার পালিয়ে এসেছিলাম’, ‘জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা…’ রুখে দাঁড়িয়েছিলেন বর্ণিনী চক্রবর্তী!

বর্তমানে টলিউড (Tollywood) ইন্ডাস্ট্রির পরিচিত মুখ হয়ে উঠছেন বর্ণিনী চক্রবর্তী (Barninee Chakraborty)। তবে রূপোলি পর্দার এই ঝকঝকে হাসির পেছনে যে এক দীর্ঘ লড়াই এবং পারিবারিক যন্ত্রণার ইতিহাস রয়েছে, তা সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেত্রী। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্যে বড় হয়ে ওঠা বর্ণিনীর জন্য অভিনয় ও গ্ল্যামার জগতের পথটা মোটেও মসৃণ ছিল না। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবারের ফলতার মতো একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে কলকাতায় নিজের পরিচয় তৈরি করা ছিল তার জীবনের সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ।
নিজের শৈশব এবং বেড়ে ওঠা প্রসঙ্গে বর্ণিনী জানান যে, তার এই শিল্পচর্চার পেছনে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব তার মায়ের। মা নিজে সাহিত্য ও সংস্কৃতির অনুরাগী হওয়ার কারণেই বর্ণিনী নাচ, গান এবং আবৃত্তি শিখে বড় হয়েছেন। ক্লাস এইট থেকেই তিনি বাচ্চাদের নাচের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন এবং ২০১৫ সালে জনপ্রিয় ডান্স রিয়ালিটি শো ‘ডান্স বাংলা ডান্স’-এর মঞ্চে নিজের প্রতিভা প্রমাণ করেন। তবে ক্যারিয়ারের এই শুরুর দিনগুলোতে তিনি তার বাবার থেকে কোনো রকম মানসিক সমর্থন পাননি, বরং প্রতি পদে তাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে।
পারিবারিক অশান্তির পাশাপাশি সামাজিক চাপের বিষয়টিও এই সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত গুরুত্ব পেয়েছে। বর্ণিনী জানান, গ্রামের বাড়ি থেকে কাজের সূত্রে যখন তিনি কলকাতা যাতায়াত করতেন, তখন প্রতিবেশীরা ভালো চোখে দেখতেন না। অনেকেই তার বাবার কানভারী করতেন এবং বলতেন যে মেয়ে হাতের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে। এই ধরনের সামাজিক কটাক্ষ এবং সংকীর্ণ মানসিকতা তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে বিষিয়ে তুলেছিল। প্রতিবেশীদের উসকানিতে বাড়িতে অশান্তির মাত্রা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে তার স্বাভাবিক জীবনযাপন করাই প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
বর্ণিনী আরও জানান যে, একটা সময় পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে তার পড়াশোনা এবং কাজ—সবই বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। এমনকি তাকে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল। সেই সময় তার ঠাকুরদা বা ঠাকুমা বিষয়গুলি মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও চূড়ান্ত অসহযোগিতার কারণে কোনো সমাধান মেলেনি। অভিনেত্রী বলেন, “দেয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল আমার।” পরিস্থিতির চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত নিজের মা এবং বোনকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে আসার মতো একটি কঠিন ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন তিনি।
আরও পড়ুনঃ ‘ইনফেকশনটা অনেকটাই ছড়িয়ে পড়েছে…’ শুটিংয়ের মাঝেই চোখের সামনে নেমে এলো অন্ধকার! হাসপাতালে ভর্তি সুদীপ সরকার! ঠিক কি হয়েছে অভিনেতার? সবটা জানালেন স্ত্রী অনিন্দিতা!
ব্যক্তিগত যন্ত্রণার বাইরে নিজের নামের এক সুন্দর অর্থও এই সাক্ষাৎকারে ব্যাখ্যা করেছেন অভিনেত্রী। তার নামটিও মা রেখেছেন, যার অর্থ হলো যে কোনো বিষয় খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করতে পারে। নিজের জীবনের এই কঠিন লড়াই এবং প্রতিকূলতাকে জয় করে বর্তমানে তিনি টলিপাড়ায় নিজের জায়গা শক্ত করছেন। বর্ণিনীর এই সংগ্রাম কেবল তার একার নয়, বরং অনেক স্বপ্ন দেখা মেয়েদের কাছে অনুপ্রেরণা, যারা পারিবারিক ও সামাজিক বাধা পেরিয়ে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে চায়।

