পুরনো যুগের মানুষ হয়েও ছেলের আবেগকে প্রাধান্য দিয়েছেন রাম রাম, রামপ্রসাদের এই পর্বটি বর্তমান বাবা মায়েদের কাছে অনেক বেশী শিক্ষণীয়

স্টার জলসার সদ্য শুরু হওয়া একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিক হচ্ছে রামপ্রসাদ। শুরুতে তেমন ভালো ফল না করতে পারলেও ধীরে ধীরে নিজের জায়গা তৈরি করছে এই ধারাবাহিক। ভক্তি ভালবাসা শ্রদ্ধা সবকিছুই মিলেমিশে দেখানো হয়েছে এই ধারাবাহিকে। এখন স্লটলিড করছে এই ধারাবাহিক।
রামপ্রসাদের এই কাহিনী আজকের নয়। কলকাতা শহরের ২৫ মাইল উত্তরে হুগলি নদীর তীরে অবস্থিত হালিশহর গ্রামে (বর্তমানে শহর) এক তান্ত্রিক বৈদ্যব্রাহ্মণ পরিবারে রামপ্রসাদ সেনের জন্ম। তার জন্মের প্রকৃত তারিখটি জানা যায় না। তবে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে অনুমিত হয় যে, তার জন্ম হয়েছিল ১৭১৮ অথবা ১৭২৩ সালে। রামপ্রসাদের পিতা রামরাম সেন ছিলেন একজন আয়ুর্বৈদিক চিকিৎসক ও সংস্কৃত পণ্ডিত। রামপ্রসাদের মা সিদ্ধেশ্বরী দেবী ছিলেন রামরাম সেনের দ্বিতীয়া পত্নী।
সেই যুগে দাঁড়িয়ে রামপ্রসাদের বাবা পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়ে যেভাবে নিজের ছেলে রামপ্রসাদকে তার ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ করতে নিজের প্যাসন বা আবেগকে বয়ে নিয়ে যেতে সমর্থন করেছিলেন তা আজকের যুগে প্রায় হয় না বললেই চলে। একজন বৈদ্য বাড়ির সন্তান হয়েও রামপ্রসাদ নিজের গানকেই বেছে নিতে চেয়েছিলেন। আর তার এই সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন করেছিলেন তার বাবা।
কখনো জোর করেননি তার ওপর। বর্তমান যুগে একটি বড় পরিবারের বাবা-মায়েরা সর্বদাই চায় নিজেদের সন্তানরা যাতে নিজেদের মতন হয়। অর্থাৎ ডাক্তারের ঘরে ডাক্তার হয় উকিলের ঘরে উকিল হয়। তাদের সন্তানদেরও যে নিজস্ব কিছু চাওয়া পাওয়া থাকতে পারে পছন্দ অপছন্দ থাকতে পারে সেই দিকে বিশেষ নজর দেয় না তারা। এই চাপে পড়ে কিছু শিশু হয়তো নিজেদেরকে মানিয়ে নিতে পারে আবার কিছু শিশু নিজেদের মানিয়ে নিতে না পেরে হীনমন্যতার শিকার হয়।
সেই সময় দাঁড়িয়ে রামপ্রসাদের বাবা তার পাশে থেকে তার ইচ্ছাকে সম্পূর্ণ মর্যাদা দিয়েছেন যা বর্তমান পিতা-মাতাদের কাছে অত্যন্ত শিক্ষনীয়। আগেকার মানুষ হলেও তার চিন্তাভাবনা ছিল সময়ের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। যার প্রমাণ তিনি দিয়ে গিয়েছেন একজন বাবা হিসেবে। বর্তমান যুগেও যেন প্রতিটি পিতা মাতা তার মতনই চিন্তা ভাবনা বহন করতে সক্ষম হয় এমনটাই কাম্য।

