নিজের মেয়ের অ’স’ম্মা’ন মেনে নিল না পর্ণা, কৃষ্ণার নি’চ মানসিকতার যোগ্য জবাব দিল সে!

Neem Phuler Modhu Today Episode: সময় পরিবর্তিত হয়েছে যুগ পরিবর্তিত হয়েছে কিন্তু কিছু কিছু মানুষের মনে এখনও কুসংস্কার এমন ভাবে নিজের জায়গা বিস্তার করে নিয়েছে যে সেটাকে তাদের মন থেকে সরানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখনো অবধি অনেক বাড়িতেই শাশুড়ি মায়েরা তার বৌমাদের উপর পুত্রসন্তানের জন্য চাপ সৃষ্টি করে থাকে। জি বাংলার (Zee Bangla) নিম ফুলের মধু (Neem Phuler Modhu) ধারাবাহিকেও সেই বাস্তব চিত্রকেই তুলে ধরা হচ্ছে।

বর্তমান গল্প অনুযায়ী, পর্ণা অনেক ঝড় ঝাপটা সামলে সুস্থ ভাবে বাড়ি ফিরেছে। তার স্বাদের অনুষ্ঠান সবাই খুব হৈ হুল্লোড় করে পালন করার কথা ভেবেছে। সবাই গান-বাজনায় মেতে উঠেছে। পর্ণাও খুব খুশি। সৃজন নিজের বউকে চোখে হারাচ্ছে। সব মিলিয়ে দত্ত বাড়ি একেবারে জমজমাট। কিন্তু এসবের মাঝেও কৃষ্ণার কুসংস্কার অন্ধকার নামিয়ে আনছে দত্ত বাড়িতে।

নীম ফুলের মধু আজকের পর্ব ১৩ এপ্রিল (Neem Phuler Modhu Today Episode 13 April)

ধারাবাহিকের আজকের পর্বে দেখা যায়, পর্ণার স্বাদের অনুষ্ঠানের জন্য কৃষ্ণা ওকে নিয়ে বাড়ির প্রত্যেকটি মহিলা সদস্যকে একটা ঘরে যেতে বলে। কিন্তু পর্ণা বলে তার সন্তানের মঙ্গল তো এক পক্ষের আশীর্বাদে হবে না। সে খুব খুশি হবে যদি বাড়ির প্রতিটি পুরুষও সেই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে। কিন্তু এই কথায় প্রচণ্ড রেগে যায় কৃষ্ণা। সে ধমক দেয় তার বৌমাকে। প্রত্যেকটা আচার অনুষ্ঠানের একটা নিয়ম থাকে। এটা বলে চুপ করিয়ে দেয় তাকে। শাশুড়ি মায়ের মুখের ওপর আর কিছু বলতে পারেনা পর্ণা। এরপর তাকে ঘরে নিয়ে গিয়ে অনুষ্ঠান শুরু করা হয়। কিন্তু বিষম খায় পর্ণা। আর সেটা দরজার বাইরে থেকেই দেখছিল সৃজন। দেখা মাত্রই হুরমুরিয়ে ঘরের ভেতর ঢুকে আসে সে। ফলে এই অনুষ্ঠানে আর নারী পুরুষের ভেদাভেদ থাকে না।

অনুষ্ঠানটা শেষ হয়ে যাওয়ার পরে পর্ণা সৃজনকে বলে, তার মা বারবার ছেলে সন্তানের কথা বলে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সে চায় একটা সুস্থ সন্তানের জন্ম দিতে। এমন ছেলে মেয়ে বিভেদ করতে চায় না পর্ণা। এরপর কৃষ্ণা এক মহিলাকে ঘরের মধ্যে এনে সৃজনকে ঘর থেকে বের করে দেয়। ওই মহিলা নাকি জল পোড়া দিয়ে পর্ণার গর্ভের ছেলে এনে দেবে এমনটাই ধারণা কৃষ্ণার। কিন্তু পর্ণা এর তীব্র বিরোধিতা করে এবং এটা কিছুতেই মেনে নিতে চায় না।

আরো পড়ুন: জ্যাসকে মা’রতে ব’ন্দুক নিয়ে লু’কিয়ে পড়লো প্রমিতা! ন্যা’য়ের পথে আনতে নিজেই তাকে পুলিশের হতে তুলে দিলো কল্যাণী!

কৃষ্ণার মনে হয় সব কিছুতে বাড়াবাড়ি করছে পর্ণা। এরপর পর্ণা বাড়ির সবাইকে ওই ঘরে এনে জড়ো করে, এরপর সে বলে “আমি ছেলে মেয়ে বিভেদ করতে চাই না মা। আমার গর্ভে যদি কন্যা সন্তান এসেও থাকে তাহলে আমি তাকে নিয়ে খুশি। আমি তাকেই সব সময় নিজের প্রাণ দিয়ে চাইব। আমি চাইনা এই সমস্ত কুসংস্কার এর মধ্যে দিয়ে আমার সন্তান নেই থেকে ছেলে হয়ে যাক। এটা কোন বিজ্ঞানসম্মত কথা নয়। এগুলো ভুল ধারণা। আর আমি আমার কন্যা সন্তানকে এসবের মধ্যে ফেলে অপমান করতে পারব না। আমি একটা মেয়ে আপনারাও একটা মেয়ে। মেয়ে হয়ে মেয়েদের সম্মান করতে শিখুন। আমাকে ক্ষমা করে দেবেন আমি এই রিচুয়াল গুলো পালন করতে পারব না।” এইসব শুনে ভয়ঙ্কর রেগে যায় কৃষ্ণা। কিন্তু পর্ণাকে সমর্থন জানায় বাড়ি প্রত্যেকেই।

Back to top button