‘বেইমান মহিলা!’- আগুন জ্ব’লল দর্শকের মনে! ‘নূপুরের দাম হাজার টাকা হলেও, স্থান পায়ে…’- জিতু-দিতিপ্রিয়ার ঝামেলায় ফের উত্তাল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ সেট!

স্টার জলসার জনপ্রিয় সিরিয়াল চিরদিনই তুমি যে আমার-কে ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। অভিনেতা জিতু কমল আবার সেটে ফিরলেও, উত্তেজনা এখনও টানটান। শুক্রবার রাতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে ফের রহস্য ছড়ালেন অভিনেতা— “নূপুরের দাম হাজার হলেও তার স্থান পায়ে, আর টিপের দাম এক টাকা হলেও তার স্থান মাথায়।” এই মন্তব্য ঘিরেই জল্পনা— তাহলে কি শুক্রবারও কোনও ঘটনা ঘটেছে?
শুটিংয়ে ফেরার খবর প্রকাশ পেতেই দর্শকদের মধ্যে আনন্দের ঝড় ওঠে। কারণ গত সপ্তাহেই জিতু ও দিতিপ্রিয়ার ঝামেলায় সেট কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল। অসুস্থ শরীর নিয়েও কাজে পৌঁছেও, সহ-অভিনেত্রীর দেরি দেখে সেট ছেড়ে বেরিয়ে যান জিতু। এরপর আসে দিতিপ্রিয়ার নতুন শর্ত— ‘নো-টাচ রুল’, বিশেষ করে রোম্যান্টিক দৃশ্যে। শুধু তাই নয়, তিনি নাকি বলেছেন, জিতু “ভালো মানুষ নন,” যার সঙ্গে কাজ করা যায় না। সেই অভিযোগে ক্ষুব্ধ জিতু সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন দু’জনের ব্যক্তিগত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশট।
এই টানাপোড়েনে প্রযোজনা সংস্থাও প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল— নতুন আর্য খুঁজতে হবে। প্রোমোশন, রিহার্সালে ঢিলেমি, আচরণ— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এমনকি জিতু এনওসিতে সইও করে ফেলেন! কিন্তু এখানেই মোড় ঘোরায় দর্শক। সোশ্যাল মিডিয়ায় জিতুর সমর্থনে ঝড় ওঠে— “সিরিয়াল বয়কট করব!”— এমন ডাক আসে হাজারো দর্শকের গলায়। অবশেষে সেই চাপের মুখেই তাঁকে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয় চ্যানেল ও প্রোডাকশন টিম।
শনিবার শুটিংয়ে কেক, ফুল, শুভেচ্ছা নিয়ে হাজির হয়েছিলেন তাঁর ভক্তরা। তবে জিতু সেদিন কোনও উদযাপনেই অংশ নেননি— তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “অনেকদিন পর কাজে ফিরেছি, এখন মনোযোগ শুধু শুটিংয়ে।”
এদিকে ধারাবাহিকে কমলিনীর সংলাপ— “গাই বাছুর সমেত বিয়ে করতে নেই, এমনি বলে না!”— শুনে দর্শকরা সরাসরি কমলিনী চরিত্রকে দিতিপ্রিয়ার সঙ্গে তুলনা করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় চলছে সমালোচনা— “বেইমান মহিলা একটাও!”
আরও পড়ুনঃ ‘ভেবেছিলাম উপার্জনের কিছু অংশ ওদেরকে দিয়ে দেব…আমি খুব ক্লান্ত’- বিবাদ বিতর্ক মিটিয়ে ফের চলছে শুটিং! ফিরে গিয়ে কোন বিরক্তিকর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন জিতু কমল?
এখন দেখার, অন-স্ক্রিন দম্পতির সম্পর্ক যেমন এগোচ্ছে, অফ-স্ক্রিন সমীকরণও কি তেমনই মসৃণ হয়ে উঠবে— নাকি বিতর্কই হবে TRP-র নতুন অস্ত্র? সময়ই বলবে।

