‘আমি তো একটাই চটি চেটেছি, অন্য কোথাও চাটতে যাইনি!’ পাল্টিবাজ শিল্পীদের ভিড়ে চেনা পথেই হাঁটছেন ময়না-অর্ণব!

টলিউডের (Tollywood) অত্যন্ত পরিচিত মুখ অর্ণব ব্যানার্জি (Arnab Banerjee) এবং ময়না ব্যানার্জি (Moyna Banerjee)। অর্ণব এক সময় বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় নায়ক হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর ঝুলিতে রয়েছে একাধিক হিট মেগা সিরিয়াল ও সিনেমা। তবে ইদানীং তাঁকে আগের মতো ধারাবাহিকের প্রধান চরিত্রে খুব একটা দেখা যায় না, যা নিয়ে তাঁর অনুরাগীদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। অন্যদিকে, ময়না ব্যানার্জি তাঁর অভিনয় দক্ষতা দিয়ে আজও ইন্ডাস্ট্রিতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। বর্তমানে তাঁকে বিভিন্ন জনপ্রিয় বাংলা ধারাবাহিকে গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব চরিত্রে নিয়মিত দেখা যায় এবং তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কুড়োয়। দীর্ঘদিনের অভিনয় জীবন এবং অভিজ্ঞতার পর এই শিল্পী জুটি বর্তমানে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতেও বেশ সক্রিয়।
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এই দম্পতি অত্যন্ত বিস্ফোরক কিছু মন্তব্য করেছেন, যা টলিপাড়ায় চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে যখন টলিউডের অনেক শিল্পীই ভোল বদলে অন্য দলে নাম লেখাচ্ছেন, তখন অর্ণব ও ময়না তাঁদের পুরনো রাজনৈতিক আদর্শেই অনড় রয়েছেন। তাঁরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সমর্থক। সুসময়ে যেমন তাঁরা দলের পাশে ছিলেন, দলের কঠিন পরস্থিতিতেও তাঁরা একইভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকতে চান এবং এই নিয়ে কোনও লুকোছাপা করতে তাঁরা নারাজ।
এই সাক্ষাৎকারের সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের দিকে ধেয়ে আসা “চটি চাটা” কটাক্ষের জবাব। অভিনেত্রী ময়না ব্যানার্জি অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে এই অপমানজনক মন্তব্যের পাল্টা উত্তর দিয়েছেন। তিনি সরাসরি বলেন যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকে তাঁকে এবং অর্ণবকে “চটি চাটা” বলে আক্রমণ করছে। এর প্রতিবাদে ময়না বলেন, তিনি যদি কারও অনুগামী হন, তবে তিনি গর্বের সঙ্গেই তা স্বীকার করবেন। তাঁর কথায়, ‘আমি তো একটাই চটিই চেটেছি, আমি তো চটি চেটে অন্য কিছু চাটতে বা অন্য দলে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে যাইনি।’ তাঁর এই স্পষ্টবক্তা মনোভাব বুঝিয়ে দিয়েছে যে, বাইরের সমালোচনা তাঁদের রাজনৈতিক বিশ্বাসকে টলাতে পারবে না।
ময়নার সুরেই সুর মিলিয়ে অভিনেতা অর্ণব মুখার্জিও এই বিতর্কিত শব্দের একটি ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি রামায়ণের উদাহরণ টেনে বলেন যে, ভরত যেমন শ্রীরামচন্দ্রের পাদুকা বা চটি মাথায় নিয়ে রাজ্য পরিচালনা করেছিলেন, সেই আনুগত্যের একটি বিশেষ ঐতিহ্য রয়েছে। অর্ণব মনে করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁদের এই শ্রদ্ধা বা আনুগত্য যদি কেউ খারাপ চোখে দেখে, তবে তাতে তাঁদের কিছু যায় আসে না। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁরা ইন্ডাস্ট্রিতে কারও দয়ায় বা রাজনৈতিক চাটুকারিতা করে কাজ পাননি। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে তাঁরা নিজেদের যোগ্যতায় এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে এই জায়গায় পৌঁছেছেন, যার শুরু হয়েছিল বামফ্রন্ট আমল থেকেই।
আরও পড়ুনঃ ‘নিজের গালে নিজেই চড় মারতে শিখিয়েছেন সায়নী…’ সায়নী ঘোষকে তীব্র আক্রমণ রুদ্রনীলের! তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা!
পরিশেষে, এই শিল্পী জুটি বর্তমান সময়ের সুবিধাবাদী রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। অর্ণবের মতে, যারা স্বার্থের জন্য বা ভয় পেয়ে বারবার দলবদল করেন, তাঁদের নিজেদের কোনও মেরুদণ্ড থাকে না। তাঁরা বিশ্বাস করেন যে, শিল্পী হিসেবে তাঁদের কাজ মানুষের সেবা করা এবং যে আদর্শে তাঁরা বড় হয়েছেন, তার থেকে বিচ্যুত না হওয়া। সরকারের পরিবর্তন হলেও মনের পরিবর্তন যে সম্ভব নয়, সেই বার্তাই তাঁরা এই ভিডিওর মাধ্যমে দিতে চেয়েছেন। তাঁদের এই সাহসিকতা এবং সোজাসাপ্টা কথা বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করলেও, নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকে তাঁরা এক প্রকার চ্যালেঞ্জই ছুঁড়ে দিয়েছেন সমালোচকদের দিকে।

