‘দেব সাংসদ বলে নয়, মেগাস্টার বলেই এত…’ ‘আজকাল রাজনীতি যেন চটজলদি সফল হওয়ার শর্টকাট!’ জিতু কমল থেকে সুপারস্টার দেব! টলিউডের দুর্নীতি নিয়ে অকপটে মৌসুমী ভট্টাচার্য!

টলিউড (Tollywood) এবং টেলিভিশন জগতের পরিচিত ও অত্যন্ত প্রতিভাবান এক মুখ অভিনেত্রী মৌসুমী ভট্টাচার্য (Mousumi Bhattacharya)। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা দিয়ে দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন। শুধু ছোট পর্দায় বা সিরিয়ালেই নয়, থিয়েটার থেকে শুরু করে ওটিটি এবং চলচ্চিত্রের জগতেও তাঁর কাজ প্রশংসিত হয়েছে। অভিনয়ের পাশাপাশি সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে নিজের স্পষ্ট এবং নির্ভীক মতামত রাখার জন্য ইন্ডাস্ট্রিতে মৌসুমী ভট্টাচার্যের একটি আলাদা পরিচিতি রয়েছে। সম্প্রতি ‘টলিউড ফোকাস কলকাতা’ নামক একটি ডিজিটাল মাধ্যমে দেওয়া একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান বিনোদন জগৎ এবং রাজনীতি নিয়ে অত্যন্ত খোলামেলা ও সাহসী কিছু বক্তব্য রেখেছেন, যা ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
এই সাক্ষাৎকারে মৌসুমীর আলোচনার একটি বড় অংশ জুড়ে ছিলেন টলিউডের সুপারস্টার দেব। ঘাটালের তারকা সাংসদ দেবকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মৌসুমী অত্যন্ত বাস্তবসম্মত মতামত তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, দেব যেখানেই যান না কেন, তাঁকে দেখার জন্য যে বিপুল জনজোয়ার বা মানুষের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে, তা কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের জন্য নয়। দেব একজন সাংসদ বা এমপি বলে মানুষ তাঁর পেছনে ছোটে না, বরং তিনি বিগত প্রায় দুই দশক ধরে বাংলার মানুষের মনে রাজত্ব করা একজন মেগাস্টার বলেই এই উন্মাদনা। মানুষের এই ভালোবাসার পেছনে দেবের কঠোর পরিশ্রম এবং তাঁর রুপোলি পর্দার জাদুই আসল কারণ, রাজনীতি সেখানে গৌণ।
সাক্ষাৎকারটিতে টলিউডের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তারকাদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়। মৌসুমী অত্যন্ত সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলেন যে, আজকাল বিনোদন জগতের অনেকের কাছেই রাজনীতিতে আসাটা এক ধরণের শর্টকাট সাফল্য পাওয়ার রাস্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকার লড়াই, কাজের অভাব বা নিজেদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক শিল্পীই কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় চলে যাচ্ছেন। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, একজন প্রকৃত শিল্পীর আসল শক্তি তাঁর অভিনয় এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসা, কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতা বা প্রভাব নয়।
এর পাশাপাশি বর্তমান প্রজন্মের মানসিকতা এবং সোশ্যাল মিডিয়া নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, আজকের দিনে অনেক সময় সোশ্যাল মিডিয়ার লাইক, কমেন্ট বা অনুগামীদের সংখ্যা দেখে একজন মানুষের যোগ্যতা বিচার করা হয়, যা একেবারেই ঠিক নয়। এর ফলে অনেক প্রকৃত প্রতিভাবান টেকনিশিয়ান বা পরিচালক পর্দার আড়ালেই থেকে যাচ্ছেন। তিনি মনে করেন, সস্তা প্রচারের আলোয় ভেসে না গিয়ে ইন্ডাস্ট্রির সামগ্রিক উন্নতির জন্য কাজ করা এবং ভালো সিনেমা বা কন্টেন্ট তৈরি করাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি জরুরি।
আরও পড়ুনঃ ২ মাসেই মোহভঙ্গ! সাংসদ হিসেবে শপথ নেওয়ার ২ মাসের মধ্যেই পদত্যাগ! রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক!
শেষে মৌসুমী তাঁর নিজের জীবন এবং বিশ্বাসের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জীবনে অনেক বাধা-বিপত্তি বা কঠিন পরিস্থিতি এলেও তিনি কখনো নিজের নীতি এবং সততার সঙ্গে আপস করতে রাজি নন। বই পড়া এবং সিনেমা দেখার মাধ্যমেই তিনি নিজের মানসিক শান্তি খুঁজে পান। কোনো রাজনৈতিক সুবিধা বা ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে কাউকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করাকে তিনি সম্পূর্ণ ভুল বলে মনে করেন। সবশেষে তিনি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলেন, একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রীকে যেন শুধু তাঁর কাজের নিরিখেই বিচার করা হয়, কারণ দিনশেষে শিল্পীর আসল পরিচয় তাঁর সৃষ্টিতেই বেঁচে থাকে।

