‘আমার বয়স ২২, এই বয়সে মেয়েরা কলেজের প্রজেক্ট করছে, নয়তো সোলো ট্রিপ! ‘কিন্তু আমি শিখছি সংসার করা…’ বিয়ের মাত্র ২ মাস! হঠাৎ কেন এমন বললেন অভিনেত্রী অনন্যা গুহ?

ছোটপর্দার জনপ্রিয় ও পরিচিত মুখ অভিনেত্রী অনন্যা গুহ (Ananya Guha)। ‘কৃষ্ণকলি’, ‘মিঠাই’, ‘লক্ষ্মী কাকিমা সুপারস্টার’-এর মতো একাধিক জনপ্রিয় মেগা সিরিয়ালে অভিনয় করে অত্যন্ত অল্প বয়সেই তিনি দর্শকদের মন জয় করে নিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তা রয়েছে, তিনি একজন সফল ভ্লগারও বটে। সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা লক্ষাধিক। কাজের বাইরে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও চর্চার শেষ নেই। দীর্ঘদিন সম্পর্কে থাকার পর, সম্প্রতি ২০২৬ সালের ৯ মার্চ নদীয়ার কল্যাণীতে অত্যন্ত সাবেকি কায়দায় দীর্ঘদিনের প্রেমিক তথা জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও আইটি কর্মী সুকান্ত কুণ্ডুর সঙ্গে সামাজিক বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন অনন্যা।
সংসার জীবনের এই অল্প সময়ের অভিজ্ঞতার পরই সোশাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ ভিডিওর মাধ্যমে মন উজাড় করে মুখ খুললেন ছোটপর্দার এই তরুণী অভিনেত্রী। মাত্র ২২ বছর বয়সী এই ‘জেন-জি’ অভিনেত্রী তাঁর ভিডিও বার্তায় স্পষ্ট জানান যে, ছোটবেলা থেকেই তাঁর দ্রুত বড় হওয়ার প্রবল ইচ্ছে ছিল। যখন দ্বিতীয় শ্রেণীতে পড়ার সময় তাঁর সাধারণ গল্প বা কবিতা পড়ার কথা, তখন তিনি সিরিয়ালের অভিনয়ের চিত্রনাট্য মুখস্থ করতেন। অতি অল্প বয়সেই বিনোদন জগতে পা রাখা অনন্যা জানান, বর্তমান সময়ে তাঁর বয়সী তরুণীরা যখন কলেজের অ্যাসাইনমেন্ট বা সোলো ট্রিপের স্বপ্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকে, তখন তিনি কেরিয়ার সামলানোর পাশাপাশি কী করে সংসার পরিচালনা করতে হয়, সেই দায়িত্বও শিখে নিয়েছেন।
তবে এই নতুন পথচলায় সমাজের এক রূঢ় বাস্তবতাকে খুব কাছ থেকে উপলব্ধি করেছেন অনন্যা। তাঁর মতে, আমাদের এই আধুনিক সমাজে নারীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি করাটা এতটাই স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তা নিয়ে কেউ সহজে প্রশ্ন তোলে না। ফেসবুক বা অন্যান্য সোশাল মিডিয়া খুললেই মেয়েদের প্রতিনিয়ত নানা কড়া অনুশাসনের মুখোমুখি হতে হয় কীভাবে বসতে হবে, কী শিখতে হবে, কেন এই ত্রুটি হলো, ইত্যাদি। অনন্যা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একটি ছেলে নিজের জীবন নিজের মতো করে কাটালে সমাজ তাকে ‘স্বাধীনতা’র তকমা দেয়, অথচ একটি মেয়ে একই কাজ করলে মন্তব্য ধেয়ে আসে যে “একে দিয়ে সংসার হবে না”। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, মেয়েদের এই পরিস্থিতিতে অন্য মেয়েরাই সবথেকে বেশি ‘জাজ’ করে এবং স্যাক্রিফাইস করার উপদেশ দেয়। অথচ বর্তমান যুগে এসেও একজন মেয়ের সাফল্যের চেয়ে তাঁর পোশাক, চরিত্র এবং রান্নার দক্ষতাকে আগে বিচার করা হয়।
সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি অভিনেত্রীকে আহত করে, তা হলো সমাজের চিরপরিচিত ‘ম্যারেজ জোকস’ বা বিয়ে নিয়ে সস্তা রসিকতা। তিনি প্রায়শই লক্ষ্য করেছেন, বহু মানুষ ডিনার টেবিলে বা আড্ডায় বসে নিজের জীবনসঙ্গীকে নিয়ে ঠাট্টা করেন “বিয়ে করিস না, বিয়ে করলেই লাইফ শেষ” কিংবা “স্ত্রী মানেই হেডেক”। এই ধরনের মন্ত ব্যকে তথাকথিত কুল মনে করে চারপাশের মানুষ যখন হেসে ওঠে, তখন তা অনন্যার কাছে চরম অসম্মানজনক বলে মনে হয়। তিনি স্পষ্টভাবে জানান যে, জীবনসঙ্গীকে জনসমক্ষে খাটো বা ডিসরেসপেক্ট করাটা কোনো সুস্থ সংস্কৃতির লক্ষণ হতে পারে না।
আরও পড়ুনঃ ‘খেতে পেতাম নারে…’ ‘দিনের পর দিন শুধু শুকনো…!’ টলিউডের সেটে মিঠুনদার চোখে জল! অভিনেত্রীর পাত থেকে তুলে খেয়েছিলেন এঁটো খাবার? সেই রোমহর্ষক মুহূর্তের স্মৃতিচারণ কৌশিক ব্যানার্জীর!
এই অন্ধকার দিকের মাঝেও নিজের জীবনের পরম প্রাপ্তি এবং স্বামী সুকান্ত কুণ্ডুর প্রশংসা করতে ভোলেননি অনন্যা। তিনি জানান, এই ধরণের পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার ভিড়ে তিনি নিজেকে অত্যন্ত ভাগ্যবতী মনে করেন, কারণ সুকান্ত একেবারেই আলাদা। সুকান্ত কখনো এমন কোনো ডিনার টেবিল বা আড্ডায় বসেন না যেখানে বিয়েকে রসিকতা বানানো হয়, কিংবা বন্ধুদের সামনে অনন্যাকে নিয়ে কোনো সস্তা কৌতুক করা হয়। বরং কেউ যদি কখনো অসম্মানজনকভাবে কিছু বলে, সুকান্ত তখনই সেই টপিক বদলে দেন অথবা প্রতিবাদ জানিয়ে সেখান থেকে উঠে আসেন। সুকান্ত তাঁকে কোনো প্রকার নিয়ন্ত্রণ করতে চান না, বরং তাঁর ক্লান্তি ও মানসিক স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখেন। আর একজন নারীর জীবনে এই ছোট ছোট পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও ভালোবাসার জিনিসগুলোই যে সবথেকে বেশি ম্যাটার করে, তা অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিনেত্রী।

