বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে মধুমিতার অভিযোগের তীর সৌরভের দিকে! পাল্টা উত্তরে সৌরভের কথা শুনে স্তম্বিত দর্শকমহল

কেরিয়ারের প্রথম দিকেই বিয়ে করে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার। টেলিভিশনের পরিচিত মুখ সৌরভ চক্রবর্তীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন মধুমিতা। তাঁদের দাম্পত্য জীবন বেশ মধুর ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে চিড় ধরে এবং মধুমিতা-সৌরভ আলাদা হয়ে যান। বর্তমানে তাঁরা একই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন এবং তাঁরা এখন বেশ সফল। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই কেন এই বিচ্ছেদ।
প্রথম পরিচয় হয় একসঙ্গে সিরিয়াল করতে গিয়ে। ‘সবিনয় নিবেদন’ সিরিয়ালের মাধ্যমে পরিচয় হয় মধুমিতা-সৌরভের। প্রথমদিকে তাঁরা দুজনে দুজনকে পছন্দ করতেন না ঠিকই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে অভিনয় করার সূত্রে ধীরে ধীরে তাঁদের মধ্যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়, এরপর প্রেমে রূপ নেয় সেই সম্পর্ক। মধুমিতার মা সৌরভকে প্রথম দিকে পছন্দ না করলেও পরবর্তীকালে তিনি মধুমিতার সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছিলেন এবং তাঁদের বিয়ে হয়।
সৌরভ-মধুমিতা বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল মিষ্টি বিবাহ জীবনের শুরুটা হয়েছিল মধুর সম্পর্ক দিয়ে। একাধিক সাক্ষাৎকারে তাঁরা তাঁদের সুখী দাম্পত্যের জীবনের কথা তুলেও ধরেছিলেন। এমনকি তাঁরা একসঙ্গে টিভি কমার্শিয়ালে কাজ করেছেন। দু’জনে মিলে একটি প্রোডাকশন হাউসও খুলেছিলেন। কিন্তু সেই সম্পর্কে হঠাৎই ছন্দপতন হল। মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ল মধুমিতা-সৌরভের বিবাহ বিচ্ছেদের খবর। সেই সময় এক সাক্ষাৎকারে মধুমিতা বিস্ফোরক মন্তব্য, একটি বৈবাহিক সম্পর্ক চালিয়ে নিয়ে জন্য ভালোবাসা শেষ কথা নয়। এই কারণেই তাঁরা বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০১৯-এর শেষের দিকেই সামনে আসে এই জুটির বিচ্ছেদের খবর।

বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে মধুমিতা জানান সৌরভ মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করতো। এছাড়াও শোনা যায় সৌরভ নাকি অন্য কোন মেয়ের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েছিল এমনটাও দাবি করেন তিনি। এছাড়াও মধুমিতা বলেন হঠকারিতায় অল্প বয়সে এত তাড়াতাড়ি বিয়েটা করে নেওয়া তার উচিত হয়নি। এই বিয়ের জন্য তিনি সবসময় আফসোস করেন। তার আরো ভেবেচিন্তে কাজ করা উচিত ছিল। তাহলে হয়তো পরবর্তীতে তাকে এই সমস্ত সহ্য করতে হতো না।
এই প্রসঙ্গে সৌরভ কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন তার দর্শকরা বুদ্ধিমান, তারা সবকিছুই চোখের সামনে দেখছে, তারা জানে কে কি করেছে বা করতে পারে। তাই পুরোটাই দর্শকের উপরই ছেড়ে দিয়েছেন তিনি। তিনি আরো জানান, একে অপরের উপর কাদা ছোড়াছুড়ি করে ঝগড়া-বিবাদ করে কোন লাভ নেই। এক সংবাদ মাধ্যমের নোয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান “ডিভোর্স মানেই আমরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ধরে নিই পরকীয়া বা বাড়ির কোনও সমস্যা। কিন্তু সব চেয়ে বড় ব্যাপার হল দু’জনের মধ্যে ভারসাম্য ঠিক রয়েছে কিনা।

কোথাও গিয়ে আমাদের কম্পেটিবেলিটি খাপ খাচ্ছিল না। ডিভোর্সটা আমাদের কাছে ওই লড়তে লড়তে, ঘামতে ঘামতে করার বিষয় নয়। আমাদের মনে হয়েছে আমরা আলাদা থাকলে অনেক ভাল থাকব।” বাস্তব জীবনে তিনি কি রোমান্টিক? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন সেটা যদি তার প্রাক্তন স্ত্রী বুঝত তাহলে ভালো হতো। এখনো মনে মনে মধুমিতাকে যথেষ্ট মিস করেন সৌরভ।

