চেক বাউন্সের অপরাধে হয়েছিল কারাদণ্ড! চ’রম পরিস্থিতিতেও অভিনয় ছাড়েননি অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী! রইল তার জীবন সংগ্রাম

ভারতীয় চলচ্চিত্র তথা বিনোদন জগতে যে সমস্ত অভিনেতা অভিনেত্রীরা নজির তৈরি করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় হলেন বর্ষিয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী (Biswajit Chakraborty)। মুলত ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাকে। ১৯৪৮ সালের আজকের দিনে অর্থাৎ ২৯ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। তার চলচ্চিত্র জীবনের শুরুটা হয়েছিল অশোক বিশ্বনাথন পরিচালিত শূন্য থেকে শুরু চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে। এরপর তিনি কালোচিতা, বং কানেকশান, টিনটোরেটোর যীশু, অন্তরমহল, অটোগ্রাফ, বাই বাই ব্যাংকক, হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা, কাহানী ২ সহ শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
অভিনেতা হিসেবে সর্বদা মানুষের থেকে এবং অন্যান্য অভিনেতাদের থেকে সম্মান পেয়ে এসেছেন তিনি। ধারাবাহিক হোক বা চলচ্চিত্র উভয় জায়গাতেই নিজেকে যোগ্য হিসেবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। অভিনয়ে তার দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস কারো নেই। তবে কয়েক বছর আগে আইনি সমস্যায় জড়িয়ে পড়েছিলেন অভিনেতা। যার জন্য ঘটেছিল কারাদণ্ড। হ্যাঁ, ছয় মাসের কারাদণ্ডের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তাকে। সেই সময় চিন্তায় মগ্ন হয়ে পড়েছিলেন অভিনেতার অনুরাগীরা।
ধর্মতলায় অবস্থিত একটি সংস্থা থেকে ২০১৫ সাল নাগাদ ব্যক্তিগত কিছু কারণে দশ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী (Biswajit Chakraborty)। সংস্থার কর্তা অভিযোগ করেছিলেন, ধার শোধ করতে গিয়ে অভিনেতা তাঁকে যে চেকগুলি দেন, সেগুলি ব্যাংকে জমা দিতেই সব বাউন্স করে যায়। ফলস্বরূপ সেই সংস্থা অভিনেতার বিরুদ্ধে আলিপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন।
দু’বছর ধরে মামলাটি চলে এবং ২০১৯ সালে অভিনেতার কারাদণ্ডের নির্দেশ দেন বিচারক। এই সমগ্র ঘটনাটি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি অভিনেতা। অভিনেতার আইনজীবী বলেছিলেন আইন অনুযায়ী কোনও অপরাধে যদি কারোর দু’বছরের কম শাস্তি হয় তাহলে আদালত সঙ্গে সঙ্গেই তাকে জামিনে মুক্তি দিতে পারে। আর এই ক্ষেত্রেও জামিন পেয়ে গিয়েছিলেন অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী।
আরও পড়ুন: প্রকাশ্যে পরিণীতার টাইম স্লট! টিআরপি টপার মেগার ঘাড়েই কো’প বসিয়ে আসছে পরিণীতা!
তার জীবনযাত্রা কখনোই খুব একটা মসৃণ ছিল না। ১৯৮১ সালে মাত্র ৫৩ বছর বয়সে বিশ্বাজিৎ চক্রবর্তীর বাবা মারা যান। এরপর সংসার চালাতে পেটের দায়ে অভিনেতাকে কাজে নামতে হয়। অনেকেই হয়তো জেনে থাকবেন বা অনেকেই হয়তো জানেন না তিনি পেশায় একজন আয়কর পরামর্শদাতা। তার একজন গ্রাহক ছিলেন বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী। তার হাত ধরেই খুলে যায় অভিনেতার কপাল। সেই ক্যামেরাম্যানের সহায়তায় বিশ্বজিৎ হায়দ্রাবাদে একটি সিরিয়ালে অভিনয় করেন। তারপর অভিনেতা অশোক বিশ্বনাথনের সিনেমা শূন্য থেকে শুরু তে অভিনয় করেন। অভিনয়ে যাত্রা শুরু করার পর থেকে একবারও থামেননি তিনি। ছোট পর্দা বড় পর্দা ওটিটি সর্বত্রই দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন অভিনেতা। এখনো তার এই যাত্রা অবিচল রয়েছে।

