ইষ্টি কুটুমের ‘অর্চি’ থেকে ইচ্ছে নদীর ‘মেঘলা’, লীনা গাঙ্গুলীর তৈরি চরিত্ররা জলজ্যান্ত বাস্তবে র’ক্ত-মাংসের মানুষ! চেনা মানুষের অচেনা গল্প নিয়ে লেখিকার লেখনী! জানেন বাস্তবে এই চরিত্ররা কারা?

বাংলা মেগা সিরিয়ালের (Bengali Television) জগতে লীনা গঙ্গোপাধ্যায় (Leena Gangopadhyay) একটি ব্র্যান্ড। মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের আবেগ, জটিলতা এবং সম্পর্কের টানাপোড়েনকে তিনি যেভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলেন, তা এক কথায় অনন্য। তার লেখনীতে প্রাণ পেয়েছে এমন অসংখ্য চরিত্র, যা প্রতিটি বাঙালির ঘরে ঘরে পরিচিত।
লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল শিক্ষকতা ও সাহিত্যচর্চা দিয়ে। পরবর্তীতে তিনি চিত্রনাট্য লেখা শুরু করেন এবং অত্যন্ত অল্প সময়ে দর্শকদের মন জয় করে নেন। তার প্রযোজনা সংস্থা ‘ম্যাজিক মোমেন্টস মোশন পিকচার্স’ একের পর এক সুপারহিট ধারাবাহিক উপহার দিয়েছে। তার গল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নারীকেন্দ্রিকতা। তার নায়িকারা কেবল ঘরের বউ নয়, তারা প্রতিবাদী এবং স্বাবলম্বী হওয়ার লড়াই করে।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে মনের দুয়ার খুলে দিয়েছিলেন জনপ্রিয় লেখিকা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। সেখানে উঠে এল তার কালজয়ী সব চরিত্র সৃষ্টির নেপথ্য কাহিনী। আমরা পর্দায় যে শ্রীময়ী, বাহামণি বা গুনগুনদের দেখি, তারা যে কেবল নিছক কল্পনা নয়, বরং রক্ত-মাংসের মানুষ—সে কথাই স্পষ্ট করলেন লেখিকা। লেখিকা অত্যন্ত অকপটে জানিয়েছেন যে, তার ধারাবাহিকের বেশিরভাগ চরিত্রই তার বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া। তিনি চারপাশের চেনা জগৎ থেকেই গল্পের রসদ সংগ্রহ করেন। এই চরিত্রগুলো অন্য কেউ নয় তারা লেখিকার কোনো ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা তার দীর্ঘদিনের পরিচিত কোনো ব্যক্তি কিংবা তার খুব কাছের মানুষ।
তার কলম কেবল কল্পনা দিয়ে চলে না। তার গল্পের প্রতিটি চরিত্র আসলে তারই চেনা জগতের প্রতিফলন। এই তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দুটি নাম হলো ‘ইষ্টি কুটুম’ ধারাবাহিকের অর্চি এবং ইচ্ছে নদী’র মেঘলা। ‘ইষ্টি কুটুম’ ধারাবাহিকে আমরা দেখেছিলাম অর্চি চরিত্রটিকে। লেখিকা জানিয়েছেন, এই চরিত্রটি ছিল তার অত্যন্ত কাছের এক মানুষকে কেন্দ্র করে। বাস্তবের সেই মানুষটিই ছিলেন অর্চি চরিত্রের মূল অনুপ্রেরণা। কিন্তু পর্দার গল্পের বাইরে জীবনের রুক্ষ বাস্তব বড়ই কঠিন। লেখিকা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানিয়েছেন যে, যাকে দেখে তিনি অর্চি চরিত্রটি বুনেছিলেন, সেই মানুষটি আজ আর ইহজগতে নেই। তার প্রয়াণ লেখিকার মনে এক গভীর শূন্যতা রেখে গেছে, অথচ পর্দার ফ্রেমে সেই মানুষটি আজও অমর। জানেন এই অর্চি চরিত্রটি কাকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে? চলুন জেনে নি।
অন্যদিকে, ‘ইচ্ছে নদী’ ধারাবাহিকের মেঘলা চরিত্রটিও কোনো কাল্পনিক সৃষ্টি নয়। মেঘলা ছিল লেখিকার পরিচিত এক মেয়ের ছায়া। তবে অর্চির মতো মেঘলার জীবন বিষাদময় নয়। লেখিকা আনন্দের সাথে ভাগ করে নিয়েছেন যে, বাস্তবের সেই ‘মেঘলা’ বর্তমানে খুব ভালো আছেন। তিনি কেবল সফলভাবে বেঁচে নেই, বরং পেশাগত জীবনেও সমাজে প্রতিষ্ঠিত। জানেন কি, এই অর্চি এবং মেঘলার চরিত্র বাস্তবে কারা?
আশীর্বাদের আসরেই মিঠির পর্দা ফাঁস! বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগেই অন্ধকার ঘনিয়ে এল মিঠি-কৃশানুর ভবিষ্যতে? দুর্ধর্ষ আজকের পর্ব
লেখিকা জানিয়েছেন, ‘ইষ্টি কুটুম’ ধারাবাহিকের নায়ক অর্চি চরিত্রটি তিনি লিখেছিলেন তাঁর পরিচিত এক লেখককে কেন্দ্র করে। সেই মানুষটিও বাস্তব জীবনে লেখার জগতের সাথে যুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, ‘ইচ্ছে নদী’ ধারাবাহিকের মেঘলা চরিত্রটি গড়ে উঠেছে লেখিকার এক অত্যন্ত কাছের বান্ধবীর আদলে। মেঘলার চরিত্রের সেই দৃঢ়তা এবং আবেগ লেখিকা তাঁর বান্ধবীর জীবন থেকেই সংগ্রহ করেছেন।তবে সাক্ষাৎকারে এই দুই ব্যক্তির কথা বললেও লেখিকা তাঁদের নাম বা পরিচয় প্রকাশ্যে আনতে চাননি। এর পেছনে কাজ করেছে তাঁর প্রবল পেশাদারিত্ব এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা। চরিত্রদের উৎস জানা জরুরি, কিন্তু বাস্তবের সেই মানুষদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা তাঁর দায়িত্ব।

