বইয়ের মুখ না দেখেও চার দিনেই পুলিশ অফিসার উজি! ‘তোমার ভিডিও আমি…’ ‘এর আগেও তুমি আমার…’ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সর ঝিলানের ট্রোলের জবাবে কী বললেন আরাত্রিকা?

জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’ শুরু থেকেই দুই বোনের টানাপোড়েনের গল্প দিয়ে দর্শকদের মন জয় করেছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গল্পে নানা মোড় আসায় এখন তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে মজার আলোচনা। বিশেষ করে উজি চরিত্রের দ্রুত পুলিশ অফিসার হয়ে ওঠা নিয়ে দর্শকদের একাংশ হাসির খোরাক খুঁজে পেয়েছেন। দিদি নিশাকে সঠিক পথে ফেরাতে উজির এই বদল অনেকের কাছে অবাস্তব মনে হয়েছে, আর সেই নিয়েই তৈরি হয়েছে একাধিক ট্রোল ভিডিও।
এই প্রসঙ্গেই কনটেন্ট ক্রিয়েটর ঝিলাম গুপ্তা একটি ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও তৈরি করেন, যা খুব অল্প সময়েই ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওতে তিনি দেখান, যেখানে বাস্তবে সরকারি চাকরি পেতে বছরের পর বছর পরিশ্রম করতে হয়, সেখানে সিরিয়ালের জগতে কয়েক দিনের মধ্যেই উজি সাইবার ক্রাইম শাখার অফিসার হয়ে ওঠে। পাশাপাশি নিশার চরিত্রকে নিয়েও মজার ছলে নানা মন্তব্য করেন তিনি, যা দর্শকদের মধ্যে হাসির ঢেউ তোলে।
ভিডিওর একটি বিশেষ সংলাপ, যেখানে বলা হয় ‘মেট্রো রেলের মতো মুখ করে উজি শপথ নিল’, সেটিও বেশ জনপ্রিয় হয়। এই ভিডিও দেখে অনেকেই মজা পেলেও চমক আসে তখন, যখন খোদ উজি চরিত্রের অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতি সেই ভিডিওতে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি জানান যে, ঝিলামের ভিডিও তাঁর খুবই ভালো লেগেছে এবং এর আগেও তাঁর কাজ তিনি দেখেছেন। অভিনেত্রীর এই স্পোর্টিং মনোভাব দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই।
তবে শুধুই প্রশংসা নয়, আরাত্রিকা পরিষ্কার করে দেন যে ধারাবাহিকের গল্পকে অনেকেই ভুলভাবে বুঝছেন। তাঁর কথায়, উজি কিন্তু হঠাৎ করে চার দিনে পুলিশ অফিসার হয়ে যায়নি। শুরু থেকেই সে ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল, কিন্তু পারিবারিক সমস্যার কারণে বারবার পিছিয়ে যাচ্ছিল। গল্পের প্রয়োজনে মন্টাজ এবং টাইম লিপের মাধ্যমে সেই দীর্ঘ যাত্রাকে সংক্ষিপ্ত করে দেখানো হয়েছে, যা অনেকের চোখ এড়িয়ে গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ নতুন প্রোমোতে সমালোচনার ঝড়! ‘দিন দিন কার্টুন বানিয়ে দিচ্ছে’ ‘গল্পের গরুকে আকাশে ওড়ানো শুরু’! কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে ‘পরিণীতা’র ধারালো গল্প?
আরাত্রিকার এই ব্যাখ্যার পর ঝিলামও খুব সুন্দরভাবে নিজের ভুল স্বীকার করে নেন এবং অভিনেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি জানান, এই ধরনের মজার ভিডিও চলতেই থাকবে, তবে ব্যক্তিগতভাবে তিনি আরাত্রিকার কাজকে সম্মান করেন। পুরো বিষয়টি শেষ পর্যন্ত এক সুন্দর ইতিবাচক বার্তা দেয়, যেখানে ট্রোলিংয়ের মধ্যেও পারস্পরিক সম্মান এবং বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি হয়েছে।

