সেলাইয়ের সুতোয় বাঁধা পারুলের স্বপ্ন! ভাঙা ঘরে সেলাই মেশিনের সামনে চলেছে কঠিন লড়াই! আজ সফলতার শীর্ষে ঈশানী চট্টোপাধ্যায়!

টলিউডে এখন চেনা মুখ ঈশানী চ্যাটার্জি(Ishani Chatterjee)। ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকের পারুল চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মন জয় করেছেন। কিন্তু পর্দার আড়ালে ঈশানীর জীবনের গল্পটা কী? সাফল্যের আলোয় ঝলমলে এই অভিনেত্রীর বাস্তব জীবন কি সত্যিই এতটাই সহজ ছিল? টেলিভিশনের ঝলমলে দুনিয়ার বাইরে তাঁর শৈশব-কৈশোর ছিল একেবারেই অন্যরকম।

জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে গেলে প্রতিটি মানুষকেই কমবেশি সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু কেউ কেউ সেই সংগ্রামকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যান, যেখানে প্রতিটি ধাপে থাকে বেঁচে থাকার লড়াই। ঈশানীর জীবনও তেমনই। অর্থকষ্ট, অনিশ্চয়তা, বাবার অসুস্থতা—সব পেরিয়ে তিনি আজ সফল। কিন্তু কীভাবে? কেমন ছিল তাঁর জীবনের সেই কঠিন অধ্যায়?

Ishani Chatterjee

বহু বছর আগে মা সংঘমিত্রা চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে Didi No. 1 মঞ্চে এসেছিলেন ঈশানী। তখন তিনি শুধুই একজন মেধাবী ছাত্রী, অভিনয়ের দুনিয়ায় প্রবেশ করেননি। সেখানেই তিনি জানিয়েছিলেন, ছোটবেলা কেমন কেটেছে তাঁর। নায়িকার মা বলেন, “সেলাইয়ের কাজ করেই আমি ওকে বড় করেছি। আমার স্বামী কন্ট্রাক্টর ছিলেন, কিন্তু প্রতি মাসে কাজ থাকত না। সংসার চালানোর জন্য তাই সেলাইয়ের কাজ করতাম।”
তখনকার সেই দুঃসময় আজও ভুলতে পারেন না ঈশানী। তিনি বলেন, “ছোট থেকেই দেখেছি মা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিশ্রম করতেন। রান্না করতেন, আমাকে স্কুলে নিয়ে যেতেন, সেলাইয়ের কাজ করতেন। আমাদের ঘরও ছিল খুবই সাধারণ। দোকানের পেছনে একটা ছোট্ট ঘর, যার ছাদ ছিল অ্যাসবেস্টসের। বৃষ্টি হলেই জল পড়ত, তখন বাবা-মা বালতি দিয়ে দিতেন জল ধরার জন্য।”

কিন্তু শুধু অর্থকষ্ট নয়, আরও বড় বিপর্যয় নেমে আসে তাঁদের জীবনে—ঈশানীর বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। ক্রমশ কিডনির সমস্যা বাড়তে থাকে, এরপর আসে হৃদরোগ। চিকিৎসার জন্য বেঙ্গালুরু যাওয়ার পথে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান তিনি। বাবার মৃত্যুর পর সংসারের পুরো দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর মায়ের উপর। ঈশানী তখনও ছোট, কিন্তু বুঝতে পারতেন পরিস্থিতির জটিলতা। তিনি বলেন, “বাবার চিকিৎসার জন্য প্রচুর টাকা লাগত। মা সেলাইয়ের কাজের পাশাপাশি একটা মুদির দোকানও চালাতেন। আমিও দোকানে বসতাম, বই নিয়ে বসে পড়াশোনা করতাম। বাবার ওষুধ থেকে শুরু করে ডাক্তার দেখানো, সব দায়িত্ব আমিই নিতাম।” কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ঈশানীর মা চেয়েছিলেন মেয়েকে ডাক্তার বানাবেন। কিন্তু ডাক্তারি পড়ার খরচের সামনে লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। দিদি নাম্বার ওয়ানের মঞ্চে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন করেছিলেন, ‘আপনার মেয়েকে কী করতে চান?’ তখন সংঘমিত্রা বলেছিলেন, “ও কাঁচি ধরবেই, তবে অপারেশন থিয়েটারে।” কিন্তু জীবন ঈশানীকে অন্য পথে নিয়ে আসে। পড়াশোনায় টপার হওয়া সত্ত্বেও অভিনয়ের সুযোগ আসে তাঁর কাছে। আর সেই সুযোগই বদলে দেয় তাঁর ভাগ্য।

আরও পড়ুনঃ ‘আমায় একটা সিরিয়ালে অভিনয়ের সুযোগ দাও!’- প্রেরণা ভট্টাচার্যের কাতর আবেদন! ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে কি বললেন অভিনেত্রী?

আজ ঈশানী ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ। অথচ কয়েক বছর আগেও তাঁর জীবন ছিল চূড়ান্ত অনিশ্চয়তায় ভরা। মায়ের একার লড়াই, বাবার অসুস্থতা, আর্থিক সংকট—সব পেরিয়ে তিনি আজ নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন। তবে এই সাফল্য শুধু ঈশানীর একার নয়, এটি তাঁর মায়েরও বিজয়গাথা। আজকের ঈশানী সেইসব মানুষদের জন্য অনুপ্রেরণা, যারা কঠিন বাস্তবের সঙ্গে লড়াই করেও স্বপ্ন দেখে। তাঁর জীবনের এই জার্নি প্রমাণ করে, ইচ্ছে থাকলে আর কঠোর পরিশ্রম করলে, জীবন বদলানো সম্ভব!

Back to top button