আর কতদিন পর্যন্ত দেখতে পাবেন মিঠিঝোরা, ফুলকি, নিম ফুলের মধুর নতুন এপিসোড?

বর্তমানে বাংলা বিনোদন জগতে চলছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। পরিচালক মন্ডলী বনাম ফেডারেশনের বিবাদ বড় আকার ধারণ করছে দিনে দিনে। যা দেখে কপালে ভাঁজ পড়েছে দর্শকদের। আর এই সবকিছুর সূত্রপাত যাকে নিয়ে হয়েছে তিনিই পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়। বেশ কিছুদিন আগে পরিচালকের বিরুদ্ধে নিষধাজ্ঞা জারি করেছিলেন ডিরেক্টরস গিল্ড। যদিও পরবর্তী সময়ে বিধায়ক-প্রযোজক-পরিচালকগণের অনুরোধে খারিজ করা হয় নিষেধাজ্ঞা।
তবে ডিরেক্টরস গিল্ড সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি ফেডারেশন। রাহুলের পরিচালিত কোন সিনেমায় কাজ করবেন না বলে দাবি করেন টেকনিশিয়ানরা। ফলে স্টুডিওপাড়ায় শুরু হয় সমস্যা। টেকনিশিয়ানদের ব্যবহারে ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেন পরিচালকরা। তাদের দাবি ফেডারেশনের এরূপ আচরণ অসম্মানজনক। তাই ফেডারেশন তাদের সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে কাজ করবেন না পরিচালক এবং তারকারা। রবিবার প্রায় ২০০ জনের বেশি পরিচালক জানিয়ে দিয়েছেন তারা এই অপমানের তীব্র বিরোধিতা করছেন। যার ফলস্বরূপ বন্ধ হয়ে গিয়েছে শুটিং।
স্টুডিওপাড়ায় দেখা যায় অচলাবস্থা। ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া তরফ থেকে একটি বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে সেদিন জানানো হয়, পরিচালকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২৯ জুলাই থেকে টলিপাড়ার সমস্ত শুটিং ফ্লোরের সদস্যদের না আসার বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। যতদিন না সমস্যা সমাধান হচ্ছে, ততদিন শুটিং বন্ধ থাকবে। ইতিমধ্যেই ইমেল মারফত টলিপাড়ার ধারাবাহিকের চ্যানেলগুলিকে এই বিষয়ে সমস্ত তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। যতদিন না সুষ্ঠু কোন সমাধান হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত সব কিছু বন্ধ থাকবে। যদিও বাংলা ভাষা ছাড়া অন্য ভাষার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হবে না।
এরপরই গতকাল ফেডারেশন একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে প্রযোজক, পরিচালক ও শিল্পী সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে ফেডারেশনকে শেষ করে দিতে, আমাদের সকলের রুজি রুটিকে বিপন্ন করতে এবং গুপী শুটিংকে স্বীকৃতি দিতে তারা গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে ও মিথ্যা বদনামে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং আমাদের অস্তিত্ব ও পেটের অন্ন যোগানোর কর্মস্থলকে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। তবে এই অচলাবস্থা যেতে শুধুমাত্র পরিচালক নয় ক্ষতি হচ্ছে গোটা ইউনিটের। পাশাপাশি দর্শকদের কাছেও আর বিনোদনের বিষয়বস্তুর সরবরাহ হবে না।
আরও পড়ুন: মরণ খেলায় মেতেছে কমলিনী! ঋককে বাঁচাতে কী করবে মধুবনী?
তাই শোনা যাচ্ছিল মধ্যস্ততার জন্য তৈরি হচ্ছে দুই পক্ষ। তবে সমস্যার জোট কাটেনি এখনও। ফলস্বরূপ ব্যাঙ্কিং এপিসোড দিয়েই বর্তমানে চলবে ধারাবাহিকগুলো। কিন্তু তারপর? কতদিনের ব্যাঙ্কিং এপিসোড আছে ধারাবাহিকগুলোর হাতে? টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়া সূত্রে খবর, জি বাংলার মিঠিঝোরা ধারাবাহিকের হাতে রয়েছে ৫ দিনের এপিসোড, বেঙ্গল টপার ধারাবাহিক ফুলকির হাতে রয়েছে ৪দিনের ব্যাঙ্কিং পর্ব, নিম ফুলের মধুর হাতে রয়েছে ৩ দিনের ব্যাঙ্কিং, ডায়মন্ড দিদির হাতে রয়েছে ৬ দিনের ব্যাঙ্কিং পর্ব। অন্যদিকে স্টার জলসার কথা ধারাবাহিকের হাতে রয়েছে ৪ দিনের ব্যাঙ্কিং আর উড়ানের হাতে রয়েছে ৩ দিনের ব্যাঙ্কিং এপিসোড। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে তারপর? তাহলে কি তারপরই দর্শকদের দেখতে হবে রিপিট টেলিকাস্ট? আশঙ্কা প্রশ্ন করেছেন অধিকাংশরা।

