‘গঙ্গা থেকে যখন কাজ করে উঠছি, শ্বশুরবাড়ির একটা লোকও ছিল না,’ ‘সহায় সম্বলহীন নিঃসঙ্গ হয়ে আমি আর আমার মেয়ে দাঁড়িয়ে!’ অতীতের চরম তিক্ততা ভুলে কীভাবে ঘুরে দাঁড়ালেন নবনীতা?

বাংলা টেলিভিশনের (Bengali Television) অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় মুখ নবনীতা দে (Nabonita Dey)। পর্দার সামনে তাঁর অভিনয় দর্শকদের যেমন আনন্দ দেয়, পর্দার পেছনের বাস্তব জীবনে কিন্তু তাঁকে পার করতে হয়েছে এক চরম কঠিন রাস্তা। সম্প্রতি নিজের জীবনের এমনই এক লুকিয়ে থাকা যন্ত্রণার অধ্যায় ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী, যা শুনে চোখের জল ধরে রাখা দায়।

নবনীতার বর্তমান জীবন সুখী হলেও, তাঁর অতীত ছিল ভীষণ তিক্ত। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় বিয়ে। এর আগে তাঁর আরও একবার বিয়ে হয়েছিল। নবনীতা জানিয়েছেন, প্রথম শ্বশুরবাড়িতে পা রাখার পর থেকেই তাঁর ওপর নেমে এসেছিল মানসিক নির্যাতন। তিনি অনেক আগে থেকেই অভিনয় জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও, বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁর অভিনয় করা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বাধ্য করে।

প্রথম বিয়ের সেই দুঃসহ দিনগুলোর কথা বলতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি নবনীতা। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি জানান, প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর গঙ্গার ঘাটে যখন তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়, তখন পাশে এসে দাঁড়ায়নি শ্বশুরবাড়ির একটা মানুষও। অথচ এতদিন যাঁরা সারাক্ষণ নবনীতাকে নানা কথায় দোষারোপ করে এসেছেন, আঙুল তুলেছেন, এই কঠিন সময়ে তাঁরা সবাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।

সেই মহাশ্মশানে দাঁড়িয়ে একা নবনীতা মনে মনে শুধু একটাই কথা বলছিলেন যে, আজ সমস্ত অপবাদ আর অন্যায়ের পর তাঁর পাশে কেবল তাঁর ছোট্ট মেয়েটি ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট নেই। জীবনের এই চরম নিষ্ঠুর ও তিক্ত অভিজ্ঞতা আজও ভুলতে পারেননি অভিনেত্রী। সেই ঝোড়ো দিনগুলোর কথা মনে পড়লে আজও তাঁর মন ভারী হয়ে ওঠে।

আরও পড়ুনঃ ভক্তের ডাকে সাড়া দিলেন ভগবান! জাগ্রত হলেন মহাপ্রভু! কোন অলৌকিক দৃশ্যের সাক্ষী হলো দিদি-গোরা?

তবে সব অন্ধকার পেরিয়ে নবনীতার জীবনে এখন এসেছে নতুন ভোর। দ্বিতীয় স্বামী রাজাকে নিয়ে এখন তাঁর সুখের সংসার। পেশায় অভিনেতা রাজার একটি জিমও রয়েছে। নবনীতা এখন অভিনয়, স্বামীর ব্যবসা এবং মেয়েকে নিয়ে নতুন করে নিজের জীবনটা গুছিয়ে নিয়েছেন। অতীতকে পেছনে ফেলে রাজা আর মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে এখন বেশ ভালো আছেন সবার প্রিয় এই অভিনেত্রী।

Back to top button