“সহজে কাউকে বিশ্বাস করি না” চর্চায় এখন দিতিপ্রিয়ার “রাজনীতি”! বাবার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকেই কি এমন ভাবনা পর্দার রানী মার?

রাজনীতি কি শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাই করতে পারেন? একেবারেই না! রাজনীতির রেশ থাকতে হয় মনে এবং অবশ্যই পরিচালককে বাঁধতে হয় ঠাসা একটা গল্প। রাজনীতির সঙ্গে বাংলা যেমন আপাদমস্তক জড়িয়ে তেমনই এই ছবির সঙ্গেও কিন্তু দিতিপ্রয়া ভয়ঙ্কর ভাবে জড়িয়ে। অর্থাৎ, নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে রাশি বন্দোপাধ্যায় হয়ে ওঠার গল্পটা মোটেই সহজ ছিল না। সম্প্রতি হইচই তে প্রকাশ পেয়েছে দিতিপ্রিয়ার নতুন ওয়েব সিরিজ রাজনীতি। এদিন এক সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথোপকথনে রাজনীতি থেকে ব্যক্তিগত জীবন সব মিলিয়ে অনেক কথাই বললেন দিতিপ্রিয়া।

অভিজ্ঞতা কেমন? উত্তরে অভিনেত্রী বললেন, বলতে পারো, রাসমণির পর এমন একটা চরিত্র করলাম যে দিতিপ্রিয়ার থেকে একদম আলাদা। আমি আর পাঁচটা মেয়ের সঙ্গে ওঁর মিল পাই না। কোনও রেফারেন্স পাইনি। এছাড়া তাবড় তাবড় সব অভিনেতাদের সঙ্গে বলতেই পারো, এটা একটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা। এই ছবিটায় জানো তো, পুরোদস্তুর রাজনীতি দেখানো হয়েছে। রাজনীতিবিদদের পলিটিক্স থেকে শুরু করে, সাধারণ মানুষ, বাড়ির ভিতরে বাইরে সর্বত্র রাজনীতি দেখানো হয়েছে। প্রতিটা ক্লাসের মধ্যে রাজনীতি কী করে হয় সেটা দেখানো হয়েছে। আমার মনে হয়, মানুষের কাছে ধরণ একটু হলেও পরিষ্কার হবে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Ditipriya Roy (@roy_ditipriya)

রানী থেকে রাশি এই যাত্রা পথটা কেমন ছিল? অভিনেত্রী বলেন আগে রাস্তায় বেরোলেই সবাই বলতো রানী যাচ্ছে সেখান থেকে আবার করে নিজেকে দিতিপ্রিয়া রায়-এ ফিরিয়ে আনাটা একটু চাপের ছিল। আমার যদি আর্থিক অবস্থা অনেক বেশি ভালো হতো তাহলে আমি হয়ত বেশ কিছুদিনের ব্রেক নিয়ে নিতাম রানী থেকে বেরিয়ে পুনরায় দিতিপ্রিয়া হওয়ার জন্য। কিন্তু সেটা সম্ভব হয়নি তাই একটু একটু করে বিভিন্ন চরিত্রে কাজ করতে করতে ধীরে ধীরে মানুষের মনে দিতিপ্রিয়া হিসেবে একটা জায়গা তৈরি করার যে জার্নি সেটা খুব শক্ত ছিল। তারপর একদম একটা নতুন চরিত্রতে অভিনয় করে রাশি হয়ে ওঠা সবটাই আমার কাছে ভীষণ চ্যালেঞ্জিং।

রাজনীতি থেকে তো শত যোজন দূরে, রাজনীতিতে সেভাবে বিশ্বাসও করা যায় না, বাস্তবে মানুষকে কতটা বিশ্বাস করতে পারেন তিনি? দিতিপ্রিয়া বললেন, খুব সহজে কাউকেই বিশ্বাস করতে পারি না, আর কাউকে বিশ্বাস করিও না। আমি খুব ছোট্ট একটা ফ্রেন্ড সার্কেলের মধ্যে থাকি। ওই অনেক বছর ধরে তারাই আমার সাথে রয়েছে। যেহেতু আমি খুব চুপচাপ আর নিজের কথাগুলো মানুষকে বোঝাতে পারিনা তাই সেভাবে কারো সঙ্গে মিশতে বা কাউকে বিশ্বাস করতে পারো না।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by Hoichoi (@hoichoi.tv)

জীবনে অনুপ্রেরণা কে? মা কতটা পাশে আছে? অভিনেত্রী জানান- বাবাকে চোখের সামনে অনেক কষ্ট পেতে দেখেছি, একটু একটু করে শেষ হয়ে যেতে দেখেছি, সেখান থেকে যে লড়াই করে বাবা ফিরে এসেছে আর অন্যদিকে একা হাতে মা সব কিছু যেভাবে সামলে এসেছে তাতে এরা দুজনই আমার কাছে অনেক বড় অনুপ্রেরণা। কখনো আমি ভেঙ্গে পড়েছি, কখনো বাবা ভেঙে পড়েছে। তখন মা খুব সামলেছে আমাদের, তারপর ক্যান্সার জয় করে বাবাও ফিরেছে। সেই সময় মা ভীষণ ছিলো পাশে। যখন নিজেকে খুব দুর্বল লাগে তখন এই দুই যোদ্ধাকে দেখি।

Back to top button