রূপা গাঙ্গুলীর মেয়েবেলা ছাড়া নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই, এরই মধ্যে এবার অভিনেত্রীর দিকেই আঙুল তুললেন ধারাবাহিকের চিত্রনাট্যকার!

‘মেয়েরাই মেয়েদের শত্রু’, খুব পরিচিত একটি মিথ সমাজে। ঠিক সেই মিথকেই ভাঙতে স্টার জলসার পর্দায় শুরু হয়েছিল ‘মেয়েবেলা’। তবে সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়েছিল এর চরিত্রায়নে। রাজনীতির আঙিনা থেকে বহু বছর পর ধারাবাহিকে ফিরেছিলেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে ধারাবাহিকের গল্প নিয়ে। বীথিকা মিত্রের চরিত্র থেকে অব্যহতি নিয়েছেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তারপরেই সংবাদ মাধ্যমের কাছে তাঁর অভিযোগ যে প্রথমে যেমন বর্ণনা করা হয়েছিল পরে আমূল বদলে যায় চিত্রনাট্য। এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদও জানিয়েছেন দর্শক মহলের অনেকেই। তবে এবার অভিযোগের তির সরাসরি রূপার দিকেই। মুখ খুললেন চিত্রনাট্যকার শুভময় বিশ্বাস।

এই বিতর্কের উপর ভিত্তি করে শুভময় জানান, দ্রৌপদী যদি নিজেই অনেক মানুষের বস্ত্র, মানসম্মান, ডিগনিটি নিয়ে টানাটানি করেন তবে কী তা ভাল দেখায়? প্রসঙ্গত, বি আর চোপড়ার ‘মহাভারত’এ দ্রৌপদীর ভূমিকায় সাড়া ফেলেছিলেন রূপা। চিত্রনাট্যকারের দাবি, শুরু থেকে চরিত্র সম্পর্কে জানতেন রূপা গাঙ্গুলী। যেখানে অন্য অভিনেতাদের শুধুমাত্র চরিত্রের বিষয়ে মুখে জানানো হয় সেখানে রূপাকে লিখিত দেওয়া হয়েছিল। ফলে, আচমকা চিত্রনাট্য বদলের কোনও প্রশ্নই নেই।

অন্যদিকে রূপা গাঙ্গুলী দাবি করেছেন, ‘বীথি চরিত্রটা আমায় যা বলা হয়েছিল, দিনের পর দিন দেখছিলাম চরিত্র বিকৃত হয়ে যাচ্ছে। এক বলে শুরু করেছিল কিন্তু পুরোটাই পাল্টে গেল চরিত্রটা। কেন এত নোংরামো দেখানো হবে আমার চরিত্রটাকে নিয়ে? আমি আমার ৩৭ বছরের কেরিয়ারে কোন ডিরেক্টর বা প্রযোজকের কাজ করতে করতে মাঝপথে ছেড়ে দিইনি। সেটা আমার ধাতে নেই। কিন্তু আর কত সহ্য করব?’ এখানেই শেষ নয় তিনি আরও বলেছেন, ‘আমি দিনের পর দিন আপত্তি জানিয়েছি। এসব নিকৃষ্ট চিত্রনাট্যের কাজ আমি করতে পারব না। আমার কথা শোনা হয়নি। আমার মেরুদণ্ড চিরকাল সোজা। আমায় যদি শুরুতে বলা হত চরিত্রটা ভ্যাম্প হয়ে যাবে সেটা একরকম ছিল। তা তো বলা হয়নি। ভাল গল্প দেখেই কাজ করতে রাজি হয়েছিলাম।’

এত বড় একটা অভিযোগ মানতে নারাজ চিত্রনাট্যকার শুভময়। অভিনেত্রী রূপা গাঙ্গুলীর দিকে দিকে সরাসরি অভিযোগের আঙ্গুল তুলে শুভময় বলেন, আচমকাই এক মঙ্গলবার শ্যুটিং ছেড়ে চলে যান তিনি। একবারও ভাবেননি যে তাঁর ওপর নির্ভর করে আছে ইউনিটের অনেক সদস্যের সংসার। পাশাপাশি, ধারাবাহিক ছেড়ে দিয়ে তিনি কলঙ্কিত করছেন পরিচালক বা চিত্রনাট্যকারকেও, এমনই অভিযোগ শুভময়ের। তাঁর প্রশ্ন, সেক্ষেত্রে তিনি কেন নির্দেশককে বলেছিলেন যে ফের এই নির্দেশকের সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি?

শুভময়ের কথায়, দস্যু রত্নাকর যদি দস্যু না হতেন তবে কি তাঁর বাল্মিকীতে পরিবর্তন এতটা গুরুত্ব পেত? তেমনই বীথিকা মিত্র চরিত্রটিও নিজের খারাপ গুণগুলি প্রথমে প্রকট করলে তবেই পরে হয়ে উঠতেন একজন ভাল শাশুড়ি। এই পরিবর্তনে কিছুটা তো সময় লাগবেই সেই সময়টাই দিলেন না অভিনেত্রী রূপা। তাঁর বক্তব্য যে বাথরুমে চেন ফেলে রাখার দৃশ্য নিয়ে এত আপত্তি রূপার তার আইডিয়া তিনিই দিয়েছিলেন পরিচালককে। প্রথম থেকেই রূপার তুঘলকি আচরণ মাথাব্যথার কারণ হয়েছিল ইউনিটের সকলের। সব মিলিয়ে মেয়েবেলা বনাম রূপা বিতর্ক নয়া মোড় নিল চিত্রনাট্যকারের বক্তব্যে।

Back to top button